দিল্লির সমাবেশে পথে নামার ডাক রাহুল-মমতার, সমর্থন সিজেপির

দিল্লির সমাবেশে পথে নামার ডাক রাহুল-মমতার, সমর্থন সিজেপির

ফন্ট সাইজ:

ভোটচুরির প্রতিবাদে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট যে সমাবেশের ডাক দিয়েছে তাতে যোগ দেবার জন্য দলমত নির্বিশেষে সব ছাত্র সংগঠনকে যোগ দেয়ার ডাক দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। দুই নেতাই আলাদা আলাদাভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে এই আহ্বান জানিয়েছেন।

ইন্ডিয়া জোটের এই সমাবেশের প্রতি ইতোমধ্যে সমর্থন জানিয়েছে তেলাপোকা জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সম্ভবত তারাও ওই কর্মসূচিতে অংশ নেবে।
রোববারের সমাবেশ নিয়ে দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাড়িতে ইন্ডিয়া জোটের প্রতিনিধিরা বৃহস্পতিবার কর্মসূচির চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার সাবেক স্পিকার মীরা কুমার, কংগ্রেসের প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, জয়রাম রমেশ, নাসির হোসেন, মাণিকম ঠাকুর ও পবন খেরা।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের ডেরেক ও’ব্রায়েন, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মহুয়া মাজি এবং সমাজবাদী পার্টির হরেন্দ্র মালিক। সিদ্ধান্ত হয়েছে, সমাবেশে জনতার সংসদে জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট নিয়ে আলোচনা হবে।

বৃহস্পতিবার এক বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেছেন, এটা গণতন্ত্র বাঁচানোর, ‘ভোট চুরি’ আটকানোর এবং সংবিধান বাঁচানোর মিছিল। এটা কোনো একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মিছিল নয়।
যারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জ্ঞানেশ কুমারের ‘কাজকর্মে ক্ষুব্ধ’ এবং দেশের ‘গণতন্ত্র বাঁচাতে চান’— তারা সকলে ‘দিল্লি চলো’ অভিযানে যোগ দিব বলে আহ্বান জানিয়েছেন রাহুল।

দেশের সব ছাত্র সংগঠনের উদ্দেশে ‘দিল্লি চলো’ অভিযানে যোগ দেয়ার ডাক দিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা পুলিশের বা লাঠিচার্জের ভয় না পেয়ে সকলকে এগিয়ে আসার বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিজেপির আর ও সব করার সাহসও হবে না।

এ ছাড়া বৃহস্পতিবার সোশাল মিডিয়া পোস্টে মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘আর চুপ থাকবেন না। ভোটাধিকারই যখন লুটের মুখে, তখন তা নিয়ে চুপ থেকে লাভ নেই। বরং আসুন, গণতন্ত্র আর সংবিধান বাঁচাতে হাতে হাত ধরে দাঁড়াই সকলে।

মমতা বলেন, পশ্চিমবঙ্গ ও অন্যান্য রাজ্যে ভোট চুরির জবাব চায় জনতা, নিরুত্তর থাকলে চলবে না। আমি প্রত্যেক পড়ুয়া, যুব, মহিলা ও সমাজের বিশিষ্টদের কাছে আবেদন জানাই, আপনারাও এই কর্মসূচিতে শামিল হোন। আসুন, সংঘবদ্ধ হয়ে আমরা গণতন্ত্র ও সংবিধানকে বাঁচাই।

জানা গেছে, মমতা এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে শনিবারিই দিল্লি যাচ্ছেন। সেখানে তিনি ভাষণও দেবেন। সঙ্গে থাকবেন দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়।

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞনেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দিল্লিতে ধারাবাহিক বিক্ষোভ, প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট। একই দাবিতে সমান্তরাল কর্মসূচি চলেছে তেলাপোকা জনতা পার্টিরও।
এবারের বিরোধী জোটের কর্মসূচিতে ককরোচদের প্রতিনিধিত্ব থাকারও প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, ওই কর্মসূচিকে সিজেপি সমর্থন করছে।
“জ্ঞানুকে যেতেই হবেৃ দেশ সবার আগে,” বলেছেন তিনি।

‘ইন্ডিয়া’কে সমর্থনের বার্তা দিয়ে সিজেপি’র এক বিবৃতিও পোস্ট করেছেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। বিবৃতিতে সিজেপির বক্তব্য, আমাদের সংবিধান প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ভোটাধিকার দিয়েছে। কোনো যোগ্য নাগরিক যেন এই অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। তাই দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে যে সব সংগঠন লড়াই করছে, সিজেপি তাদের প্রত্যেককে সমর্থন জানাবে।
আগামী রোববারের সমাবেশ ঘিরে দিল্লি পুলিশ নানা শর্ত আরোপ করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে কংগ্রেস নেতৃত্বের আশা, দশ লাখের বেশি মানুষ এই সমাবেশে যোগ দেবেন।