জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ফুলকোচা ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসক ও জেলা সার বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন এসএম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. সিরাজুল ইসলাম। অভিযোগের তদন্ত চলাকালে তাকে মারধর, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর পৃথক অভিযোগও দায়ের করেছেন তিনি। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফুলকোচা ইউনিয়নে সার ডিলার হিসেবে ‘মেসার্স নূর এন্টারপ্রাইজ’কে মনোনীত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী নূর মোহাম্মদ রতন শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত তিনজনের তালিকায় থাকা অন্য দুই প্রার্থী মো. হাবিবুল্লাহ ও তৌহিদুর রহমান মোল্লার আবেদনেও অসঙ্গতি রয়েছে।
মো. হাবিবুল্লাহর বিরুদ্ধে দোকান ও গুদাম দেখাতে না পারার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, তৌহিদুর রহমান মোল্লার দেখানো দোকান ও গুদাম একাধিক আবেদনকারীও দেখিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আত্মীয়তার বিষয়টিও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন সিরাজুল ইসলাম। অভিযোগের পর ২৯শে অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাতুল আরার নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় অভিযোগকারীসহ স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তবে তদন্ত দল ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর নূর মোহাম্মদ রতনের স্ত্রী মোছা. সুরাইয়া বেগম, ছোট ভাই নুর আমিন পবন, মেয়ের জামাই সাদা মিয়াসহ পরিবারের কয়েকজন ফুলকোচা বাজারের প্রধান সড়কে জনসমক্ষে সিরাজুল ইসলামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় সুরাইয়া বেগম তাকে একাধিক চড়-থাপ্পড় মারেন এক পর্যায়ে স্যান্ডেল খুলে মারতে উদ্যত হন। এ সময় প্রাণনাশের হুমকি দেন। নূর আমিন পবনও তাকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন সিরাজুল ইসলাম। এ ঘটনায় ২৯শে অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, তিনি, তার বাবা ও পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তার দাবি, সার ডিলার নিয়োগে সংসদ সদস্যের ন্যূনতম হস্তক্ষেপ থাকলে তিনি নিজেই ডিলার হিসেবে মনোনীত হতেন বলে বিশ্বাস করেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাতুল আরা জানান, সর্বশেষ ডাক ফাইলে এ ধরনের কোনো অভিযোগ তিনি পাননি।
