সুনামগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে বাসা থেকে থানায় নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ বলছে, থানায় নেয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রিন্স। পরে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে সিলেটে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি সিলেট নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশের দাবি, তিনি এখন সুস্থ আছেন এবং তার জ্ঞান ফিরেছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়ার বাসা থেকে তাকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা খবর পান, প্রিন্সকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়েছে।
সেখানে গিয়ে তারা তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। পরিবারের অভিযোগ, বাসা থেকে থানায় নেয়ার পর পুলিশি নির্যাতনে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ এ অভিযোগ নাকচ করেছে। প্রিন্স নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক। প্রিন্সের বাবা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী জানান, তার ছেলের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী তিনটি মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। আগামীকাল ছেলের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের কথা থাকায় তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকারিয়া তাদের বাড়িতে যান। এ সময় থানার ওসি শেখ রতন ছেলের সঙ্গে কথা বলতে চান বলে তাকে জানানো হয়। পরে ছেলেকে আবার বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার আশ্বাসও দেয়া হয়। তিনি বলেন, ছেলেকে নিয়ে যাওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর তার মুঠোফোনে একটি কল আসে। সেখানে প্রিন্সের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।
পরে তিনি জানতে পারেন, ছেলে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রয়েছে। খবর পেয়ে তিনি ও তার স্ত্রী দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান। দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী বলেন, হাসপাতালে গিয়ে ছেলেকে সংকটাপন্ন অবস্থায় দেখতে পান। তখন পুলিশ বাহিরে ছিল, তারা মারা গেছে ভেবে দ্রুত তাকে হাসপাতালে রেখে চলে যায়। চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত সিলেটে নেয়ার পরামর্শ দেন। পরে আমি এম্বুলেন্স ভাড়া করে সিলেটের প্রাইভেট একটি ক্লিনিকে ভর্তি করি, তাদের বিন্দুমাত্র সহযোগিতা পাইনি। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আমার ছেলে মুখে কিছু খাইনি এবং মা- বাবা- ভাই কাউকে সে চিনতে পারছে না। তিনি বলেন, আমি ওসি রতন শেখকে খুব ভালো মানুষ হিসেবে চিনি। আমার ছেলের সঙ্গে কী হয়েছে, আমি তার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।
সুস্থ ছেলে হঠাৎ এত খারাপ অবস্থায় কেন হলো, তার জবাব চাই।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ বলেন, প্রিন্সকে একটি মামলায় গতকাল আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। তার আগে থেকেই অ্যাজমা (হাঁপানি) রোগে সে দুর্বল ছিল। থানা হাজতে দাঁড়ানো অবস্থায় পড়ে যায়। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। এ ছাড়া তাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। তিনি বলেন, থানার সিসিটিভি ফুটেজে সবই রয়েছে। তাকে হাসপাতালে নেয়ার পর কিছু লোক মব সৃষ্টি করে গুজব ছড়ায়, পুলিশ মেরে ফেলে গেছে। ওসি আরও জানান, প্রিন্স বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেয়া হলেও তার পরিবার সেখানে চিকিৎসা না করিয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তিনি সুস্থ আছেন এবং তার জ্ঞান ফিরেছে।
