পাবনার পুষ্পপাড়া হাটে চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ঘটনায় এজাহারনামীয় সন্দেহভাজন এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আতাইকুলা থানার পুষ্পপাড়া পূর্ব বনগ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. মুসা (২৬) কে গ্রেপ্তার করা হয়। সে আতাইকুলা থানার ধর্মগ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। এসআরবি’র দাবি, মুসা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর সন্দেহভাজন আসামি। রোববার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান এসআরবি-১২ পাবনার ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার ডলি রানী সরকার। গ্রেপ্তার মুসাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আতাইকুলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তার কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কিনা, তা তদন্তের স্বার্থে জানাতে রাজি হয়নি এসআরবি। এর আগে ঘটনার প্রায় ৪৫ ঘণ্টা পর শনিবার নিহত রিপন হোসেনের ভাই রুবেল হোসেন বাদী হয়ে আতাইকুলা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি ২৩ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে সন্দেহভাজন আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জনকেও আসামি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গত ২৯শে অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুষ্পপাড়া হাটের পাশে ইজারাদারের কার্যালয়ে এ জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন, হাটের ইজারাদার আব্দুস সালাম হাজী (৫৫) এবং তার ভাগ্নে রিপন হোসেন (৫০)। আব্দুস সালাম পাবনা সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক ছিলেন। রিপন আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুষ্পপাড়া হাটের ইজারা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন আব্দুস সালাম ও রিপন হাটের পাশের কার্যালয়ে বসে নাস্তা করছিলেন। এ সময় মুখোশ পরা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত সেখানে ঢুকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ দু’জন মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। হামলার পর দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজে ছয়জন মুখোশধারীর উপস্থিতি দেখা গেছে বলে পুলিশ জানায়। ফুটেজে হামলাকারীদের দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগের দৃশ্য ধরা পড়েছে বলেও জানা গেছে। তবে ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে কিনা, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি পূর্বশত্রুতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে ঠিক কী কারণে এবং কারা পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনো তদন্তাধীন। পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশরাফ এর আগে জানিয়েছিলেন, হাটের ইজারা নিয়ে দু’পক্ষের বিরোধকে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।
