যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে টানা সাত দিন ধরে বোমা হামলার সম্ভাব্য প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর ইরানের নেতৃত্ব, পারমাণবিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
এদিকে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযান ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে উপসাগরীয় দেশগুলো। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। সৌদি আরবও আলোচনার জন্য আরও সময় দিতে ওয়াশিংটনকে অনুরোধ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, ইরান ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় শেষ মুহূর্তের চেষ্টা চালাচ্ছে কাতার।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কর্মকর্তারা সম্ভাব্য সাত দিনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আলাদাভাবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মিত্র দেশকে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ এবং এর জবাবে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।
অ্যাক্সিওসের খবর অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি সমন্বয় করতে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে কথা বলেছেন ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল আইয়াল জামির।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান ‘শেষ করার’ অঙ্গীকার করেছেন। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, তেহরানের পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার বাইরেও ইসরাইলের লক্ষ্য রয়েছে।
গত ২০ অক্টোবর নেতানিয়াহু বলেন, অভিযান সম্পূর্ণ করার অর্থ হবে ইরানের নেতৃত্বের পতন ঘটানো। সরকার পরিবর্তনকে ইসরাইলের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলেও জানান নেতানিয়াহু।
তবে ইরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে ওয়াশিংটন সম্মত হয়েছে, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, নির্বাচনের পর স্বল্প সময়ের মধ্যে তীব্র সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এরইমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে পেন্টাগন। ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরি এবং মেরিন সেনা বহনকারী উভচর যুদ্ধজাহাজ আরব উপসাগরের দিকে পাঠানো হয়েছে।
এপি জানিয়েছে, এ মোতায়েনে প্রায় ৯ হাজার সামরিক সদস্য যুক্ত রয়েছেন। এর ফলে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ও মেরিন সেনার উপস্থিতি ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাদের সহায়তায় থাকবে শত শত সামরিক বিমান।
এদিকে পেন্টাগনের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফে কৌশল, পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণের দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়াকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
সিএনএন জানিয়েছে, তাকে সরিয়ে দেয়ার কোনো কারণ জানানো হয়নি। ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির মধ্যে এ সিদ্ধান্ত এলো।
আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা
নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরু হলে পুরো অঞ্চলে ইরানের পাল্টা আঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। এপি জানিয়েছে, জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় সতর্ক থাকতে আঞ্চলিক মিত্রদের অনুরোধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
কূটনীতিকদের আশঙ্কা, নতুন হামলার জবাবে ইরান এবং দেশটির মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এমন পাল্টা হামলা চালাতে পারে, যা প্রাথমিক সামরিক অভিযানের গণ্ডি ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়বে।
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলার মধ্যেই এ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব হামলার জবাবে হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় পাল্টা আঘাত হেনেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
