বাংলাদেশে গাধার সংখ্যা কতো?

বাংলাদেশে গাধার সংখ্যা কতো?

ফন্ট সাইজ:

বিশ্ব জুড়ে পণ্য পরিবহন ও কৃষিকাজে গাধার ঐতিহাসিক অবদান থাকলেও, নদীমাতৃক বাংলাদেশে প্রাণীটির দেখা মেলা ভার। দেশে ঠিক কতোগুলো গাধা আছে, তার কোনো সরকারি পরিসংখ্যান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (ইইঝ) বা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (DLS) ওয়েবসাইট বা কোনো তথ্যে খুঁজে পেলাম না। একটি পত্রিকায় দেখলাম বনবিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশের বন্য পরিবেশেও গাধার কোনো অস্তিত্ব নেই।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে বাণিজ্যিকভাবে, গ্রামীণ পরিবহনে বা কৃষিকাজে গাধা পালন করা হয় না; এদের যা কিছু অস্তিত্ব তা কেবল চিড়িয়াখানা ও সাফারি পার্কেই সীমাবদ্ধ। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, দেশে সামগ্রিকভাবে গাধার সংখ্যা শূন্যের কোঠায় হলেও রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় প্রাণীটি নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র স্থান সংকট।

চিড়িয়াখানার নির্ধারিত শেডে গাধা রাখার ধারণক্ষমতা মাত্র ৬টি হলেও, বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে গত কয়েক বছরে সেখানে গাধার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ থেকে ১৪টিতে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত গাধাগুলোকে ওয়াটার বাক বা ঘোড়ার খাঁচায় আলাদা করে রাখতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘চিড়িয়াখানা আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে অতিরিক্ত গাধাগুলো বিক্রির বা হস্তান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশে গাধা নেই কেন? বাংলাদেশে গাধা প্রাকৃতিকভাবে টিকে না থাকার পেছনে মূল কারণ এখানকার আবহাওয়া ও কৃষিব্যবস্থা। গাধা মূলত শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়ার প্রাণী, যা মরু বা আধা-মরু অঞ্চলের জন্য বেশি উপযোগী। কিন্তু বাংলাদেশের আর্দ্র, স্যাঁতসেঁতে ও বৃষ্টিবহুল আবহাওয়া গাধার জন্য চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। ভেজা পরিবেশে এদের খুরে দ্রুত পচন (White line disease) ধরে এবং স্যাঁতসেঁতে চারণভূমির কারণে পরিপাকতন্ত্রে পরজীবীর (যেমন- স্ট্রংগাইল) আক্রমণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

এ ছাড়া, কৃষিতাত্ত্বিক দিক থেকেও গাধা এই অঞ্চলে তেমন সুবিধাজনক নয়। বাংলাদেশের কর্দমাক্ত ধানের জমিতে দীর্ঘসময় হাল চাষের জন্য গরুর খুর ও শারীরিক গঠন সবচেয়ে বেশি কার্যকর। গাধার ছোট খুর কাদায় দেবে যায় এবং গরুর মতো বহুমুখী অর্থনৈতিক উপযোগিতা গাধার ক্ষেত্রে এই অঞ্চলে ঐতিহাসিকভাবে নেই।
বাংলাদেশে গাধা শুধুই চিড়িয়াখানার প্রাণী হলেও, বিশ্ব জুড়ে এরা এক ভয়াবহ মানবসৃষ্ট সংকটের মুখোমুখি।

ঐতিহ্যবাহী চীনা ওষুধ ‘ইজিয়াও’ (Ejiao) তৈরিতে গাধার চামড়া থেকে উৎপন্ন জেলটিন ব্যবহৃত হওয়ায় আফ্রিকা ও এশিয়া জুড়ে গাধা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। চীনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর প্রায় ৫৯ লাখ গাধার চামড়া প্রয়োজন হচ্ছে। এই প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারতেও; ২০১৯ সালের ২০তম গবাদিপশু শুমারির তথ্য অনুযায়ী সেখানে এক দশকেই গাধার সংখ্যা ৬১.২৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে মাত্র ১ লাখ ২০ হাজারে নেমে এসেছে। বিশ্ব জুড়ে গাধার এই অবলুপ্তির কালে বাংলাদেশের চিড়িয়াখানায় গাধার এই সীমিত সংখ্যা বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে আশা জাগানিয়া সংবাদ।