রামগতি-কমলনগর অঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ যুবলীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আবদুল হাইয়ের প্রতিষ্ঠানকে অনৈতিকভাবে পাইয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। যুবলীগ নেতা আবদুল হাই হাসিনা সরকারের আমলে বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জুলাই হত্যাকাণ্ডসহ তার বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলাও হয়েছে। ওইসব মামলায় বিভিন্ন সময়ে জেলও খেটেছেন তিনি।
হ্নজানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে লক্ষ্মীপুর-চরআলেকজান্ডার-সোনাপুর সড়কের কমলনগরের হাজিরহাট থেকে শুরু করে আলেকজান্ডারের আজাদনগর পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে আড়াই ফুট করে রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজের টেন্ডার আহ্বান করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ওই কাজটি (জয়েন্ট ভেঞ্চার) যৌথ উদ্যোগে আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও রিমি নির্মাণ লিমিটেডসহ অনেকেই টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে। পরে ওই কাজ সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে একশ’ ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ১১ হাজার টাকায় (জয়েন্ট ভেঞ্চার) যৌথ উদ্যোগে আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও রিমি নির্মাণ লিমিটেড পায়। এখানে লিড পার্টনার হিসেবে কাজের সকল কার্যক্রম রিমি নির্মাণ লিমিটেডকে বুঝিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও লক্ষ্মীপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে কেন্দ্রীয় যুবলীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আবদুল হাইয়ের প্রতিষ্ঠান আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডকে বুঝিয়ে দেন এবং গত ১২ই আগস্ট তাদের কার্যাদেশ দেন। বিষয়টি রিমি নির্মাণ লিমিটেড-এর স্বত্ব্বাধিকারী ওবায়দুল হকের নজরে আসলে তিনি যৌথ উদ্যোগের কাজের সকল চুক্তি বাতিলের আবেদন করেন। এ সকল বাতিলের কাগজপত্র ও এককভাবে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ না দিতে লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে আবেদন করেন। কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এসব কিছুর তোয়াক্কা না করে আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী যুবলীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল হাইকে কাজের অনুমতি দেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
হ্নএ বিষয়ে রিমি নির্মাণ লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ওবায়দুল হক বলেন, ৫ই আগস্টের পর আমার এক বন্ধু এ আবদুল হাইকে আমার কাছে নিয়ে এসেছে জয়েন্ট ভেঞ্চারে তার সঙ্গে কাজ করার জন্য। এ আবদুল হাই যে ফ্যাসিস্টের লোক আমি আগে জানতাম না। পরে তার সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চারে আমরা সড়ক ও জনপথের টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে লক্ষ্মীপুর-আলেকজান্ডার- সোনাপুর সড়কের ২৭ কিলোমিটার দুইপাশে রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ পাই। কাজ পাওয়ার পর তিনি আর আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে না। এরপর তার সঙ্গে কথা হলে সে কাজ করবে না বলে জানিয়ে দেয়। আমি লিড পার্টনার হিসেবে সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখন শুনছি, আবদুল হাইয়ের প্রতিষ্ঠান আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের নামে ওয়ার্ক ইস্যু করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ অনৈতিক। তাছাড়া সড়কের এককোটি টাকার কাজের ডিল করতে হলেও স্ব স্ব ডিপার্টমেন্টে করতে হয়। অথচ আমার সঙ্গে যোগাযোগ না করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম সড়ক ভবনে বসে এ কাজের ডিল করেছেন। এ ছাড়াও এই আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে জুলাই হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন জেলহাজতেও ছিলেন। হ্নএ দিকে আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আবদুল হাইয়ের সঙ্গে কথা বলার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, তারা জয়েন্ট ভেঞ্চারে কাজ পাওয়ার পর ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে দুই পার্টি এগ্রিমেন্ট দিয়েছে। ওখানে উল্লেখ করা হয়েছে অফিসের সকল বিষয়ে আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ডিল করবে। এখন এসব কথা বললে তো আর লাভ হবে না। আমরা সঠিক নিয়মে ওয়ার্ক অর্ডার দিয়েছি।
