কতো সরকার আইলো-গেল সড়ক আর হইলো না

কতো সরকার আইলো-গেল সড়ক আর হইলো না

ফন্ট সাইজ:

কতো সরকার আইলো আর গেল, কিন্তু সড়ক আর হইলো না। বছরের পর বছর ধরে এই সড়কে দুর্ভোগ পোহাচ্ছি আমরা। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদাপানিতে চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এমনকি মানুষ মারা গেলেও কবরস্থানে মরদেহ নিয়ে যেতে কষ্ট করতে হয়। ক্ষোভের সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন ঢাকার নবাবগঞ্জের মৌলভীডাঙ্গী গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় উপজেলার হাসনাবাদ ও মৌলভীডাঙ্গী কবরস্থানসংলগ্ন সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা কাঁচা সড়কটি সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা ও পানিতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসনাবাদ-মৌলভীডাঙ্গী নদীর পাড় সড়ক থেকে দুই গ্রামের কবরস্থান পর্যন্ত সড়কটি স্থানীয়দের চলাচলের অন্যতম পথ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় পিচ্ছিল কাদার মধ্যদিয়ে চলাচল করতে হয় পথচারীদের।

হাসনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, বছরে এই রোডটা আমরা ৩-৪ মাস ব্যবহার করতে পারি। একটু পানি হলেই আর চলা যায় না। বর্ষায় তো পানির নিচেই থাকে। আমাদের হাসনাবাদ ও মৌলভীডাঙ্গী গ্রামের কেউ মারা গেলে দুনিয়া ঘুরে এখানে আসতে হয়। অথচ সোজা রোডটা ঠিক হলে ৫ মিনিটেই এখানে আসা সম্ভব। একই এলাকার কৃষক নাসিম উদ্দিন জানান, কৃষকদের উৎপাদিত ফসল ও অন্যান্য মালামাল পরিবহনের জন্যও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বেহাল অবস্থার কারণে তাদের অতিরিক্ত সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। মৌলভীডাঙ্গীর বৃদ্ধ আব্দুল সাত্তার বলেন, সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় দুই কবরস্থানে মরদেহ দাফনের জন্য নেয়ার সময়। স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাঈদ ও রানু বেগমসহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিরা সড়কটি সংস্কারের আশ্বাস দিলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। এলাকাবাসীর দাবি, সড়কটি কংক্রিট (সিসি) অথবা পিচ ঢালাইয়ের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হলে দুই গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।