বেসরকারি এলপিজির বিভিন্ন পর্যায়ে অপারেটর চার্জ, ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ এবং রিটেইলার চার্জ বাড়ানোসহ ভোক্তাপর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। শুনানির ৯০ দিনের মধ্যে সুপারিশ ও মতামতের ভিত্তিতে নতুন দাম দেয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী মাসের শুরুতে নতুন দাম ঘোষণা দিতে পারে কমিশন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এই সুপারিশ করা হয়। বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, ইমপোর্ট প্যারিটি প্রাইস প্রতি কেজিতে বর্তমানে ১২৮ দশমিক ৪০ টাকা। নতুন প্রস্তাবনায় এটি ১১৭ দশমিক ১২ থেকে ১২৯ দশমিক ৫ টাকা করার কথা বলা হয়েছে এবং ১২৮ দশমিক ৭০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ (অপারেটরের প্লান্ট থেকে ডিস্ট্রিবিউটর পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ) চার্জ বর্তমানে প্রতি কেজিতে ১৬ দশমিক ৭৪ টাকা রয়েছে, এই চার্জ নতুন করে প্রস্তাব ২৭ দশমিক ৬২ থেকে ৩৬ দশমিক ৯২ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে কারিগরি কমিটি প্রতি কেজিতে ২৩ দশমিক ৪৮ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।
ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ (রিটেইলারের আঙিনা পর্যন্ত পরিবহন ব্যয়সহ) বর্তমানে প্রতি কেজিতে রয়েছে ৪ দশমিক ১৭ টাকা, যা প্রস্তাবনায় বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৩৪ থেকে ১২ দশমিক ৫০ টাকা করার কথা বলা হয়। তবে কারিগরি কমিটি ৬ দশমিক ৬৭ টাকা করার প্রস্তাব করেছে।
রিটেইলার চার্জ (হোম ডেলিভারি চার্জ ব্যতীত) বর্তমানে প্রতি কেজিতে ৩ দশমিক ৭৫ টাকা থাকলেও, প্রস্তাবিত হার ৫ দশমিক ৮৩ থেকে ৭ দশমিক ৫০ টাকা করার কথা বলা হয়। তবে কারিগরি কমিটি ৫ দশমিক ৮৩ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করে।
রিটেইলার পয়েন্টে সব খরচ মিলিয়ে রিটেইলার প্রতি কেজি এলপিজির বর্তমান মূল্য ১৫৩ দশমিক ৬ টাকা, যা প্রস্তাবে ১৫৮ দশমিক ৯১ থেকে ১৮৫ দশমিক ৯৭ টাকা করার কথা বলা হয়। তবে কারিগরি কমিটি প্রতি কেজি এলপিজি ১৬৪ দশমিক ৬৮ টাকা দাম নির্ধারণের সুপারিশ করে।
এসব ধরে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ করেছে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি।
এদিকে ক্যাবের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান শুনানিতে বলেন, এলপিজির দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সুবিধা অসুবিধা দেখা বিইআরসির দায়িত্ব। সেটি না হলে এই শুনানি সঠিক হবে না।
