সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। নিজেদের জমানো টাকা ও ঋণের অর্থ বিনিয়োগ করে মাছ চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন চার বন্ধু। কিন্তু রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তদের বিষ প্রয়োগে এক রাতেই শেষ হয়ে গেছে তাদের সেই স্বপ্ন। সর্বস্ব হারিয়ে এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষুদ্র এই উদ্যোক্তারা। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের চিকসা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চিকসা গ্রামের এবিএম বখতিয়ার, তৌহিদুল, মুক্তার হোসেন ও মানিক মিয়া- এই চার বন্ধু নিজেদের জমানো টাকা, পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন। মাছ চাষের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন ও স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তারা এ উদ্যোগ গড়ে তুলেছিলেন।
কিন্তু রাতের আঁধারে কে বা কারা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে তাদের সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। শুক্রবার সকালে পুকুরের পানিতে মরা মাছ ভেসে উঠতে দেখে প্রতিবেশীরা তাদের খবর দেন। পরে পুকুরপাড়ে গিয়ে তারা দেখতে পান, চাষ করা অধিকাংশ মাছ মরে পানিতে ভেসে রয়েছে। এ সময় পুকুরের পানিতে তীব্র বিষের গন্ধও পাওয়া যায়। এতে তাদের প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগী এবিএম বখতিয়ার জানান, চার বন্ধু মিলে অনেক আশা নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছিলেন। নিজেদের সঞ্চিত অর্থের পাশাপাশি পাড়া-প্রতিবেশী ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এ উদ্যোগে বিনিয়োগ করেন।
কিন্তু এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেছে। এতে তারা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, মাছ চাষ একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। তরুণরা নিজেদের উদ্যোগে মাছ চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। কিন্তু এভাবে কারও পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
