আট বছর পর ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করছে বাংলাদেশ। অথচ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দর্শকদের মধ্যে সেই প্রত্যাশিত উন্মাদনার দেখা নেই। মাঠে দর্শক টানতে টিকিটের দামও যেন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিক্রি শুরুর দুই দিন পেরিয়ে গেলেও বিক্রি হয়নি দুই-তৃতীয়াংশ টিকিট । গতকাল রাত পর্যন্ত অবিক্রীত ছিল ১৪ হাজারের বেশি টিকিট। এক টিকিটে দুটি ম্যাচ দেখার সুযোগ থাকলেও দর্শকদের আগ্রহে তেমন সাড়া নেই। প্রশ্ন উঠছে, দর্শক চাহিদার কথা বিবেচনায় না নিয়ে টিকিটের দাম নির্ধারণ করায় কি
গ্যালারি ফাঁকা থাকার শঙ্কা তৈরি হয়েছে? পাশাপাশি টুর্নামেন্ট শুরুর তিন চারেক বাকি থাকলো প্রচার প্রচারণা নেই কোথাও।
অথচ সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ফুটবলে দর্শকদের আগ্রহের প্রমাণ মিলেছে একাধিকবার। এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ম্যাচগুলোতে টিকিট বিক্রি ছিল চোখে পড়ার মতো। গত বছর বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছিল মাত্র ছয় মিনিটে। সেই একই দর্শকদের এবার মাঠে টানতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আয়োজকদের। এর অন্যতম কারণ টিকিটের চড়া দাম। গত বছর ভারত ম্যাচে সাধারণ গ্যালারির টিকিটের দাম ছিল ৪০০ টাকা। এবার সাফে বাংলাদেশ-ভুটান ম্যাচের সাধারণ গ্যালারির টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৯৯ টাকা। অনলাইনে টিকিট কিনতে গেলে এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে আরও ৬৩ টাকা সার্ভিস চার্জ। অর্থাৎ সাধারণ
গ্যালারিতে বসে একটি ম্যাচ দেখতে দর্শককে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৬২ টাকা। এক টিকিটে দুটি ম্যাচ দেখার সুযোগ থাকলেও সাধারণ দর্শকের জন্য এই মূল্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খেলা দেখতে গেলে খরচ দাঁড়াচ্ছে কয়েক হাজার টাকা।
টিকিটের দাম নিয়ে অসন্তোষের পাশাপাশি অনলাইনে কেনাকাটার অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফুটবলে দর্শক ফেরানোর কথা যখন বারবার বলা হচ্ছে, তখন টিকিটের দাম
সাধারণ সমর্থকদের নাগালের বাইরে চলে গেলে সেই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। বিশেষ করে দেশের ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়াতে যেখানে গ্যালারি পূর্ণ রাখা জরুরি, সেখানে শুরুতেই টিকিটের মূল্য নিয়ে এমন অসন্তোষ আয়োজকদের জন্য অস্বস্তিকর বার্তা। টিকিট বিক্রির বর্তমান হিসাব অবশ্য পুরো স্টেডিয়ামের আসনসংখ্যাকে অন্তর্ভুক্ত করছে না। জাতীয় স্টেডিয়ামের ভিআইপি বক্সের বেশ কিছু আসন করপোরেট প্রতিষ্ঠান, রেডবক্স, বাফুফে ও সাফের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।
আপাতত বাংলাদেশ-ভুটান ও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের টিকিট বিক্রি করছে টিকিফাই। তবে সংরক্ষিত আসন বাদ দিয়েও যখন দুই দিন পর ১৪ হাজারের বেশি টিকিট অবিক্রীত, তখন দর্শক আগ্রহের এই ঘাটতি আয়োজকদের নতুন করে ভাবার দাবি রাখে। ঘরের মাঠে সাফ আয়োজনের সাফল্য শুধু মাঠের খেলায় নয়, গ্যালারিতে দর্শক উপস্থিতির ওপরও নির্ভর করছে।
