ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, সবার সহযোগিতায় সুন্দরভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। আমরা অবশ্যই এই ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট। সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভোটগ্রহণ শেষে নির্বাচন কমিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ইসি সচিব। এর আগে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আসনটির সব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
ভোটের হার সম্পর্কে আখতার আহমেদ বলেন, দুপুর ২টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোট পড়েছে ৪৮ শতাংশ। বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটের হার আরও বাড়তে পারে। তবে প্রকৃত ভোটের হার জানা যাবে গণনা শেষে। তিনি জানান, ভোট গণনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং গণনা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফলাফল পাওয়া গেলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।
নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মের কোনো অভিযোগ রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, তার জানা মতে, এখন পর্যন্ত কোনো স্থান থেকে অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কার্ডে ছবি না থাকার অভিযোগ নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ওঠে। জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, এমন একটি অভিযোগ পাওয়ার পরপরই প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বিষয়টি যাচাই করতে বলা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় ভোটার তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে। কেন্দ্রে উপস্থিত প্রার্থীদের এজেন্টদেরও বিষয়টি বুঝিয়ে সন্তুষ্ট করা হয়েছে। ফলে ছবির অনুপস্থিতি নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কয়েকজন কম বয়সী শিক্ষার্থীর ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন ইসি সচিব। তিনি বলেন, ১৬ বছর বয়সীদের নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে। নিবন্ধন করলে তারা একটি কার্ড পান। এমন কয়েকজন সেই কার্ড নিয়ে ভোটকেন্দ্রে গেলেও ভোটার না হওয়ায় ভোট দিতে পারেননি।আখতার আহমেদ বলেন, কৌতূহল কিংবা দলীয় পরিচয়ের কারণে তারা কেন্দ্রে গিয়ে থাকতে পারেন। তবে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হয়েছে। এর সঙ্গে ভোটগ্রহণের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ‘মহাপরীক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘আমি যদি পাস না করতাম, তাহলে এতক্ষণ পর্যন্ত আপনাদের সঙ্গে কথা বললাম কেন? পাস করার দায়িত্বটা আমার, আর পাসের ব্যাপারে স্বীকৃতি দেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের। আপনারা সেই স্বীকৃতিটা দেবেন।’
