এমএলএসের যে নিয়ম ‘বাঁচিয়ে দিলো’ মেসিকে

এমএলএসের যে নিয়ম ‘বাঁচিয়ে দিলো’ মেসিকে

ফন্ট সাইজ:

মেজর লীগ সকারে (এমএলএস) হলুদ কার্ডের কোটা পূর্ণ হলেও আগামীকাল নিউ ইংল্যান্ড রেভোল্যুশনের বিপক্ষে মাঠে নামতে বাধা নেই লিওনেল মেসির। ফুটবল ভক্তদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এমএলএসের নিয়মানুযায়ী মৌসুমে পঞ্চমবারের মতো হলুদ কার্ড দেখার পরও কীভাবে ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাচ্ছেন ইন্টার মায়ামি অধিনায়ক? উত্তরটি লুকিয়ে আছে সেই এমএলএস-এরই এক অভিনব নিয়মে, যা সাধারণত আড়ালেই থেকে যায়। সিনসিনাটির বিপক্ষে ম্যাচের আগের ঘটনা মনে করলে ফুটবলের এই মহাতারকা কলোরাডো র‌্যাপিডস, অরল্যান্ডো সিটি, ন্যাশভিল এসসি এবং আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষেও হলুদ কার্ড দেখেন। এমএলএসের নিয়ম বলছে, নিয়মিত মৌসুমে পঞ্চম হলুদ কার্ডের কারণে পরের ম্যাচে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার কথা ছিল মেসির।

তবে এমএলএসের একটি বিশেষ বিধান তার শাস্তির যাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিশেষ নিয়মটির নাম ‘গুড বিহেভিয়ার ইনসেনটিভ’ বা সদাচরণ প্রণোদনা। এই নিয়মের মূল কথা হলো, কোনো খেলোয়াড় টানা পাঁচ ম্যাচে হলুদ কার্ড, লাল কার্ড বা কোনো ধরনের অতিরিক্ত শৃঙ্খলাভঙ্গ ছাড়াই মাঠে কাটালে তার মোট হলুদ কার্ডের সংখ্যা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি কার্ড কমে যাবে। নিয়ম অনুযায়ী, এ সুবিধা একটি নিয়মিত মৌসুমে সর্বোচ্চ তিনবার পাওয়া সম্ভব। মেসির ক্ষেত্রেও ঠিক এটিই হয়েছে। চলতি মৌসুমে তিনি দুই দফায় টানা পাঁচ ম্যাচ করে কোনো কার্ড না দেখে পার করেছেন। যার ফলে তার নামের পাশে দুটি হলুদ কার্ড কেটে দেয়া হয়েছে। সিনসিনাটির বিপক্ষে পাওয়া কার্ডটি তার পঞ্চম হলেও, এই বিশেষ ছাড়ের কারণে অফিশিয়াল হিসাব অনুযায়ী তার হলুদ কার্ডের সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র তিনে। এই অনন্য বিধানের সুবাদেই মেসি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পারছেন এবং নিউ ইংল্যান্ডের বিপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে স্কোয়াডে পাচ্ছে মায়ামি।

চলতি মৌসুমে মায়ামির প্লে-অফ ভাগ্য নিশ্চিত থাকলেও নিউ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচটি টেবিলের শীর্ষ অবস্থানের লড়াইয়ে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যদিকে ব্যক্তিগত অর্জনের দৌড়েও মেসি রয়েছেন দুর্দান্ত ছন্দে। ২৫ গোল নিয়ে এমএলএস গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি শীর্ষে আছেন। পাশাপাশি ১৫টি অ্যাসিস্ট নিয়ে চারে মেসি। ২টি অ্যাসিস্ট বেশি করে চূড়ায় সিনসিনাটির সিলভা ফেরেইরা। এমএলএসে ইস্টার্ন কনফারেন্স পয়েন্ট তালিকায় মায়ামি তৃতীয়। ৩২ ম্যাচে ফ্লোরিডার ক্লাবটির সংগ্রহ ৫৬ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে নিউ ইংল্যান্ড। সমান ম্যাচে ৭১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ন্যাশভিল।
মায়ামি ও নিউ ইংল্যান্ড এরই মধ্যে ২০২৬ এমএলএস প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে। তবে আসন্ন মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস কাপে মায়ামির জায়গা পাওয়া অনেকটাই নির্ভর করছে নিউ ইংল্যান্ড ম্যাচের ওপর।