বোলারদের দোষ দিলেন শান্ত

বোলারদের দোষ দিলেন শান্ত

ফন্ট সাইজ:

পরাজয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে চার নম্বর থেকে পাঁচে নেমেছে বাংলাদেশ। চার সিরিজের সাত ম্যাচ খেলে তিনটি জিতেছে টাইগাররা। একটি ড্র নিয়ে পয়েন্ট ৪০ আর শতাংশের হিসাবে ৪৭.৬২। ম্যাচ শুরুর আগে পয়েন্ট ছিল ৫৫ দশমিক ৫৬। হেরে যাওয়ায় ভারতের নিচে নেমেছে দল। ভারতের পয়েন্ট ৫১ দশমিক ৫২। অন্যদিকে চতুর্থ ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য ছিল ১৭০ রান। যা তাড়া করে তারা জয় তুলে নেয় ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে। এই ম্যাচ হারের অন্যতম কারণ বাজে ব্যাটিং হলেও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বোলারদের ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘১৭০ লিড হওয়ার পরে আমাদের বিশ্বাস ছিল, এই রান ডিফেন্ড করা সম্ভব। উইকেটের যে অবস্থা ছিল, তাতে আমরা আশাবাদী ছিলাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা হয়নি। অবশ্যই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কৃতিত্ব দিতে হবে। তবে আমি বলবো, এই উইকেটে আমরা আরেকটু ভালো বোলিং করতে পারতাম।

আমরা খুব বেশি ভালো বল করিনি।’
তবে হারের কারণ হিসেবে ব্যাটিংয়েরও দায় দিয়েছেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, এই ম্যাচে আমরা প্রথম ইনিংসেই ব্যাকফুটে পড়ে গেছি। ২১৩ রানে দিন শেষ করার পর ২৭৩ রান করেছি। ওই জায়গায় আমরা অনেকটা পিছিয়ে গেছি। আমরা জানতাম, পরের দিকে ব্যাটিং করা কঠিন হবে।’ অন্যদিকে ম্যাচে আম্পায়ারদের কয়েকটি সিদ্ধান্ত দলের বিপক্ষে যায়। খেলোয়াড়রা হতাশা প্রকাশ করেন। শান্ত আম্পায়ারিং নিয়ে বলেন, ‘আপনি যখন ১৭০ রানের লক্ষ্য দেবেন, তখন পাঁচটি আম্পায়ার্স কলের মধ্যে তিনটি আপনার পক্ষে দরকার হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজ সেটা হয়নি। এটা ক্রিকেটের অংশ। আম্পায়ারকে দোষ দেয়ারও সুযোগ নেই। ধরে নিতে হবে, আমাদের ভাগ্যে ছিল না। তবে শুরুতে যে আউটটি আমরা পাইনি, সেটি পেলে হয়তো মোমেন্টাম অন্য রকম হতো। কিন্তু এগুলোকে আমি অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চাই না।’ স্পিনারদের লেংথ নিয়ে শান্ত বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, লেংথটা আমরা খুব ভালোভাবে পিক করতে পারিনি। লেংথ কিছুটা এলোমেলো ছিল।

বিশেষ করে চতুর্থ ইনিংসে ওদের ব্যাটিং দেখলে বোঝা যায়, আমরা মাত্র দুটি উইকেট নিয়েছি। এই জায়গায় ম্যাচ হারলেও অন্তত সাত-আটটি উইকেট নিতে পারলে হয়তো বুঝতাম, আমরা রানটা অনেক কম করেছি। কিন্তু বোলিংয়ের জায়গায় কিছুটা এলোমেলো ছিলাম।’ দলে মুশফিকুর রহীম ও মুমিনুল হকের অভাব অনুভব করে বাংলাদেশ। টাইগার অধিনায়ক বলেন, ‘মুশফিক ভাই না থাকা অবশ্যই আমাদের জন্য অনেক বড় ক্ষতি। এমন একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, বিশেষ করে এই কন্ডিশনে, তাকে পেলে ভালো হতো। তার জায়গায় হৃদয় খেলেছে। প্রথম ইনিংসের প্রথম দিন ইনজুরিতে পড়ার আগ পর্যন্ত ও খুব ভালো ব্যাটিং করছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইনিংসটা বড় করতে পারেনি। আবার দ্বিতীয় ইনিংসে মুমিনুল ভাইকেও আমরা মিস করেছি। সব মিলিয়ে বলব, এই ম্যাচে আমরা খারাপ খেলেছি। পাশাপাশি কিছু কিছু জায়গায় আনলাকিও ছিলাম।’

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলা নিয়ে শান্ত বলেন, ‘সত্যি বলতে এটি (ফাইনাল খেলা) এখন খুব কঠিন। তবে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আমি যা বলেছিলাম, আমরা একটি করে ম্যাচ নিয়ে ভাবছি। এই ম্যাচে আমরা নিজেদের সেরাটা খেলতে পারিনি। এখন দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় আমরা।’ দ্বিতীয় ইনিংসে দলের ব্যাটারদের শট নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা ওঠে। উইকেটে সুইপ শট না খেলা নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘স্পিন উইকেটে সুইপ বা রিভার্স সুইপ অবশ্যই ভালো অপশন। আমার মনে হয়, আমাদের এই শটগুলো খেলা উচিত ছিল। তবে প্রত্যেক ব্যাটারের পরিকল্পনা আলাদা থাকে। কেউ সেভাবে সেট হতে পারেনি, ফলে ওই শট খেলার সুযোগও তৈরি হয়নি। স্পিন উইকেটে এই শটগুলো অবশ্যই বেশি কাজে দেয়।’