ইসরাইলে নতুন সরকার গঠনের আলোচনা নীরবে, ক্যামেরার আড়ালে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ। তার দাবি, নির্বাচনে প্রাথমিক ফলাফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
এ ছাড়া লাপিদ দাবি করেছেন, বিরোধীদের নেতৃত্বাধীন চেঞ্জ ব্লক জয়ী হয়েছে।শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে দেয়া পোস্টে লাপিদ বলেন, নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার কোনো মিল নেই। প্রচার চলে প্রকাশ্যে, আর সরকার গঠনের আলোচনা হয় ছোট ছোট কক্ষে, ধাপে ধাপে এবং ক্যামেরার আড়ালে।
ইসরাইলের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি, মানুষ অনিশ্চয়তা একেবারেই পছন্দ করে না। আপনারা যদি জানতে চান, এখন যে নীরবতা চলছে, তার আড়ালে কিছু ঘটছে কি না—তাহলে উত্তর হলো, হ্যাঁ।’
দেশটির প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, কোনো জোটই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। তবে নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যাকে বড় পরাজয় হিসেবে দেখছেন লাপিদ।
তার হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। এর মধ্যে অতি-কট্টর ইহুদি দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম পেয়েছে ৭টি এবং শাস পেয়েছে ৬টি আসন।
লাপিদের ভাষায়, এই দুটি দল জায়নবাদবিরোধী। ফলে নেতানিয়াহুর নিজস্ব শিবিরের হাতে রয়েছে মাত্র ৪০টি আসন। এই আসন নিয়ে তার পক্ষে সরকার গঠন সম্ভব নয় বলে দাবি করেন লাপিদ।
তিনি লিখেন, ‘এ হিসাবে আমরা জিতেছি। এটি নকআউট জয় ছিল না; পয়েন্টের ব্যবধানে জয়। কিন্তু পয়েন্টও গণনা হয়। তাছাড়া, জয় তো জয়ই।’
নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ৬৭টি আসন, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টির চেয়ে বেশি। তবে এই সংখ্যার মধ্যে আরব দলগুলোর আসনও রয়েছে।
আরব ব্লকের রাআম পেয়েছে ৮টি এবং জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১১টি আসন। অন্যদিকে, চেঞ্জ ব্লকের চারটি দল সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ৪৮টি আসন।
তবে সমস্যা তৈরি হয়েছে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে। লাপিদের টুগেদার পার্টিসহ চেঞ্জ ব্লকের ইয়াশার ও ইসরাইল বেইতেনু আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনে রাজি নয়।
এ বিষয়ে তুলনামূলক নমনীয় অবস্থানে রয়েছে কেবল বামপন্থি দল ডেমোক্র্যাটস।
লাপিদ জানিয়েছেন, ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বে চেঞ্জ ব্লক সরকার গঠনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে। তবে কাজটি কঠিন এবং শেষ পর্যন্ত সফল হওয়ার নিশ্চয়তা নেই বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।
ইসরাইলিদের উদ্দেশে লাপিদের বার্তা, এই অনিশ্চিত সময়ে ধৈর্য ধরতে হবে। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, প্রকাশ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা কম থাকলেও পর্দার আড়ালে সরকার গঠনের আলোচনা এগিয়ে চলছে।
