শীতের সবজিতেও বাজারে স্বস্তি নেই

শীতের সবজিতেও বাজারে স্বস্তি নেই

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর বাজারে উঠতে শুরু করেছে শীতের সবজি। কিন্তু দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। কিছু সবজির দাম তুলনামূলক কম থাকলেও অধিকাংশ পণ্যের দাম বেশ চড়া। ঝিঙা, বেগুন, কাঁকরোল, শিম ও টমেটোর মতো কয়েকটি সবজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার বেশি দামে। অন্যদিকে মাছ ও মুরগির বাজারেও চড়া দামের কারণে বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বিশেষ করে বড় আকারের মাছ, ইলিশ ও কিছু সবজি কিনতে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, কিছু সবজির দাম তুলনামূলক কম থাকলেও অধিকাংশ পণ্যের দাম বেশ চড়া। পেঁপে, মিষ্টিকুমড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও পটোল ক্রেতারা কিনতে পারছেন ৩০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে।
বর্তমানে প্রতি কেজি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৬০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পটোল ৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা এবং গোল বেগুন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কাঁকরোল ১০০ টাকা, কচুমুখী ৮০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, শিম ১০০ টাকা। টমেটোর দামও বেশ চড়া। সাধারণ টমেটো প্রতি কেজি ১২০ টাকা এবং দেশি টমেটো ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের কেজি ১৪০ টাকা, জলপাই ৮০ টাকা। বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন আলু, যার দাম প্রতি কেজি ১৬০ টাকা। তবে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়ার দামে। প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে মুরগির বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় তেমন পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ডজন ব্রয়লার ডিম (ব্রাউন) ১৪০ ও সাদা ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা সাইফুল আলম বলেন, বাজারে যে অবস্থা সাধারণ আয়ের মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। আলুর দাম কিছুটা কমলেও বেগুন, করলা ও সিমের দাম অনেক বেশি। একই সঙ্গে ব্রয়লার মুরগির দামও ১৯০ টাকা। এভাবে সংসার চালাতে খুব হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা রাকিবুল ইসলাম বলেন, শীতে নতুন সবজি উঠতে শুরু করলে প্রথমে দাম বাড়তি থাকে পরে ধীরে ধীরে কমে যায়। পাইকারি বাজার থেকে আমাদের বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। আবার পরিবহনের সময় কিছু সবজি নষ্ট হয়; তাই কিছুটা বাড়তি হিসাব করে বিক্রি করতে হয়।
এদিকে, মাছের বাজারেও দামের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। তুলনামূলক কম দামে প্রতি কেজি পাঙাশ ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া রুই মাছ ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, চাষের শিং ৪৫০ টাকা, বায়লা ৫৫০ টাকা। অন্যদিকে, বড় আকারের কাতল মাছের দাম কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, আইড় ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা এবং বাইন মাছ ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। দেশি শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকা কেজি দরে। বড় আকারের চিংড়ির দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার ৪০০ টাকা। নদীর পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকায়। ইলিশের দামও বেশ চড়া। ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজির হিসাবে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ২ হাজার ৬০০ টাকা।

মাছ বিক্রেতা আজগর আলী জানান, সাগরের মাছের দাম সব সময় বেশি থাকে। হাজারের নিচে বিক্রি হয় না। আবার দেশি মাছের দামও বেশি। চাষের মাছের দামও ২০০ টাকার উপরে বিক্রি করছি। দাম একটু বাড়তি বর্তমানে।