রেলওয়ের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন। গতকাল দুপুরে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় তিনি বলেন, রেলওয়ের বহরে পর্যায়ক্রমে যুক্ত হতে যাচ্ছে প্রায় ২০০টি নতুন কোচ। এসব কোচ দিয়ে নতুন ট্রেন চালুর পাশাপাশি পুরনো ও জরাজীর্ণ কোচ পরিবর্তন করা হবে। ইতিমধ্যে দেশে আনা নতুন কোচের একটি অংশ দিয়ে প্রাথমিকভাবে নতুন ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নতুন কোচের একটি অংশ ইতিমধ্যে দেশে এসে রেলবহরে যুক্ত হয়েছে। এসব কোচ দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে একটি নতুন ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে আরও কোচ দেশে আসার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নতুন ট্রেন চালু ও পুরনো কোচ প্রতিস্থাপনের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চালুর সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়। দেশের সব রেলপথ এখনো ব্রডগেজে রূপান্তরিত না হওয়ায় আপাতত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। রেলপথগুলো ব্রডগেজে রূপান্তরের পাশাপাশি দীর্ঘ এই রুটে পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যাবে কিনা, সেটিও যাচাই করতে হবে। পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণের বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে হলে ভারতের অংশেও রেলপথের সংযোগ থাকা প্রয়োজন। শুধু বাংলাদেশের অংশে রেললাইন নির্মাণ করা হলে প্রত্যাশিত আঞ্চলিক যোগাযোগের সুবিধা পাওয়া যাবে না।
দুই দেশের সম্মতি থাকলেই এ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া সম্ভব। বর্তমানে বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, রেলওয়ের বিভিন্ন স্টেশনের মালামাল ওঠানো-নামানোর সুবিধা ও যাত্রীদের চাহিদা সরজমিন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেসব স্টেশনে যাত্রী ও পরিবহন চাহিদা বেশি, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী রেললাইন সম্প্রসারণ, লুপ লাইন বৃদ্ধিসহ ট্রেনের কোচের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। পরিদর্শনকালে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জাহিদ হাসানসহ রেলওয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জেলা বিএনপি’র বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
