১০০ গ্রাম প্লাস্টিক দিলেই মিলবে চিড়িয়াখানা দেখার সুযোগ

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম নগরের প্লাস্টিক দূষণ কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এখন থেকে ১০০ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিলেই বিনামূল্যে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা। সংগৃহীত এসব প্লাস্টিক বর্জ্য পাঠানো হবে পুনর্ব্যবহারের জন্য। শিশু-কিশোরদের পরিবেশ সচেতন করে তুলতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেয়া এ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।

শনিবার ফয়’স লেকসংলগ্ন চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালিও বের করা হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজ। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সচেতন করে তুলতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে পুনর্ব্যবহারের জন্য ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সমঝোতা স্মারক হয়েছে। সাধারণত চিড়িয়াখানায় প্রবেশের টিকিটের মূল্য ৭০ টাকা। তবে নির্ধারিত পরিমাণ প্লাস্টিক জমা দিলে শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবে।

চিড়িয়াখানার আকর্ষণ বাড়াতে নতুন প্রাণী আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তার ভাষ্য, চিড়িয়াখানায় জেব্রা ও কুমির আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিশুরা যেন মুঠোফোনের পর্দায় আটকে না থেকে প্রকৃতি ও প্রাণিজগতের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ড. শাহাদাত হোসেন বলেন, শুধু সরকারি সংস'ার উদ্যোগে নগর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি ফয়’স লেকসংলগ্ন চিড়িয়াখানা, পাহাড়ি ছড়া ও প্রাকৃতিক জলাধার দূষণমুক্ত রাখার আহ্বান জানান। ফুটপাথ ও সড়ক দখলমুক্ত এবং চলাচলের উপযোগী রাখতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের যৌথ অভিযান পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়ে শাহাদাত হোসেন বলেন, প্লাস্টিকের পাত্র, বোতল ও ডাবের খোসায় পানি জমে মশার প্রজনন হতে পারে। তাই এসব বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলা যাবে না। বাড়ির ছাদ, বারান্দা ও আঙিনায়ও পানি জমতে দেয়া যাবে না। বর্জ্য ব্যবস'াপনা উন্নত করতে জাপান থেকে ২০টি কমপ্যাক্টর ডাম্প ট্রাক সিটি করপোরেশনের বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত ২৫শে জুলাইয়ের অভিযানে তিন হাজারের বেশি সরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক কোটি বর্গফুট এলাকা পরিষ্কার করে ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। এতে ছয় হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দুই হাজার ২৯৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
এ ছাড়া কাজীবাড়ি পুকুর, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ও জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং প্রায় ১০০টি হোটেল-রেস্তরাঁর রান্নাঘর ও আশপাশ পরিষ্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধেও অভিযান চলছে।
অনুষ্ঠানে উপসি'ত ছিলেন- চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান (সি), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত প্রমুখ।