দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে থমকে গেছে আশরাফুলের জীবন

দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে থমকে গেছে আশরাফুলের জীবন

ফন্ট সাইজ:

১৮ বছরের তরুণ মো. আশরাফুল। সংসারে অভাব, ফলে খুব বেশি পড়ালেখা করা হয়নি। তাই অল্প বয়সেই শুরু করেছিলেন জীবিকার সংগ্রাম। স্বপ্ন ছিল নিজের উপার্জনে বাবার সঙ্গে অভাবের সংসারে হাল ধরবেন। তবে তা আর হয়ে ওঠেনি। এখন নিজেই পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে ওঠেছেন আশরাফুল। কয়েক মাস আগে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার ডান পা। দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে ন্যূনতম চিকিৎসাটুকুও মিলছে না। এমন পরিস্থিতিতে অসহ্য যন্ত্রণায় দিন কাটছে তার। আশরাফুল ভোলার লালমোহন উপজেলার স্লুইসগেট এলাকার বেড়িবাঁধের বাসিন্দা মো. বশিরের ছেলে। অন্যের জমিতে চাষাবাদ করে কোনোরকমে সংসার চালান কৃষক বশির। আশরাফুল জানান, কয়েক মাস আগে লালমোহন বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন।

এ সময় পৌর শহরের ডাকবাংলো এলাকায় পেছন থেকে একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেলচালক সড়কের পাশে ছিটকে পড়লেও আশরাফুল পড়ে যান ট্রাকের নিচে। ট্রাকের চাকা তার ডান পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখান থেকে ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। পরে তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা ডান পা কেটে ফেলার পরামর্শ দেন। এরপর তাকে পঙ্গু হাসপাতালেও নেয়া হয়। সেখানেও একই পরামর্শ দেয়া হয়। আশরাফুলের বাবা বলেন, ছেলের চিকিৎসার জন্য ধারদেনা করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করেছি। চিকিৎসকরা পা কেটে ফেলার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এত টাকা জোগাড় করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না।

যার জন্য টাকার অভাবে ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসি। এরপর এক আত্মীয়ের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী উপজেলার এক চিকিৎসকের কাছে নিলে তিনি ছেলের পায়ের পাতার অংশ কেটে ফেলেন। এরপর ওই চিকিৎসক বলেছিলেন, চিকিৎসা করালে বাকি অংশ ঠিক হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, আমি গরিব মানুষ। এখন ছেলের চিকিৎসা করানোর মতো টাকা এবং নিয়মিত ড্রেসিং করানোর সামর্থ্যও নেই। এজন্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, দেশের বিত্তবান এবং প্রবাসীদের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ বলেন, চিকিৎসা সহায়তার জন্য ওই পরিবারের পক্ষ থেকে ইউএনও’র কাছে আবেদন করলে কিছুটা আর্থিক সহায়তা পাবেন। এ ছাড়া তিনি প্রতিবন্ধী ভাতাও পাবেন। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র ও ভাতা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।