হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টিতে শুকিয়ে চৌচির হয়ে পড়ছে আমন ধানের ক্ষেত। কোথাও কোথাও জমিতে দেখা দিয়েছে ফাটল। এ ছাড়া, ধানে মাজরা পোকার আক্রমণ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পানির সংকট ও পোকার আক্রমণে আমন ধানের ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। কৃষকদের আশঙ্কা, এ সময়ে পর্যাপ্ত পানি ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করা না গেলে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে কাইচ থোড় পর্যায়ে থাকা ধানের জমিতে পানির সংকট দেখা দিলে ফলনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। উপজেলার কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বৃষ্টি না হওয়ায় জমির মাটি শুকিয়ে শক্ত হয়ে গেছে। ধানের গাছ ঠিকমতো বেড়ে উঠছে না।
জমিতে পানি দিতে না পারলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেচ দিতে গেলেও বাড়তি খরচ হচ্ছে। এর মধ্যে পোকার আক্রমণ বাড়লে লোকসানের আশঙ্কাও বাড়বে। একদিকে সেচের খরচ, অন্যদিকে ধানে পোকার আক্রমণ- সবমিলিয়ে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠছে। কৃষকদের অভিযোগ, অনাবৃষ্টির পাশাপাশি ধানে মাজরা পোকার আক্রমণও বাড়ছে। এ অবস্থায় ধানের ক্ষেত রক্ষায় সেচের পাশাপাশি পোকামাকড় দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, সেচের পানির সংকট মোকাবিলায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা জরুরি। যেসব এলাকায় সেচপাম্প রয়েছে, সেসব এলাকার কৃষকরা বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করলে দ্রুত সংযোগ দেয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। পাশাপাশি ধানের ক্ষেতে পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কৃষকদের কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কৃষকদের দাবি, সেচের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে ধানের অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও মাজরা পোকার আক্রমণ দমনে কার্যকর পরামর্শ দিতে হবে। সময়মতো সেচ ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করা না গেলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি আমন ধানের ফলনহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
