জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘সরকার যদি ৯ তারিখের আগে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ঘোষণা না দেয়—তাহলে দাবি আদায় করে ছাড়বো।’ শনিবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধসহ ৭ দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো দলীয় ও ব্যক্তিগত দাবি নিয়ে মাঠে নামি নাই। এগুলো জনগণের দাবি। ৭ দফার মূল দফা হচ্ছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। এই একটি দফা বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাকি ৬ দফা এসেছে। বিএনপি জাতির গণরায়কে উপহাস করেছে, ঐতিহাসিক প্রতারণা করেছে। বিএনপি ইতিহাস থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি।’
প্রধান মন্ত্রীর জাপান সফরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কী জন্য গিয়েছিলেন, কী করে এসেছেন—জাতির সামনে তাকে এটা খোলাসা করতে হবে। বিশেষ করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে কোনো লুকোচুরি হচ্ছে কী না—জাতি তা পরিষ্কার জানতে চায়।
কানেক্টিভিটির নামে বাংলাদেশকে কারো কাছে ইজারা দেওয়া চলবে না। অতীতে যারা দাসত্ব স্বীকার করেছিল, তাদের পরিণতি তারা এখন ভোগ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘‘৯ তারিখ সংসদ বসার আগেই নিজেদের ভুল সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে এসে ঘোষণা দিন যে—‘আমরা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করব’।
যদি এই ঘোষণা আপনারা দেন, তাহলে পরবর্তী আর কোনো কর্মসূচি আপাতত বিরোধীদলের নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। কিন্তু যদি তা না দেন, তাহলে আমরা আগে যেমন বলেছি আজও বলছি—জনগণের এই দাবি, ৭০ ভাগ মানুষের ভোট, এই দুইটাকে ইনশাআল্লাহ আমরাও অপমানিত হতে দেব না। আদায় করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ! আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে।’
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকে মানুষ বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করবে। আর কোনো কারণে ক্ষমতা ছাড়তে হলে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ব্যর্থ হওয়ার দায়ও তাদের নিতে হবে।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ‘জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত যে গণভোট ছিল, সেই গণভোটের যে গণরায়, সেই গণরায় কার্যকর করার নিয়মতান্ত্রিক দাবি আমরা বারবার তুলে ধরছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান সরকার কোনোভাবেই জনতার এই রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে প্রস্তুত নয়। তারা নানা ধরনের অহেতুক কথাবার্তার মাধ্যমে শুধু জনগণকে বিভ্রান্ত নয়, বরং জনগণের এই রায়কে বারবার অসম্মান করে যাচ্ছে।’
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন–এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম; বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার; বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী; আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি জনাব মুজিবুর রহমান মঞ্জু; জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান; বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান; বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান; বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
