রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান বিমান হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের কাছে ৫০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এসব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পেতে ইউক্রেনের কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উন্নত প্রযুক্তির পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর দাম পড়বে ২১০ কোটি ডলার। ইউরোপ ও কানাডার মিত্র দেশগুলো সম্পূর্ণ অর্থায়ন করবে এই ক্রয়ে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
শুক্রবার রাতে দেয়া এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। রাশিয়ার ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে কার্যকর একমাত্র অস্ত্র হিসেবে তিনি প্যাট্রিয়টের কথা উল্লেখ করেন। অক্টোবর মাসের শুরুতে জেলেনস্কি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বিরোধের পর নতুন এই সিদ্ধান্ত এল। রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল সংগ্রহের চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন জেলেনস্কি।
এর আগে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি করতে ইউক্রেনে নতুন নেতা প্রয়োজন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এর আগে দেশটি ক্রাইমিয়া এবং পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসের কিছু এলাকা দখল করে। ২০শে অক্টোবর অসলোতে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমে আসে। শুক্রবারের বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই প্রস্তাবিত বিক্রয় ইউরোপের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখা একটি অংশীদার দেশের নিরাপত্তা জোরদার করবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ের অনুদানের অর্থে এই ক্রয় সম্পন্ন করবে ইউক্রেন। জাম্পস্টার্ট কর্মসূচি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউক্রেন সহায়তা ঋণের অর্থায়নে জাতীয় তহবিল থেকেও এতে অর্থ দেয়া হবে।
মার্কিন কোম্পানি লকহিড মার্টিন এই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবে। এ বিক্রিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরকারি অর্থ ব্যয় হবে না বলেও জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের উপস্থিতির প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইউরোপীয় কূটনীতিকরা। আনুষ্ঠানিক ছবি তোলার সময় তারা দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানান। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর আয়োজনে আটলান্টায় হচ্ছে এই বৈঠক। সম্মেলনে ল্যাভরভকে উদ্দেশ করে বৃটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরাসরি একটি কথা বলতে চাই: এই যুদ্ধে আগ্রাসী কে, তা আমরা সবাই জানি।
