পর্দা নামলো ৪০তম জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপের। টুর্নামেন্টের সমাপনী দিনে উর্মির প্রতিরোধ ভেঙে নারী এককে চ্যাম্পিয়ন হন নারায়ণগঞ্জের লিকা পোদ্দার। পুরুষ এককের ফাইনালে চোটের কারণে কোর্টে নামেননি আনসারের এস এম সিগত উল্লাহ। ওয়াকওভার পান সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার রজিন আহমেদ।
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ইনডোর স্টেডিয়ামে নারী এককের ফাইনালে রোমাঞ্চ ছড়ায়। নারায়াণগঞ্জের লিকা পোদ্দার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উর্মি আক্তারের মধ্যকার ফাইনালে প্রথম সেটে ২২-২০ পয়েন্টে জয় পান লিকা। তবে দ্বিতীয় সেটে ১১-২১ ব্যবধানে একচ্ছত্র দাপট দেখিয়ে ম্যাচে ফেরেন উর্মি। শেষ সেটে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়ে ২১-১৮ পয়েন্টে এককের সেরা হন লিকা। এদিকে দ্বৈত বিভাগের খেলায় পুরুষ ডাবলসে এক ঘণ্টারও বেশি সময়ের স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে জয় পায় আনসার। দলের মোয়াজ্জেম হোসেন ওহীদুল ও শুভ খন্দকার জুটি ২২-২৪, ২১-১৮, ২৬-২৪ পয়েন্টে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আল আমিন জুমার ও এস এম সিফাত উল্লাহ জুটিকে হারান। তবে নারী ডাবলসের শিরোপা গেছে সেনাবাহিনীর ঘরে। সেনাদলের বৃষ্টি খাতুন ও এস কে পৃথা জুটি ২৩-২১ ও ২১-১৭ পয়েন্টে নারায়ণগঞ্জের লিকা পোদ্দার ও স্মৃতি রাজবংশী জুটিকে সরাসরি সেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন। মিশ্র দ্বৈতে বাজিমাত সেনাবাহিনীর। এই বিভাগের ফাইনালে সেনাদলের আল আমিন জুমার ও উর্মি আক্তার জুটি ২১-১৭, ২১-১৪ পয়েন্টে হারান তামিম হাসান ও এস কে পৃথা জুটিকে। নারী এককে চ্যাম্পিয়ন হওয়া লিকা পোদ্দারের সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম ও কষ্টের গল্প। অভাবের সংসারে বাবা একজন সাধারণ মৎস্যজীবী। যিনি নদীতে মাছ ধরে কোনোমতে সংসার চালান। দুই বোন, বাবা ও মাকে নিয়ে গড়া চার সদস্যের পরিবারে হাল ধরতে হয় মংলা থেকে উঠে আসা ২৪ বছর বয়সী শাটলারকে। ম্যাচ জয়ের পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন লিকা। ভিডিও কলে মংলায় থাকা মায়ের সঙ্গে কথা বলার সময় কাঁদেন তিনি।
