৫ মাসেও উদ্‌ঘাটন হয়নি বিয়ানীবাজারের যুবক রূপকের মৃত্যু রহস্য

৫ মাসেও উদ্‌ঘাটন হয়নি বিয়ানীবাজারের যুবক রূপকের মৃত্যু রহস্য

ফন্ট সাইজ:

বিয়ানীবাজারে সাদিকুল ইসলাম রূপকের মৃত্যু রহস্য পাঁচ মাসেও উদ্‌ঘাটন হয়নি। এখন পর্যন্ত তদন্ত সংশ্লিষ্টদের হাতে পৌঁছেনি রূপকের লাশের ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট। ৩১শে মে খাসাড়িপাড়া গ্রামের আব্দুল মুক্তাদিরের কনিষ্ঠপুত্র রূপকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। গত ঈদুল আজহার একদিন পর সাদিকুল ইসলাম রূপকের পৌর এলাকার খাসাড়িপাড়া থেকে নানাবাড়ি কোনাগ্রাম বেড়াতে যান তার মা, বোন, স্ত্রী ও দু’সন্তান। এ সময় রূপক তাদের সফরসঙ্গী না হলেও রাতে সেখানে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনেকবার ফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি নানা কারণ দেখিয়ে নানাবাড়ি যাননি। পরদিন ৩১শে মে বিকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরে তার কোনো সাড়া-শব্দ পাননি। একপর্যায়ে ঘরের ড্রয়িংরুমে প্রবেশ করলে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রূপকের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।

রূপকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ওঠে। দুই হাত পেছনে বাঁধা অবস্থায় একজন মানুষের মরদেহ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল কীভাবে? এদিকে, খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রূপকের মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। চিরকুটে শুধুমাত্র কয়েকজনের কাছে টাকা দেনা-পাওনার হিসাব লেখা ছিল, এমন কথা জানায় পুলিশ। পরদিন স্থানীয় মসজিদে জানাজা শেষে রূপকের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ইতিমধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা রূপকের মৃত্যু রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবিতে বিক্ষোভ, থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন। এ ঘটনায় রূপকের মা রাবিয়া বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বিয়ানীবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু হলেও রূপক মৃত্যু রহস্যের কূল-কিনারায় পৌঁছাতে পারেনি পুলিশ।

এরপর মামলাটি হস্তান্তর করা হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে। গত ২রা আগস্ট সিলেট পিবিআই ফের রূপক মৃত্যুর তদন্ত শুরু করে। কিন্তু পাঁচ মাসেও এ মামলার উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য মতে, পরিচিতজন ও আড্ডাসঙ্গীদের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনাসহ কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। তবে কাউকে সন্দেহভাজন হিসেবে চূড়ান্তভাবে শনাক্ত করা যায়নি। মামলার বাদী রাবিয়া বেগম বলেন, আমার পুয়ারে মারা অইছে। আমি তার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। সিলেট পিবিআইয়ের এসআই ও তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল আহাদ গতকাল জানান, আমরা গুরুত্বসহকারে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। এখনো আশানুরূপ কোনো তথ্য আমাদের হাতে নেই। ভিসেরা ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। রূপকের যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বড়ভাই জহুরুল ইসলাম ইপক বলেন, ‘আমি ‘নিজ-পর’ বুঝি না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আমার ভাইয়ের মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটন দেখতে চাই।