কুয়েতে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগ। তার বিরুদ্ধে এক নিরাপত্তাকর্মীকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিস্তারিত জানতে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস। মিশন জানিয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে তারা ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছে। এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
কুয়েতের ইংরেজি দৈনিক কুয়েত টাইমস এবং আরবি দৈনিক আল জারিদা, আল রাইসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে শনিবার এ খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে তার নাম-পরিচয় জানানো হয়নি। এ বিষয়ে মিশন জানায়, কুয়েতের আইন অনুযায়ী দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে তাদের বিস্তারিত জানানো হয়। তবে এর আগে কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে।
কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, শুক্রবার সকালে আল মুতলা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদ থেকে একজন নিরাপত্তাকর্মীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু করেন। এর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তি ভবনটির সাবেক নিরাপত্তাকর্মী। ঘটনার একদিন আগে তার চাকরির মেয়াদ শেষ হয়। পরে তার স্থলাভিষিক্ত হন নিহত নিরাপত্তাকর্মী। তদন্তে বেরিয়ে আসে, অভিযুক্ত বাংলাদেশি আবাসিক ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়াসংক্রান্ত একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে শার্ক থানায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন। হত্যাকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতা প্রকাশের আগেই দেশ থেকে বের হওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি এমনটি করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে চাকরিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত। নিহত ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধের একপর্যায়ে কাঠের একটি বস্তু ও ছুরি দিয়ে তাকে আঘাত করার কথা জানান তিনি। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কথা জানিয়েছে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে কুয়েতে বাংলাদেশ মিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ছাড়া এখন পর্যন্ত এ ঘটনা সম্পর্কে তাদের কাছে বিস্তারিত কোনো তথ্য নেই। শুক্র ও শনিবার কুয়েতে সরকারি দপ্তর বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আগামী এক-দুইদিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করবে মিশন। সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার বাংলাদেশির বিচার কুয়েতের প্রচলিত আইন অনুযায়ী হবে। দেশটির আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
