অপহরণের ৬ দিনেও উদ্ধার হয়নি কলেজছাত্র রিদয়ন

অপহরণের ৬ দিনেও উদ্ধার হয়নি কলেজছাত্র রিদয়ন

ফন্ট সাইজ:

টানা ছয়দিন পেরিয়ে গেলেও অপহৃত কলেজছাত্র রিদয়ন আনসারী (২৫)কে উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এমনকি মুক্তিপণের টাকা দেয়ার পরও ছেলেকে ফিরে না পাওয়ায় চরম উদ্বেগে দিন পার করছে রিদয়নের পরিবার। সন্তান ফিরে আসার প্রহর গুনতে গুনতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন মা শারমিন আক্তার। মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের তাড়াইল গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান আনসারীর ছেলে রিদয়ন আনসারী। রাজধানীর নিউ ইস্কাটন এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থেকে বিবিএ পড়ার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। রিদয়নের বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারী বলেন, প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও গত ছয়দিনে আমার ভাইটার কোনো সন্ধান মেলেনি।

এ সময় আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনের প্রতি আমাদের অনুরোধ দয়া করে আমার ভাইকে জীবিত উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর সফিপুর এলাকায় বড় বোনের বাসা থেকে ঢাকার মগবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন রিদয়ন। ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারীর সঙ্গে শেষ কথা হয় তার। এরপর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। স্বজনরা সব স্থানে খুঁজেও কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন রোববার ভোর ৫টা ৩৯ মিনিটে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে শাহরিয়ার আনসারীর মোবাইলে কল আসে। অপহরণকারীরা রিদয়নকে জিম্মি করার কথা জানিয়ে প্রমাণস্বরূপ কয়েক সেকেন্ডের জন্য তার সঙ্গে স্বজনদের কথা বলিয়ে দেয়।

এ সময় রিদয়নকে জীবিত ফেরত পেতে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা। জীবন বাঁচাতে স্বজনরা বাধ্য হয়ে অপহরণকারীদের দেয়া বিভিন্ন বিকাশ ও নগদ নম্বরে মোট ৪০ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরও অপরাধীরা তাকে মুক্তি দেয়নি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর খালাতো ভাই ফয়সল মাহমুদ গত ২৫শে অক্টোবর গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ ও অপহৃতকে উদ্ধারে র‌্যাব-৩ (খিলগাঁও ক্যাম্প) এর কোম্পানি কমান্ডার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও দেয়া হয়। এদিকে, প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেয়ার ছয়দিন অতিবাহিত হলেও কলেজছাত্রকে উদ্ধার করা সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও সহপাঠীদের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।