একজন বাবা সন্তানের পড়াশোনার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন, একজন অসুস্থ মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছেন না, একজন তরুণ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি পাচ্ছেন না, আর একজন কৃষক ফসলের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ঋণের বোঝায় জর্জরিত হচ্ছেন। অথচ একই দেশে একশ্রেণির ক্ষমতাশালী ব্যক্তি রাতারাতি বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে উঠছেন। তাঁদের কারও বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠছে, কারও সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, আবার কেউ কেউ বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপনের সামর্থ্য অর্জন করছেন। এই বৈপরীত্যের পেছনে দুর্নীতি যখন বড় ভূমিকা রাখে, তখন সেটি আর নিছক আর্থিক অনিয়ম থাকে না; হয়ে ওঠে একটি জাতির অগ্রযাত্রা আটকে দেওয়ার নির্মম হাতিয়ার।
বাংলাদেশের দুর্নীতির সংকট আজ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে এর প্রভাব শুধু সরকারি দপ্তরে ঘুষ লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি, নিয়োগ-বাণিজ্য, বদলি-বাণিজ্য, পদ কেনাবেচা, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচার—বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিস্তার মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলছে। এর ফলে রাষ্ট্রের সম্পদ অপচয় হচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, যোগ্য মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বৈষম্য ও বঞ্চনার অনুভূতি গভীর হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য শোনা গেলেও রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন কতটা ঘটছে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এই বাস্তবতায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেছেন, দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক নেতাদের আগে দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। অন্যথায় দুর্নীতি বন্ধের উদ্যোগ ব্যর্থ হবে। ২১ অক্টোবর ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে স্থানীয় শিক্ষক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা কমিটির সভাপতি কিংবা প্রধান শিক্ষক—কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার বা লুটপাটে জড়ালে তা গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি দুর্নীতি প্রতিরোধের দায়িত্বের কেন্দ্রে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সততাকে স্থান দিয়েছেন। কারণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিজেরা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করলে কিংবা দলীয় পরিচয়ে দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা দিলে প্রশাসন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি প্রতিরোধের উদ্যোগ বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। যে নেতা জনসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় আসেন, তাঁর কাছে জনগণের সম্পদ আমানত হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। অথচ সেই ক্ষমতাই যদি ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধি, অনুসারীদের অবৈধ সুবিধা দেওয়া কিংবা প্রতিপক্ষকে দমনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তাহলে রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হতে বাধ্য।
প্রশ্ন হলো, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই কঠোর অবস্থান কি বাস্তব পদক্ষেপে প্রতিফলিত হবে? নিজের দলের কেউ চাঁদাবাজি, দখলবাজি, নিয়োগ-বাণিজ্য কিংবা সরকারি কাজে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে অভিযুক্ত হলে তাঁর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা হবে কি? অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয় পদ ও রাজনৈতিক আনুগত্যের ঊর্ধ্বে উঠে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি? এসব প্রশ্নের উত্তরেই নির্ধারিত হবে দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারের বিশ্বাসযোগ্যতা। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোরতা দেখানো সহজ; নিজের বলয়ের ক্ষমতাবান ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করাই প্রকৃত সাহসের পরিচয়।
দুর্নীতির ভয়াবহতা বোঝার জন্য বাংলাদেশের ঋণনির্ভর অর্থনীতির দিকে তাকানো প্রয়োজন। দেশকে উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে দেশি-বিদেশি ঋণ নিতে হয়। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, জাপান, চীন, রাশিয়া ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ বিভিন্ন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাংলাদেশ অর্থ গ্রহণ করেছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট সরকারি ঋণ প্রায় ২২ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে বিদেশি ঋণ প্রায় ৯ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকা। এই ঋণ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সুফল বয়ে আনতে পারে, যদি অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয় এবং প্রকল্পগুলো প্রত্যাশিত ফল দেয়। কিন্তু ঋণের অর্থে অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যয় কিংবা আত্মসাৎ হলে ঋণের বোঝা থেকে যায় জনগণের ওপর, অথচ তার সুফল থেকে তারা বঞ্চিত হন।
ঋণ নেওয়ার এই বাস্তবতার বিপরীতে অর্থ পাচারের পরিসংখ্যান আরও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি K‡i| W. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন অর্থনীতির শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে থাকতে পারে। এই পরিসংখ্যান দেশের অর্থনীতি থেকে বিপুল সম্পদ বেরিয়ে যাওয়ার উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে।
একদিকে বাংলাদেশকে উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রয়োজনে ঋণ নিতে হচ্ছে, অন্যদিকে দেশ থেকে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে—এই বৈপরীত্য কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। বাস্তবতা হচ্ছে,পাচার হওয়া সব অর্থ ফেরত পাওয়া গেলে অথবা পাচার না হলে দেশের কোনো ঋণই নিতে হতো নv| ïay অর্থ পাচার বন্ধ করা সম্ভব হলে এবং দেশের সম্পদ উৎপাদনশীল বিনিয়োগে ব্যবহার করা গেলে কর্মসংস্থান, রাজস্ব আয় ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ত; ঋণের ওপর নির্ভরতার চাপও কমানো সম্ভব হতো। অর্থাৎ দুর্নীতি শুধু রাষ্ট্রীয় অর্থ লুট করে না, দেশকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করে।
এই দুর্নীতির মূল্য পরিশোধ করছেন সাধারণ মানুষ। রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে জনগণের প্রাপ্য সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও গভীর হয়। একদিকে মানুষ দ্রব্যমূল্য, চিকিৎসা ব্যয়, বাসাভাড়া ও সন্তানের শিক্ষার খরচ সামলাতে সংগ্রাম করেন; অন্যদিকে দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অভিযুক্ত কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলেন। বিদেশে বাড়ি কেনা কিংবা সন্তানদের বিদেশে পড়ান।
দুর্নীতির আরেকটি ভয়াবহ রূপ হলো রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অপরাধ ও অনিয়মকে সুরক্ষা দেওয়া। চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা, চোরাচালান কিংবা পদ ও নিয়োগ-বাণিজ্যের পেছনে যখন ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ আর্থিক স্বার্থ কাজ করে, তখন একটি অনৈতিক বলয় তৈরি হয়। এই বলয়ে যোগ্যতা ও সততার পরিবর্তে প্রভাব, আনুগত্য এবং অর্থের মূল্য বেড়ে যায়। ফলে সৎ উদ্যোক্তা নিরুৎসাহিত হন, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয় এবং মানুষের মধ্যে এই ধারণা জন্মায় যে যোগ্যতার চেয়ে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকাই সাফল্যের সহজ পথ। একটি জাতির জন্য এর চেয়ে বিপজ্জনক সামাজিক বার্তা আর কী হতে পারে?
এখানে বুঝতে হবে, দুর্নীতি শুধু ঘুষ নেওয়া বা দেয়ার নাম নয়। দায়িত্বের অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি, যোগ্য ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা, সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা এবং রাজনৈতিক পরিচয়ে অন্যায় সুবিধা পাইয়ে দেওয়াও দুর্নীতির বিস্তৃত পরিসরের অন্তর্ভুক্ত। কোনো সিদ্ধান্তে সরাসরি অর্থের লেনদেন না থাকলেও তা যদি আইন, নৈতিকতা ও জনস্বার্থের পরিপন্থী হয়, তাহলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি নির্মূল করতে হলে তাই ব্যক্তির আচরণের পাশাপাশি সেই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিও বদলাতে হবে, যা অনিয়মকে প্রশ্রয় দেয়।
নিয়োগ-বাণিজ্যের বিরুদ্ধে আইনমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি বাস্তবায়নের জন্য স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, যোগ্যতাভিত্তিক নির্বাচন এবং অভিযোগ তদন্তের কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি। বদলি ও পদায়নে অনৈতিক লেনদেনের সুযোগ বন্ধ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা কমিটির সভাপতি বা অন্য কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি ক্ষমতার অপব্যবহার করলে যেমন ব্যবস্থা নিতে হবে, তেমনি কোনো শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষক অর্থ আত্মসাৎ কিংবা শিক্ষার পরিবেশ bó করার মতো অনিয়মে জড়িত হলেও তাঁকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একইভাবে মাদক প্রতিরোধে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সচেতন করার পাশাপাশি মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক এবং অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতার বিরুদ্ধেও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
দুর্নীতি প্রতিরোধে স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান, সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা, দরপত্রে প্রতিযোগিতা, সম্পদের হিসাব যাচাই, অর্থ পাচারের তদন্ত এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ আইন অনুযায়ী পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে অনিয়ম তুলে ধরার সুযোগ দিতে হবে। প্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ বিচার এবং সবার জন্য আইনের সমান প্রয়োগই হতে হবে দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থার কার্যকর ভিত্তি।
সবচেয়ে বড় প্রয়োজন জাতীয় ও রাজনৈতিক ঐক্য। দুর্নীতি কোনো একক দলের সমস্যা নয়; এটি রাষ্ট্রের সমস্যা এবং জনগণের ভবিষ্যতের প্রশ্ন। সরকার, বিরোধী দল, রাজনৈতিক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমাজ, পেশাজীবী, সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ন্যূনতম ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে। এই ঐক্যের অর্থ অপরাধ আড়াল করা নয়; বরং দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একই নীতি প্রতিষ্ঠা করা। রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিজেদের লোকের দুর্নীতির প্রশ্নে নীরব থাকে, অথচ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগকে কেবল রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্থায়ী অগ্রগতি সম্ভব হবে না।
বাংলাদেশের মানুষ বেশি কিছু চান না। এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ শুধুমাত্র এমন একটি রাষ্ট্র চান, যেখানে চাকরি পেতে ঘুষ দিতে হবে না, ব্যবসা পরিচালনায় চাঁদাবাজির শিকার হতে হবে না, সরকারি প্রকল্পের অর্থ লুটপাটের সুযোগ থাকবে না এবং রাজনৈতিক পরিচয় অপরাধের সুরক্ষা দেবে না। তাঁরা এমন নেতৃত্ব চান, যারা শুধু সততার কথা বলবেন না, নিজেদের কর্মকাণ্ডেও সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় হবে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির সিঁড়ি হবে না—এই নীতিই হতে হবে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তি। আর এটা সম্ভব হলে বাংলাদেশকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হবে না। কারো সাহায্যের জন্য হাত পাততে হবে না।
আইনমন্ত্রীর বক্তব্য তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বার্তা। কিন্তু বক্তব্যের মূল্য নির্ধারিত হবে বাস্তব প্রয়োগে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি নিজেদের বলয়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধেও সমান কঠোরতা দেখায়, অপরাধের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহিমূলক করে তোলে, তাহলেই এই অঙ্গীকার বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। অন্যথায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর বক্তৃতা মানুষের প্রত্যাশা বাড়াবে, কিন্তু বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারবে না।
পরিশেষে বলতে চাই, দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং আপসহীন জবাবদিহির পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আগে নিজেদের দুর্নীতিমুক্ত হওয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। কারণ দুর্নীতিগ্রস্ত নেতৃত্বের হাতে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার কখনোই বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারে না। সুতরাং দুর্নীতির বিরুদ্ধে বক্তৃতা নয়, প্রয়োজন রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন—এবং সেই পরিবর্তনের প্রমাণ দিতে হবে কাজে। তা না হলে ইতিহাস আমাদের কাউকে ক্ষমা করবে না। মহান আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের সহায় হোন।
লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।
ই-মেইল: [email protected]
রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ও জাতীয় ঐক্য ছাড়া কি দুর্নীতি দমন সম্ভব?
আহসান হাবিব বরুন
মত-মতান্তর
২ ঘন্টা আগে
৩১ অক্টোবর (শনিবার), ২০২৬, ৭ঃ৩১ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
