হিমাদ্রীর জিপিএ-৫, বাজিমাত খই খই-শ্রাবণ ও মারুফার

এইচএসসি পাস ক্রীড়াতারকারা

হিমাদ্রীর জিপিএ-৫, বাজিমাত খই খই-শ্রাবণ ও মারুফার

ফন্ট সাইজ:

কঠিন অনুশীলনের ধকল আর আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ব্যস্ততা পেরিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের তারকাদের মুখে হাসির ঝিলিক ফুটিয়েছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল। জাতীয় হকি দল থেকে শুরু করে ফুটবল, ক্রিকেট ও টেবিল টেনিসের সম্ভাবনাময় মুখেরা সাফল্যের সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হয়েছেন।




হকিঙ্গনে আলো ছড়ানো যমজ বোন হিমাদ্রী বড়ুয়া ও নিলাদ্রী বড়ুয়া বিকেএসপি থেকে সাফল্যের সঙ্গে এইচএসসি পাস করেছেন। জাতীয় দলের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের ফলাফলও দারুণ সন্তোষজনক। এর মধ্যে হিমাদ্রী জিপিএ-৫ অর্জন করলেও অল্পের জন্য এ প্লাস হাতছাড়া হয়েছে নিলাদ্রীর (৪.৮৩)। পরীক্ষার আগে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ব্যস্ত থাকায় ভালো প্রস্তুতি না থাকলেও এমন ফলে উচ্ছ্বসিত তারা। নিলাদ্রী জানান, খেলার মাঠে মনোযোগ দেওয়ায় ফল নিয়ে বাড়তি প্রত্যাশা ছিল না। অন্যদিকে হিমাদ্রী উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকার কোনো স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ইচ্ছের কথা জানিয়েছেন।




বিকেএসপি থেকে এবার সাফল্যের দ্যুতি ছড়িয়েছেন দেশের টিটি কুইন খ্যাত খই খই সাই মারমাও। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৪.৬৭ জিপিএ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। খেলা ও পড়াশোনা একসঙ্গে সামলানো যে কতটা কঠিন ছিল, তা তুলে ধরে এই শাটলার জানান, পরীক্ষার কারণে বড় দুটি টুর্নামেন্টের ক্যাম্পের জন্য সেভাবে প্রস্তুতি নিতে না পারলেও অপ্রত্যাশিত এই সাফল্যে তিনি আনন্দিত। ভবিষ্যতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর। টেবিল টেনিস থেকে খই খই ছাড়াও জুনিয়র ন্যাশনাল টিমের রেশমি তঙচঙ্গা, ঐশি রহমান, নাফিস ইকবাল ও আবুল হাসেম হাসিবও সফলভাবে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।




ফুটবল আঙিনায় বসুন্ধরা কিংস ও জাতীয় দলের গোলকিপার মেহেদী হাসান শ্রাবণ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ঐচ্ছিক বিষয়সহ জিপিএ ৪.৭১ (ঐচ্ছিক ছাড়া ৪.৪৬) অর্জন করেছেন। এছাড়া জাতীয় অনূর্ধ্ব-২০ দলের গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন মানবিক বিভাগ থেকে ৪.২৫ জিপিএ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

ক্রিকেট অঙ্গনেও সুখবর দিয়েছেন জাতীয় দলের পেসার মারুফা আক্তার। গত বছর এক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় এবার অনিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সফলতার মুখ দেখেন এই গতি তারকা। এদিকে বিকেএসপি ক্রিকেট বিভাগের ছাত্রীদের জন্য দিনটি ছিল শতভাগ সাফল্যের; পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১১ জন মেয়ের সবাই পাস করেছেন। পাশাপাশি ছেলেদের ১৮ জনের মধ্যে ১৫ জন পাস করেছেন, যার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন অভিজিত কুমার দাস। এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ​