ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর-এর ফলাফল নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে এক অভিনব আলোচনা। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আগেই নিখুঁতভাবে শীর্ষ পাঁচ খেলোয়াড়ের ক্রমতালিকা অনুমান করে প্রায় ২ লাখ মার্কিন ডলার (২ কোটি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রায়) জিতে নেয়া কিছু সন্দেহজনক বেটিংয়ের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনাটি এতটাই সন্দেহজনক যে, এর পেছনে কোনো গোপনীয় তথ্য বা ফলাফল ফাঁসের আশঙ্কা করছেন খোদ আয়োজকরা। ফ্রান্স ফুটবলের আয়োজক গ্রুপ আমৌরি জানিয়েছে, এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ফরাসি পুলিশকেও পুরো বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রেডিকশন মার্কেট ‘পলিমার্কেট’-এ খোলা ১২টি নতুন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই বাজি ধরা হয়। সোমবার লন্ডনের প্যালাডিয়ামে অনুষ্ঠিত জমকালো অনুষ্ঠানে হ্যারি কেইন বিজয়ী হন। তার পেছনে যথাক্রমে কিলিয়ান এমবাপ্পে, লামিন ইয়ামাল, রদ্রি এবং লিওনেল মেসি শীর্ষ পাঁচে অবস্থান করেন। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘আপসাইড’-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঠিক এই নির্দিষ্ট ক্রমতালিকাটিই আগে থেকে অনুমান করা হয়।
অনুসন্ধানী দল ‘আপসাইড’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা রাফায়েল পউটার্ড জানান, ১ থেকে ২০শে অক্টোবরের মধ্যে তৈরি এই ১২টি অ্যাকাউন্টের কার্যক্রমে অদ্ভুত মিল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৭টি অ্যাকাউন্ট অন্য কোনো বাজি ধরার বাজারে অংশ নেয়নি এবং ছয়টি অ্যাকাউন্ট খোলার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে প্রথম বাজি ধরে। একটি লেনদেন ট্র্যাক করে ফরাসি প্ল্যাটফর্মের সহায়তায় এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের সূত্রও পাওয়া গেছে।
নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষায় বলন ডি’অরের ফলাফল অত্যন্ত সীমিত পরিসরে রাখা হয়। এ বিষয়ে ফ্রান্স ফুটবলের সাবেক সম্পাদক প্যাসকেল ফেরেস গত সপ্তাহে মন্তব্য করেন, ‘কীভাবে বিজয়ী প্রার্থীর পরিচয় গোপন রাখা যায়? আমি মনে করি, যে গোপন তথ্য যত কম মানুষের কাছে থাকে, সেটিই সবচেয়ে সুরক্ষিত থাকে।’
তবে এত নিখুঁত ভবিষ্যৎদ্বাণী এবং বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন ফুটবলের এই ঐতিহ্যবাহী সম্মাননার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এমন গোপনীয়তা লঙ্ঘন ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি বড় ধাক্কা। তদন্তে আসল সত্য বেরিয়ে আসবে এবং অপরাধীরা বিচারের আওতায় আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা ফ্রান্স ফুটবলের।
