ঢাকা উত্তর, দক্ষিণসহ দেশের ৬টি সিটি করপোরেশনে ৬ জন প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতের এই আদেশের ফলে নিয়োগপ্রাপ্ত ৬ প্রশাসক স্বাভাবিকভাবেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
এর আগে ঢাকা উত্তর, দক্ষিণসহ দেশের ৬টি সিটি করপোরেশনে ৬ জন পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন গত ২২ ফেব্রুয়ারি জারি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ। এই প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের ৬ জন আইনজীবী আবেদনকারী হয়ে গত ৪ মার্চ হাইকোর্টে রিট (রিট পিটিশন নম্বর ৩১৪৪/২০২৬) দায়ের করেন। আবেদনকারী আইনজীবীরা হলেন-মো. গোলাম কিবরিয়া, জিল্লুর রহমান, মো. আবু দাউদ নিজামী, মো. ইসমাঈল হোসেন, মো. আল মুত্তাকী বিল্লাহ ও সাইফুল্লাহ খালেদ। রিট আবেদনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব এবং ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, খুলনা, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার) বিবাদী করা হয়।
এদিন রিট আবেদনটি শুনানির জন্য আদালতের কার্যতালিকায় ৪৭ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। আদালতে রিটের পক্ষে আবেদনকারী আইনজীবী মো. গোলাম কিবরিয়া নিজে শুনানিতে অংশ নেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী।
শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি জানান, রিট আবেদনকারীদের বক্তব্য ছিল-বিশেষ পরিস্থিতিতে সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের যে আইনগত বিধান রয়েছে, বর্তমানে সেই বিশেষ পরিস্থিতি নেই; ফলে এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ঠিক হয়নি এবং নিয়োগগুলো অবৈধ। অ্যাটর্নি জেনারেল আরও জানান, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী শুনানিতে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে এবং নিযুক্ত প্রশাসকরা দৃশ্যমানভাবে ভালো কাজ করছেন। পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত আইনসিদ্ধভাবেই সরকার প্রশাসক নিয়োগ করার ক্ষমতা রাখে। এই বিশেষ পরিস্থিতি কতক্ষণ পর্যন্ত বহাল থাকবে বা থাকবে না, তা বিবেচনা করবে সরকার। রিটকারীদের তোলা মূল পয়েন্টটি আদালত গ্রহণ করেননি উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, রিট পিটিশনটি অপরিপক্ব বা ‘প্রিম্যাচিউর’ বলে উল্লেখ করে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন।
