বোলারদের দাপটের দিনে মিঠুন-সোহানের সেঞ্চুরি

বোলারদের দাপটের দিনে মিঠুন-সোহানের সেঞ্চুরি

ফন্ট সাইজ:

জাতীয় ক্রিকেট লীগে (এনসিএল) পঞ্চম রাউন্ডের প্রথম দিনে দাপট দেখালেন বোলাররা। তিন ম্যাচ মিলে উইকেট পড়েছে ২৫টি। আবহাওয়ার কারণে রাজশাহীতে ঢাকা-বরিশাল ম্যাচের প্রথম দিন মাঠে গড়ায়নি। গতকাল বোলারদের দাপুটে দিনে সেঞ্চুরি তুলে নেন খুলনার অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ও উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান। চতুর্থ রাউন্ডে ব্যাটারদের দাপটে অস্বস্তিতে ছিলেন বোলাররা। ওই রাউন্ডে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরিসহ মোট ছয় ব্যাটার সেঞ্চুরি করেন।

খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নেয় ময়মনসিংহ। আগে ব্যাট করতে নেমে ২৯ রানে টপঅর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারায় খুলনা। ওপেনার এনামুল হক ৩, আরেক ওপেনার আজিজুল হাকিম ১ ও তিনে নামা সৌম্য সরকার ১৭ রানে সাজঘরে ফেরেন। পাঁচে নামা বাঁহাতি ব্যাটার আফিফ হোসেনকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। ৪৩ বলে ১৭ রান করে রাকিবুল হাসানের বলে আউট হন আফিফ। ভাঙ্গে ৪৪ রানের জুটি। এরপর নুরুল হাসান সোহানের সঙ্গে ১৬৭ রানের জুটি গড়েন মিঠুন। রাকিুবলের বলে আউট হওয়ার আগে ৫ ছক্কা ও ১২ চারে খেলেন ১১৯ রানের ইনিংস। এর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৭তম সেঞ্চুরি করেন খুলনার অধিনায়ক। মিঠুনের বিদায়ের পর ৯ রানের ব্যবধানে আরও তিন উইকেট হারায় খুলনা। তবে অন্যপ্রান্তে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৩তম সেঞ্চুরি তুলে নেন নুরুল হাসান। ২ ছক্কা ও ৯ চারে ১০৪ রানে অপরাজিত তিনি। প্রথম দিন শেষে ৮ উইকেটে ২৮০ রান তোলে খুলনা। ময়মনসিংহের হয়ে ইয়াসিন আরাফাত ৪০ রানে ৪ উইকেট নেন। রাকিবুল হাসানের শিকার দুই উইকেট।

বগুড়ার শহিদ চান্দু স্টেডিয়ামে আবহাওয়ার কারণে প্রথম দিনে ৫৯ ওভারের খেলা মাঠে গড়ায়। রাজশাহীর বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিং নেয়ার সিদ্ধান্তকে প্রমাণ করেন রংপুরের বোলাররা। ইনিংসের প্রথম বলে মিম মোসাদ্দেকের ক্যাচ বানিয়ে ওপেনার ইমন আলীকে ফেরান মেহেদি হাসান। পঞ্চম ওভারে দ্বিতীয় উইকেট হারায় রাজশাহী। সাব্বির হোসেনকেও ফেরান মেহেদি। সাব্বিরকে ফেরানোর পরের বলে প্রীতম কুমারকে আউট করেন কুড়িগ্রামের ডানহাতি মিডিয়াম পেসার। ১৭ রানে তিন উইকেট হারানো রাজশাহী ৬৩ রান তুলতে ছয় উইকেট হারিয়ে ফেলে। সপ্তম উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে রাজশাহীকে লড়াইয়ে ফেরান এস এম মেহেরব ও নিহাদুজ্জামান। দু’জনে মিলে গড়েন ৯২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। মেহেরব ৮২ ও নিহাদুজ্জামান ২৮ রানে অপরাজিত। রংপুরের মেহেদি হাসান ৩৭ রানে তিন উইকেট নেন। প্রথম দিন শেষে ৬ উইকেটে ১৫৫ রান তোলে রাজশাহী।

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিলেট-চট্টগ্রাম ম্যাচে প্রথম দিনে পড়েছে ১১ উইকেট। হাসান মুরাদ ও আশরাফুল হাসান রোহানের তোপে পড়ে ২১৮ রানে অলআউট সিলেট। দলীয় সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন চতুর্থ রাউন্ডের সেঞ্চুরিয়ান আশরাফুল হাসান রিয়াদ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন অমিত হাসান। জবাব দিতে নেমে ভালো শুরু পায় চট্টগ্রাম। দুই ওপেনার মিলে উদ্বোধনী জুটিতে তোলেন ৬৪ রান। আসাদুল্লাহ গালিবের বলে সাদিকুর ফিরে গেলে ভাঙ্গে উদ্বোধনী জুটি। প্রথম দিন শেষে ১ উইকেটে ৬৪ রান তোলে স্বাগতিক চট্টগ্রাম। ১৫৪ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিন ব্যাটিংয়ে নামবে চট্টগ্রাম। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ৩৫ ও তিনে নামা আশরাফুল হাসান রোহান শূন্য রানে অপরাজিত।