ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনে বিদেশি প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তদন্তে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ যুক্ত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের অনুরোধে তারা এই তদন্তে অংশ নিয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছে হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলো। সূত্রবিহীন এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কথিত বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তদন্তে শিন বেতের সঙ্গে কাজ করছে মোসাদ। সন্দেহ করা হচ্ছে, শুধু কাতার নয়, আরও কয়েকটি দেশ এই নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে থাকতে পারে। ওয়াইনেট সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব দেশের মধ্যে তুরস্কের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, তদন্তে সহায়তার জন্য মোসাদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল শিন বেত। তবে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি বারবার বলেছে, তদন্তের পরিধি সীমিত। মঙ্গলবারের নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও কোনো প্রশ্ন নেই। ওই নির্বাচনে আবারও পার্লামেন্টে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাতার ও তুরস্ক দুই দেশই। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইসরাইল।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে মঙ্গলবার ভোটের দিন আরব ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি বাড়াতে অর্থ দেয়ার কথিত চেষ্টা। এ ঘটনায় ঘুষ দেয়ার সন্দেহে রা’আম দলের তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে হারেৎজ পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটারদের ঘুষ দেয়ার চেষ্টার কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় ওই তিনজনকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি দেয়ার কথা রয়েছে। অভিযোগ ছাড়াই মামলাটি বন্ধ করে দেয়া হতে পারে। চ্যানেল ১২ নিউজ জানিয়েছে, পুলিশ আদালতের পরোয়ানা ছাড়াই ওই তিনজনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছিল। একটি সূত্র হারেৎজকে জানিয়েছে, পুরো ঘটনার সূত্রপাত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চিফ অব স্টাফ ইদো নরডেনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তারের অভিযান চালানো হয়।
আই২৪ নিউজের পৃথক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নরডেন তার সন্দেহের কথা সরাসরি ইসরাইলের পুলিশপ্রধান ড্যানিয়েল লেভির দপ্তরে জানিয়েছিলেন। তবে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযোগের উৎস সম্পর্কে কিছু জানায়নি। পরে নির্বাচনের দিন একটি ভিডিওতে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে সামনে এনে নেতানিয়াহু দ্রুত দাবি করেন, নির্বাচন চুরি করা হচ্ছে। নির্বাচনে নিজের জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু এমন অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী নেতারা। হারেৎজ জানিয়েছে, পুলিশ নগদ অর্থভর্তি কয়েকটি খাম খুঁজে পেয়ে জব্দ করলেও গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনো ঘুষের পরিকল্পনার যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ওই তিনজনের মুঠোফোনেও অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই তিনজনকে গ্রেপ্তারের সঙ্গে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে চলমান বৃহত্তর তদন্তের কোনো সম্পর্ক নেই। নেতানিয়াহু ও তার দল লিকুদের তোলা ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। হিব্রু সংবাদমাধ্যমকে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের দিন ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে ‘খুব কম অনিয়মের ঘটনা’ ঘটেছে। নির্বাচন চুরি হওয়ার অভিযোগের পক্ষে ‘তদন্ত বা গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক কোনো প্রমাণ নেই’ বলেও জানিয়েছে সূত্রটি। শিন বেতও জোর দিয়ে বলেছে, তদন্তটি সুনির্দিষ্ট ও সীমিত পরিসরের। গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মতভাবে ভোট দিতে যাওয়া কোনো পুরো জনগোষ্ঠীকে সন্দেহের চোখে দেখা বা অভিযুক্ত করার উদ্দেশ্য এই তদন্তের নয়।
সব ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষই পায়নি। অন্যদিকে, আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট যৌথভাবে রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে।
