সুলভ সরকারি এলপিজি কোথায় যায়, কারা পায়

সহযোগীদের খবর

সুলভ সরকারি এলপিজি কোথায় যায়, কারা পায়

ফন্ট সাইজ:

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘সুলভ সরকারি এলপিজি কোথায় যায়, কারা পায়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা কারণে বেসরকারি এলপি গ্যাসের সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য সরকার যেখানে ১ হাজার ৯১৩ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে, সেখানে সরকারের নিজের কোম্পানি ‘এলপি গ্যাস লিমিটেড’-এর পণ্যটির নির্ধারিত দাম মাত্র ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা।

বাস্তবে অবশ্য ঢাকায় বেসরকারি এলপি গ্যাসের ১২ কেজি সিলিন্ডার কিনতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়েছে সম্প্রতি। সুলভ মূল্যের সরকারি এলপি গ্যাস সব সময় সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে একই পণ্যের দামে বিশাল পার্থক্যের কারণে চুরি, কালোবাজারিসহ নানা ধরনের অপরাধের জন্ম হচ্ছে। আর সরকারি কম দামের সুফল পাচ্ছে সমাজের সীমিত অংশ। তবে এখন পর্যন্ত সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা গ্যাসের পরিমাণ বেশ কম।

সরকারি পাইপলাইনের গ্যাসের অভাব এবং নগরায়ণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়ে চলায় দেশে বছর বছর বোতলীকৃত জ্বালানি এলপিজির চাহিদা বাড়ছে। বর্তমানে দেশে এলপিজির মাসিক চাহিদা ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে দেড় লাখ টনে ওঠানামা করছে। সেই হিসাবে দৈনিক চাহিদা ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টনের মধ্যে। আর সরকারি প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস লিমিটেডের বার্ষিক সক্ষমতা ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টন। অর্থাৎ সরকারি এলপিজি দিয়ে বার্ষিক চাহিদার মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ বা সারা দেশের ৩ থেকে ৫ দিনের চাহিদা পূরণ করা যায়।

সরকারি এলপিজির বড় একটি অংশ বিভিন্ন সরকারি বাহিনীকে সরবরাহ করা হয়। বাকি অংশ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার তালিকাভুক্ত ডিলারদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়।

পদ্মা অয়েল কোম্পানির বিপণন বিভাগের একজন কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে জানান, বাহিনীর বাইরের সিলিন্ডারগুলো রেশনিংয়ের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত ডিলারদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। একজন ডিলার সর্বনিম্ন ৫টি থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ সিলিন্ডার পেয়ে থাকেন।

গত ৫ আগস্টের বিতরণ তথ্য তুলে ধরে পদ্মা অয়েল কোম্পানির ওই কর্মকর্তা বলেন, এদিন ডিলারদের কাছে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৯০০, কক্সবাজার অঞ্চলে ১ হাজার ৫০০, ফেনী অঞ্চলে ৮০০, কুমিল্লা অঞ্চলে ৩৫০ এবং নোয়াখালী অঞ্চলে ৩৪০টি সিলিন্ডার বিতরণ করা হয়েছিল। সেপ্টেম্বর মাসে ডিলারদের মাধ্যমে সাড়ে ১২ কেজির ৪০ হাজার সিলিন্ডার বিক্রি করে কোম্পানিটি।

বিপণনে নেই নিয়ম-শৃঙ্খলার ছাপ

রাষ্ট্রীয় বিতরণ কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার সিলিন্ডার বিতরণের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত ডিলারদের মধ্যে বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম-শৃঙ্খলা নেই। অগ্রাধিকার নির্ধারণেও নেই কোনো নীতিমালা।

যেমন গত ৫ আগস্ট সিলেটের একজন ডিলার এক দিনে ১ হাজার ৪০০ সিলিন্ডার পেয়েছিলেন। একই দিন সেখানকার অন্যান্য ডিলারের মধ্যে কেউ মাত্র ১০টি আবার কেউ বা ১৫টি করে পেয়েছেন। ডিলারভেদে বরাদ্দের এমন পার্থক্যের সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি পদ্মা অয়েলের বিপণন বিভাগের কর্মকর্তারা।

এদিনই খুলনা অঞ্চলের জন্য মোট বরাদ্দ ছিল মাত্র ৫০০ সিলিন্ডার। তালিকাভুক্ত ডিলাররা সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ২৫টি করে সিলিন্ডার পেয়েছেন।কালোবাজারি হচ্ছে, অভিযোগ কোম্পানির বাজারে সুলভ মূল্যে ছাড়া সরকারি এলপিজি কালোবাজারির শিকার হচ্ছে বলে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে অভিযোগ করে চিঠি দিয়েছে এলপি গ্যাস লিমিটেড। এই সমস্যার সমাধানে পণ্যটির দাম বাড়িয়ে বেসরকারি এলপিজির কাছাকাছি নেওয়ার প্রস্তাব করেছে তারা। এ ক্ষেত্রে উৎপাদন মূল্য হিসাব না করে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এতে প্রকৃত নিম্ন আয়ের মানুষের সুলভে গ্যাস পাওয়ার সুযোগ সামান্য যা আছে, তা-ও শূন্যের কোঠায় নেমে যেতে পারে।

বিইআরসির কাছে করা আবেদনে এলপি গ্যাস কোম্পানি বলেছে, বেসরকারি সিলিন্ডারের তুলনায় বিপিসির সিলিন্ডারের দাম অনেক কম হওয়ায় সরকারি গ্যাস বেসরকারি সিলিন্ডারে ভরে (প্রক্রিয়াটি ক্রস ফিলিং নামে পরিচিত) নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি করা হয়। এতে প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকেরা কম দামে সরকারি এলপি গ্যাস পাচ্ছে না। এই বাস্তবতায় এলপি গ্যাস কোম্পানির প্রস্তাব, যেহেতু একমাত্র সরকারি শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) প্রোপেন এবং বিউটেন ৩৫: ৬৫ অনুপাতে মিশিয়ে এলপি গ্যাস তৈরি করা হয়, তাই বেসরকারি খাতের মতো সরকারি এলপিজির ক্ষেত্রেও দুটি উপাদানের সৌদি সিপি মূল্যের ভিত্তিতেই দাম নির্ধারণ করা উচিত।

প্রসঙ্গত, সৌদি সিপি (কনট্র্যাক্ট প্রাইস) হচ্ছে প্রতি মাসে সৌদি আরামকো কোম্পানির প্রতিমাসে ঘোষণা করা এলপিজি ক্রয়-বিক্রয়ের আনুষ্ঠানিক বৈশ্বিক মূল্যসূচক।

এলপি গ্যাস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. আমীর মাসুদ বলেন, তাঁদের উৎপাদন সক্ষমতা অনেক কম হওয়ায় গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। তিনি জানান, ইআরএল থেকে ১৬ হাজার টন ও কৈলাশটিলার জালালাবাদ গ্যাসফিল্ড থেকে প্রায় ৫ হাজার টন গ্যাস পাওয়া যায়। সংস্কারের পর ইআরএলের সক্ষমতা দ্বিগুণ হলে এলপিজির সরবরাহ সক্ষমতাও আরেকটু বাড়বে।

এলপি গ্যাস লিমিটেডের এমডির মতে, এলপিজির বাজারে বিপিসি বা কোনো সরকারি জ্বালানি কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে নেওয়া পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে।

দুই ডিলারের অভিজ্ঞতা

সরকারি বিতরণ কোম্পানি যমুনার তালিকাভুক্ত ডিলার হিসাবে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ব্যবসা করেন নাজির আহমেদ মোল্লা। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রতিমাসে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৭০টি সরকারি এলপিজি সিলিন্ডার তাঁর ভাগে আসে। তবে অনেক পুরোনো বলে সিলিন্ডারের মান বেশ খারাপ থাকে। কিছু সিলিন্ডারে লিকেজ থাকায় গ্যাস বের হয়ে যায়। তাই বাসাবাড়ির গ্রাহকেরা নেন না। এগুলো মূলত হোটেল-রেস্টুরেন্টের কাছেই বিক্রি করতে হয়।

বরাদ্দের কমবেশি প্রসঙ্গে নাজির মোল্লা বলেন, ২০০৯ সালের দিকে চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার বরাদ্দ পাওয়া যেত। কিন্তু একপর্যায়ে বরাদ্দ কমতে থাকে। মাঝখানে টানা দুই বছর সরকারি এলপি গ্যাস পাওয়া যায়নি। এখন আবার কিছুটা পাওয়া যাচ্ছে।

সরকারি এলপি গ্যাস বেসরকারি কোম্পানির বোতলে ভরে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ প্রসঙ্গে নাজির মোল্লা বলেন, ‘এটা কেবল সরকারি এলপি গ্যাসের ক্ষেত্রে নয়, অন্য কোম্পানির ক্ষেত্রেও এ রকম কথা শোনা যায়।’

আরেক ডিলার নারায়ণগঞ্জের সোনালী এন্টারপ্রাইজের পরিচালক জানান, তাঁর কাছে মাসে দু-একবার করে সরকারি এলপিজি সিলিন্ডার আসে। এগুলো দিনে দিনেই ভোক্তাদের কাছে চলে যায়।

সিলিন্ডারের গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সীমিত আয়ের চাকরিজীবী শাহে আলম বলেন, ‘সরকারি এলপিজির নামই কেবল শুনেছি। কিন্তু বাজারে কখনো এই সিলিন্ডার দেখি নাই। এগুলো কারা কোথায় বিক্রি করে, আর কারাই-বা কেনার সুযোগ পায়, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই।’

প্রথম আলো

‘দেশে ফল খাওয়া এখন বিলাসিতা’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের বাজারে বছর বছর ফলের দাম বেড়েছে। আর তা স্বল্প আয়ের মানুষের নাগালছাড়া হয়েছে।

ডেঙ্গু রোগীর পথ্য হিসেবে মাল্টার চাহিদা বেশি। রাজধানীর বাজারে ২০২০ সালের জুলাইয়ে এক কেজি মাল্টার দাম ছিল ১২০-১৫০ টাকা। একই মাল্টা এখন বিক্রি হয় ৩৫০-৩৮০ টাকা কেজি। গত সেপ্টেম্বরে দাম আরও চড়া ছিল। কেজি ছিল ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) একটি প্রতিবেদন বলছে, মাল্টা, আপেল, নাশপাতি ও আঙুরের ওপর বছর বছর শুল্ক–কর বাড়িয়েছে সরকার। ফলে সরকারের আয় বেড়েছে। কিন্তু এসব ফল মানুষের নাগালছাড়া হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিদেশি ফল যখন দামি হয়েছে, তখন দেশি ফল আর সস্তা থাকেনি। দেশি ফলের দামও বেড়েছে। যেমন এক হালি সাগর কলা ২০২০ সালের জুলাইয়ে ছিল ২০-২৫ টাকা। এখন তা ৪০-৫০ টাকা। আকারে ছোট হলে দাম কিছুটা কমে পাওয়া যায়। তবে চায়ের দোকান থেকে একটি সাগর কলা কিনে খেতে লাগে ১৫ টাকা।

প্রথম আলোতে গত ২১ সেপ্টেম্বর ফলের দাম নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। শিরোনাম ছিল ‘এখন একটি মাল্টা ১০০ টাকা, একটি ডাব ১৫০-২২০’। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ৩ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ফল ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি বৈঠক করে। এরপর ফলের শুল্ক–করভার এবং দাম নিয়ে একটি সুপারিশমূলক প্রতিবেদন তৈরির জন্য ট্যারিফ কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদনটি গত মঙ্গলবার জমা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে পাওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের তাজা ফল আমদানিতে শুল্ক–করকাঠামো বিবেচনা করা হলে দেখা যায়, তাজা ফল বিলাসজাতীয় পণ্যের শ্রেণিতে ফেলা হয়েছে। অর্থাৎ ফল খাওয়া এখন বিলাসিতা।

তাজা ফলে শুল্ক–কর কমানোর কোনো উদ্যোগ আছে কি না জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি (ফলের কর কমানো) নিয়ে সরকারি পর্যায়ে কাজ চলছে। এর বেশি আপাতত কিছু বলতে পারছি না।’

ফল খাওয়া কেন জরুরি

শরীরের পুষ্টির জন্য মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ও ফল খাওয়া জরুরি। সাধারণত মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়লে শর্করাজাতীয় খাবার, তথা ভাত খাওয়া কমে এবং মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ও ফল খাওয়া বাড়ে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয়-ব্যয় জরিপ-২০১০ অনুযায়ী, ওই সময় দেশে মাথাপিছু ফল গ্রহণ ছিল গড়ে ৪৫ গ্রাম। ২০১৬ সালের জরিপ অনুযায়ী, সেটা ৩৬ গ্রামে নামে। ২০২২ সালের জরিপ বলছে, ফল খাওয়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ৪ গ্রামে। যদিও বিবিএসের এই জরিপ নিয়ে প্রশ্ন আছে।

ফল খাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি কী, তা জানা সম্ভব হয়নি। কারণ, ২০২২ সালের পর আর খানা আয়-ব্যয় জরিপ হয়নি। তবে অনেকেই মনে করেন, মূল্যবৃদ্ধির কারণে ফল খাওয়া কমেছে।

পুষ্টিবিদ ও বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক এস কে রায় প্রথম আলোকে বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষ মাছ, মাংস, ডিম কম খাচ্ছে, ফলে ভিটামিন-মিনারেলের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, একজন মানুষের দৈনিক ৪০০ গ্রাম ফল খাওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশে মানুষ ফল খেতে পায় অনেক কম।

সরকারের আয় বাড়ে, ফল নাগালছাড়া হয়

ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে আপেল, কমলা, আঙুর, নাশপাতি, আনার ইত্যাদি ফলে আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) ইত্যাদি মিলিয়ে মোট করভার ছিল ৮৯ শতাংশ। অর্থাৎ ১০০ টাকার ফলে শুল্ক–কর ছিল ৮৯ টাকা। এরপর তা বাড়তে বাড়তে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ১২২ শতাংশ। মানে হলো, ১০০ টাকার ফলে ১২২ টাকা পায় সরকার।

ফলের এই করভার প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশে বেশি। আপেল/নাশপাতির ওপর ভারতে ৬০-৬১, পাকিস্তানে ৬০-৮০, নেপালে ২৫-৩৫ ও শ্রীলঙ্কায় ৫০-৬০ শতাংশ শুল্ক–কর রয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বৈঠকে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছিল। তাতে বলা হয়, ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের চেয়ে বাংলাদেশ আপেল, মাল্টা, কমলা ও আঙুরের দাম বেশি। ভারতে তখন আপেলের কেজি ছিল ১৫০-২২০ টাকা, পাকিস্তানে ১১০-১৭০ টাকা এবং নেপালে ১৬০-২৪০ টাকা। বাংলাদেশে তখন ছিল ৩৮০-৪৮০ টাকা।

ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে ফল থেকে সরকার রাজস্ব আয় করেছে ২ হাজার ৫৭০ টাকা টাকা। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা।

সরকারের রাজস্ব আয় বাড়লেও ফল আমদানি কমেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ ছিল ৮ লাখ মেট্রিক টন। তা সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৭১ হাজার টনে। আমদানি কমলেও সরকারের আয় বেড়ে দাম বেড়ে যাওয়ায়। অন্যদিকে শুল্ক–করের পাশাপাশি ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণেও ফলের দাম বেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বিদেশি ফলের আমদানি কমে গেলে প্রতিযোগিতা কমে। ফলে দেশি ফলের বিক্রেতারাও বাড়তি দাম আদায়ের সুযোগ পান।

অন্যদিকে অনেকে শারীরিক কারণে নির্দিষ্ট কিছু ফল খাওয়ার সুযোগ পান। যেমন অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গত সেপ্টেম্বরে প্রথম আলোকে বলছিলেন, তিনি আপেল ও নাশপাতি ছাড়া অন্য কোনো ফল খেতে পারেন না। অন্য ফল খেতে চিকিৎসক নিষেধ করেছেন।

শিশুরা অনেক সময় নির্দিষ্ট কিছু ফল ছাড়া অন্য ফল খেতে চায় না। ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা ওয়াহিদুর রহমান সেই সমস্যায় রয়েছেন। বেসরকারি এই চাকরিজীবী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ছয় বছরের ছেলে আপেল খেতে পছন্দ করে। প্রায়ই বলে বাবা আপেল এনো। আমি তো বলতে পারি না আপেলের কেজি ৪০০ টাকা, তা আনা যাবে না।’ তিনি বলেন, তিনটি পেয়ারায় এক কেজি হয়ে যায়। দাম ১২০ টাকা। প্রতিটির দাম পড়ে ৪০ টাকা। তাহলে দেশীয় ফলের দাম কম বলা যাবে কি?

শুল্ক কমানোর সুপারিশ

ট্যারিফ কমিশন ফলের শুল্ক–কর কমানোর সুপারিশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, দেশে আপেল, কমলা, আঙুর, নাশপাতি ও আনারের পর্যাপ্ত বাণিজ্যিক উৎপাদন নেই। ফলে শতভাগ আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়, যা দেশীয় কোনো উদ্যান শিল্পের সুরক্ষায় প্রতিযোগিতা তৈরি করে না। ফলের ওপর বিলাসদ্রব্যের মতো উচ্চহারে শুল্ক–কর আরোপ কোনো সুরক্ষামূলক শুল্কনীতিকে সমর্থন করে না, বরং স্থানীয় বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়ে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যকে সাধারণ ও নিম্ন-আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে ঠেলে দেয়। এতে বৈধ আমদানি কমে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান প্রথম আলোকে বলেন, ফলকে বিলাসপণ্য হিসেবে গণ্য করার কোনো মানে নেই। শুল্ক–কর বাড়ানো হয়েছিল ডলার–সংকটের কারণে। এখন সেই সংকট নেই। তাই ফলের শুল্ক–কর কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘যুদ্ধে তেল গ্যাস বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: দেড় লাখ কোটি টাকা লোকসানের শঙ্কা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বড় ক্ষত বিদ্যুৎ খাতে : বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রির জন্য পিডিবির লোকসানের পাল্লা দিনে দিনে ভারী হচ্ছে। ২০২৩-২৪ সালে পিডিবি লোকসান দিয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি (এর মধ্যে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ২৩ হাজার কোটি টাকা)। গেল অর্থবছরে এই লোকসান গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ থেকে ৪৫ হাজার কোটি টাকা (এর মধ্যে ভর্তুকি ৪৩ হাজার কোটি টাকা)। জুনে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মনে করা হয়েছিল বিদ্যুৎ খাতে লোকসান কিছুটা কমবে। কিন্তু তা না কমে বরং বেড়েছে। কারণ বিশ্ববাজারে বেড়েছে ফার্নেস অয়েল এবং কয়লার দাম। দেশে এখন দৈনিক বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হয় ১৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। এর মধ্যে কয়লা এবং ফার্নেস অয়েল দিয়ে উৎপাদিত হয় সাড়ে ৮ হাজার মেগাওয়াটের মতো। পিডিবি জানিয়েছে, আগে প্রতি টন ফার্নেস অয়েলের দাম ছিল ৩০০ থেকে ৩৫০ ডলার। এখন সেটি গিয়ে ঠেকেছে ৯০০ ডলারে। এর সঙ্গে ভ্যাট-ট্যাক্স ধরলে এখন ফার্নেস অয়েল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে প্রতি ইউনিটে খরচ পড়ে ৩১ টাকার মতো। একই সঙ্গে কয়লার আমদানি খরচ ও বেড়েছে। প্রতি টন কয়লার দাম এখন ১১০ ডলার থেকে বেড়ে ১৪০ ডলার পর্যন্ত উঠেছে। এ কারণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুতের দাম আগের চেয়ে বাড়বে। সব মিলিয়ে এই অর্থবছরে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার কোটি টাকার লোকসান হতে পারে পিডিবির।

সরকারি কর্মকর্তারা জানান, পিডিবি এখন প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রি করে ৮ দশমিক ১৯ টাকায় (এর মধ্যে ৩ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়)। আর প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ক্রয় মূল্য পড়ছে প্রায় ১৪ টাকা। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, অক্টোবর পর্যন্ত বিদ্যুৎ কেনার বিল পরিশোধের জন্য অর্থ বিভাগের কাছে ২৬ হাজার কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাওয়া গেছে ২০ হাজার কোটি টাকা।

দাম বাড়িয়েও স্বস্তিতে নেই বিপিসি: দেশে প্রতিবছর ৭০ লাখ টনের বেশি তেল আমদানি করা হয়। এর পুরোটাই এনে বিক্রি করে বিপিসি। আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি তেলের দাম। তাই লোকসান পুষিয়ে নিতে ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল এবং কেরোসিনে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। এতে করে অন্য সব জিনিসপত্রের দামও বেড়েছে। বিপিসি জানিয়েছে, বেশি দামে তেল কিনে কম দামে বিক্রির কারণে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিপিসি লোকসান দিয়েছে ২৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। দাম বাড়ানোর কারণে এখন এই লোকসান কিছুটা কমেছে। প্রতি মাসে লোকসান হচ্ছে ২ থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা।

বিপিসির এক হিসাবে বলেছে, এ বছর জানুয়ারিতে বিপিসি তেল আমদানির বিল দিয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। মার্চে ৪ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা, এপ্রিলে ৮ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা, মে মাসে ১৩ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের আগস্টে ১৪টি পার্সেল (জাহাজ) তেল আমদানি করে বিল দিয়েছে ২ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। সেখানে চলতি বছরের আগস্টে ১৮টি পার্সেল আমদানি করে বিল দেওয়া হয়েছে ৭ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে সেপ্টেম্বরে ১৮টি পার্সেল আমদানি করে বিল দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। এ বছর একই মাসে ১৭টি পার্সেল আমদানি করে বিল দেওয়া হয়েছে ৭ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ তেল আমদানির খরচ গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।

গ্যাস খাতের কি হবে: যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি ইউনিট এলএনজি বিশ্ববাজার বা কাতার, ওমান থেকে কেনা হত ৯-১০ ডলারে। সেই গ্যাস এখন কিনতে হচ্ছে ৩১ থেকে ৩২ ডলারে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার বা ওমান গ্যাস দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে (যুদ্ধের ফলে) বাংলাদেশ এখন বেশির ভাগ গ্যাস আমদানি করছে জাপান-কোরিয়া মার্কার বা জেকেএম থেকে। আগে এক কার্গো এলএনজি কিনতে পেট্রোবাংলাকে বিল দিতে হতো ৩ থেকে সাড়ে তিন কোটি ডলার। এখন সেই বিল গিয়ে ঠেকেছে ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারে। এর প্রভাব পড়বে গ্যাস সরবরাহে। এখন প্রতি ইউনিট (দেশি ও আমদানি করা গ্যাসের মিশ্রণ) গ্যাসের দাম পড়ছে ৫২ টাকা ১৮ পয়সা। আর বিক্রি করা হচ্ছে ২৩ টাকা ৯০ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি ইউনিটে সরকারের লোকসান ২৮ টাকা ২৮ পয়সা। গত অর্থবছরে প্রতি ইউনিট গ্যাস সরবরাহ ব্যয় ছিল ৪৬ টাকা ২৫ পয়সা। আর বিক্রি করা হয়েছে ২৩ টাকা ৯০ পয়সা অর্থাৎ প্রতি ইউনিটে সরকারের লোকসান হয়েছে ২২ টাকা ৩৫ পয়সা। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এলএনজি আমদানি করে লোকসান দেওয়া হয়েছিল ৬ হাজার কোটি টাকার মতো। গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) এই লোকসান হয়েছে ১৩ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা। আর নভেম্বর পর্যন্ত এই লোকসান হবে ২৫ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। এই ২৫ হাজার কোটি টাকা লোকসানের মধ্যে এখন পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ১৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। গ্যাসের দাম না কমলে চলতি অর্থবছরে গ্যাস খাতে লোকসান ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কালের কণ্ঠ

‘ভর্তুকির ফাঁদে সার আমদানি’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সার আমদানির ভর্তুকির টাকা সরকারের কাছে আটকে থাকায় ব্যাংকঋণ পরিশোধে চাপের মুখে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। এতে নতুন করে সার আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার অর্থায়ন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিএডিসির কাছে সরকারের ভর্তুকি বকেয়ার পরিমাণ ১০ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে নন-ইউরিয়া সার আমদানির বিপরীতে ব্যাংকগুলোর কাছে বিএডিসির দায় ২২ হাজার ৭৪২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো বিএডিসির এক চিঠিতে সরকারের কাছে ভর্তুকির পাওনা এবং ব্যাংক দায়ের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বিএডিসির নথি অনুযায়ী, এ পরিস্থিতিতে বকেয়া ঋণ পরিশোধে বিলম্বের কারণে নতুন করে এলসি খোলার অর্থায়ন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতে আসন্ন বোরো মৌসুমের আগে সময়মতো সার আমদানি, খালাস ও বিতরণ নিশ্চিত করা না গেলে কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু সার কেনার অনুমোদন দিলেই সরবরাহ নিশ্চিত হয় না। আমদানির অর্থায়ন, ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ এবং বন্দর থেকে গুদাম ও মাঠ পর্যায়ে সার পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়া সচল রাখতে হয়। তাই বোরো মৌসুমের প্রস্তুতির এই সময় ভর্তুকির বকেয়া পরিশোধ ও ব্যাংক দায় সমন্বয় জরুরি।

ভর্তুকি বকেয়া ১০ হাজার কোটি টাকা: বিএডিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. আজিজুল ইসলাম গত ১৪ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ভর্তুকির অর্থ জরুরি ভিত্তিতে ছাড়ের অনুরোধ জানিয়েছেন।

চিঠির তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় চুক্তির আওতায় ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আমদানি করা টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের প্রি-অডিট এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরের পোস্ট-অডিট প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকারি আদেশ (জিও) জারির পরও কিছু অর্থ পরিশোধের অপেক্ষায় রয়েছে। সব মিলিয়ে বকেয়া ভর্তুকির পরিমাণ ১০ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা।

এর মধ্যে ঋণপত্রের বিপরীতে ব্যাংকের মাধ্যমে নেওয়া ঋণ পরিশোধের জন্য ভর্তুকি বাবদ পাওনা ৯ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া স্থানীয় ব্যয় পরিশোধের জন্য বকেয়া রয়েছে ৪৪১ কোটি টাকা।

ব্যাংকের কাছে দায় ২২ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা : কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নন-ইউরিয়া সার আমদানির বিপরীতে বিএডিসির মোট ব্যাংক দায় ছিল ২২ হাজার ৭৪২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে চলমান ঋণপত্র (এলসি) দায় পাঁচ হাজার ৯৭৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং এলটিআর দায় ১৬ হাজার ৭৬৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

এলটিআর হলো আমদানি-পরবর্তী ব্যাংক অর্থায়নের একটি ব্যবস্থা। এতে ব্যাংক আমদানির মূল্য পরিশোধ করে পণ্য ছাড়ের সুযোগ দেয়। পরে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পণ্য বিক্রি বা ব্যবহার থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ করে। সময়মতো ঋণ পরিশোধ না হলে ব্যাংকের অর্থ আটকে গিয়ে নতুন আমদানির অর্থায়ন জটিল হয়ে ওঠে।

বিএডিসির জন্য সরকার মোট ৩৮ হাজার ৩৫০ কোটি টাকার কাউন্টার গ্যারান্টি বরাদ্দ রেখেছিল। এর বিপরীতে অবশিষ্ট রয়েছে ১৫ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ বরাদ্দ করা গ্যারান্টির বড় অংশ ইতিমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে অবশিষ্ট গ্যারান্টি থাকলেই নতুন এলসি খোলার জন্য সমপরিমাণ অর্থায়ন পাওয়া যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের অনুমোদন ও অন্যান্য শর্তও গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাংকভিত্তিক হিসাবে বিএডিসির সবচেয়ে বেশি দায় সোনালী ব্যাংকের কাছে। ব্যাংকটির ২৫ হাজার কোটি টাকার গ্যারান্টি সীমার বিপরীতে বিএডিসির মোট দায় ১৮ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এলসি দায় চার হাজার ২৫৮ কোটি টাকা এবং এলটিআর দায় ১৪ হাজার ৫১২ কোটি টাকা। ফলে ব্যাংকটিতে গ্যারান্টির অব্যবহৃত সীমা রয়েছে ছয় হাজার ২৩০ কোটি টাকা।

জনতা ব্যাংকে বিএডিসির মোট দায় এক হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে এলটিআর দায় এক হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। ব্র্যাক ব্যাংকে মোট দায় এক হাজার ১৫৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, যার মধ্যে এলটিআর দায় ৩৩৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। প্রাইম ব্যাংকে মোট দায় ৬৬২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যার মধ্যে এলটিআর দায় ৬৪৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। কৃষি ব্যাংকে এলসি দায় রয়েছে ৪৯৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘মেট্রোরেল প্রকল্পে কোরিয়ার অর্থায়ন নিয়ে জটিলতা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর পশ্চিম অংশ গাবতলী থেকে পূর্ব অংশ দাশেরকান্দি পর্যন্ত মেট্রোরেল যোগাযোগ উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্প এমআরটি-৫ (দক্ষিণ) বাস্তবায়ন নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। এর কারণ, প্রকল্পের যৌথ অর্থায়নকারী দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) থেকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগ করার পরও ঋণচুক্তির বিষয়ে কোনো সাড়া দিচ্ছে না কোরিয়া। এই জটিলতা কাটাতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কোরিয়া যাচ্ছেন আগামী শনিবার। অর্থমন্ত্রী বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সফরে রয়েছেন। সেখান থেকে সিউলে যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।

এমআরটি-৫ (দক্ষিণ) প্রকল্পে ১১০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার কথা ইডিসিএফের। স্থানীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। সম্ভাব্য ৪৭ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পে ৩০০ কোটি ডলার দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এডিবি ঋণচুক্তির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয়ের বাকি অর্থ ১৫ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব জোগান থেকে দেওয়ার কথা।

প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, মৌলিক প্রকৌশল নকশা, দরপত্র, ভূমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন-সংক্রান্ত পরিকল্পনার কাজ শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গত ১৬ সেপ্টেম্বর একনেক বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। অবশ্য এর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ ‍সালে। ২০২২ সালে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করা হয়। সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিস্তারিত নকশার জন্য মোট ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রকল্পটির অনুমোদন আটকে যায়। পরে ব্যয় কমিয়ে একনেকে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সাড়া না পাওয়ায় একনেকে ওঠানো যায়নি। অবশ্য, ওই সময় প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৫৫ হাজার কোটি টাকা। একনেকে অনুমোদনের আগে সাত হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা কমিয়ে ৪৭ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা করা হয়।

ইআরডি সূত্র জানায়, এমআরটি লাইন-৫ (দক্ষিণ) প্রকল্পে এডিবির সঙ্গে সহঅর্থায়নকারী হওয়ার জন্য কোরিয়া আগ্রহ দেখিয়েছিল। ইআরডির সঙ্গে আলোচনায় ১১০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানায়। নিয়ম অনুযায়ী একটি কাঠামো চুক্তিও হয়। সেভাবেই প্রকল্প তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এখন আর তারা সাড়া দিচ্ছে না। কোরিয়ার প্রস্তাবিত ঋণ নমনীয় বা সহজ শর্তের। সুদের হার মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। ১৫ বছরের রেয়াতকালসহ ৪০ বছরে এই ঋণ পরিশোধের কথা।

ইআরডির পক্ষে ইডিসিএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে থাকে সংস্থার এশিয়া উইং। এই উইংয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গত সোমবার সমকালকে বলেন, ঋণচুক্তির বিষয়ে গত কয়েক মাসে অন্তত চার দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে ইআরডির পক্ষ থেকে। কিন্তু কোনো জবাব আসেনি কোরিয়ার কাছ থেকে। ঢাকায় ইডিসিএফ বাংলাদেশ আবাসিক মিশনেও যোগাযোগ করা হয়। তবে মিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধান কার্যালয় থেকে কোনো জবাব না আসা পর্যন্ত তারা কিছু বলতে পারছে না। এ রকম একটা পরিস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন। অর্থমন্ত্রী এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান সফরে রয়েছেন। ২৯ অক্টোবর সরকারি সফর শেষ করার পরদিন তিনি দক্ষিণ কোরিয়া যাবেন। এর পর ৩১ অক্টোবর থেকে তাঁর সরকারি সফর শুরু হবে।

জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। মেট্রোরেল প্রকল্পের ঋণ নিয়ে আলোচনা ছাড়াও কোরিয়া সরকারের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা নিয়ে আলোচনা করবেন। তিনি স্যামসাং, এলজির মতো দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েকটি বড় কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

মেট্রোরেল-৫ (দক্ষিণ) লাইন প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী গাবতলী থেকে দাশেরকান্দিতে যাওয়া যাবে মাত্র ২৮ মিনিটে। পরিবহন ব্যয়ও কমবে। রুটে প্রতিদিন যাতায়াত করবেন ৯ লাখ ২৪ হাজার যাত্রী। প্রতিটি ট্রেনে যাত্রী ধারণক্ষমতা থাকবে দুই হাজার ৩১২ জন। মোট স্টেশন থাকবে ১৫টি।

গাবতলী থেকে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজগেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর, আফতাবনগর সেন্টার, আফতাবনগর পূর্ব, নাছিরাবাদ ও সর্বশেষ স্টেশন হবে দাশেরকান্দি। দৈর্ঘ্য হবে ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার পাতালপথ। উড়ালপথ ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার। পাতাল স্টেশন হবে ১১টি। উড়াল স্টেশন হবে চারটি।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সড়কে গাড়ি চলাচল কমবে এক হাজার ৪৯টি। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে বাতাসে দুই লাখ আট হাজার টন কার্বন নিঃসরণ কমাতে পারবে। ২০৩০ সালের জুনে এই মেট্রোরেল নগরবাসীর ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়ার কথা। তবে প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০৩২ সাল পর্যন্ত। এটি মেট্রো লাইন-৫ (উত্তর) ও মেট্রো লাইন-২-কে সংযুক্ত করবে। এর ফলে গোটা রাজধানীই মেট্রোরেল অবকাঠামোর আওতায় আসবে।

ইত্তেফাক

এবার আইইডিসিআরে ‘মব’ করে পরিচালককে মারধর—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, কোনোভাবেই ‘মবে’র সংস্কৃতি থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রী এবং পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বারবার মবের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হলেও এখন পর্যন্ত ‘মব’ বন্ধ করা যায়নি। সর্বশেষ গতকাল বুধবার রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে কক্ষের ভেতরে কাজী আহমেদকে মারধর করা হয়েছে। এর আগে গত সোমবার রাতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে পল্টনে সিপিবি কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়।

এর আগে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে সাতক্ষীরায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে কয়েক দফা মারধরের পর তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। সেখানে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। এর কয়েক দিন আগেই রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সামনে আসে বিএনপি থেকে নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যের নাম। এছাড়া, ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয়, আদালতেও একের পর মবের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ৫৩৭টি মবের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মারা গেছেন ২৫৬ জন আর আহত হয়েছেন ৫৭৫ জন। সংগঠনটি বলছে, গত বছর মবের এই সংখ্যা ছিল ৪২৮টি আর ২০২৪ সালে ছিল ১৬৯টি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মবের ঘটনা প্রকট হয়ে ওঠে।

গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে কয়েক জন লোক আইইডিসিআরের পরিচালকের কক্ষে প্রবেশ করে তাকে মারধর করে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি বলেছেন, বিএনপিপন্থি চিকিত্সকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীরা মব সৃষ্টি করে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কাজী আহমেদ নিজের কক্ষে কয়েক জন ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করছেন। এ সময় আট থেকে নয় জন লোক তার কক্ষে ঢোকেন। তারা কাজী আহমেদকে চেয়ার থেকে টেনে উঠিয়ে নিয়ে মারধর শুরু করেন। আইইডিসিআর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) মতো সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে।

বিএনপি সরকার আসার পর আইইডিসিআরের সর্বোচ্চ পদ, অর্থাত্ পরিচালক পদে অধ্যাপক কাজী আহমেদকে নিয়োগ দেয়। তিনি একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। সম্প্রতি হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে তিনি গবেষণা করেন। ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘ওর (কাজী আহমেদ) ও তো কিছু দোষ আছে।’ কী দোষ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই সরকারের সময় কাজী আহমেদ কী করে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার সঙ্গে তার নিজের অফিসে বৈঠক করে?’

জনস্বাস্থ্যবিদ মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর; রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ছিলেন। তিনি করোনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ব্রিফিং করে বেশ পরিচিতি পান। পরে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান। কাজী আহমেদকে মারধরের সময় তার কক্ষে উপস্থিত থাকা একজন বলেন, যারা মারধর করেছেন, তাদের তিনি আগে কখনো আইইডিসিআরে দেখেননি।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিরপেক্ষ হবে?’। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে সংসদের উচ্চকক্ষের স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার প্রস্তাব। প্রস্তাবটির পক্ষে যুক্তি হলো, উচ্চকক্ষের স্পিকারকে কেন্দ্র করে একটি আগাম নির্ধারিত সাংবিধানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে নির্বাচন সামনে রেখে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক দরকষাকষি ও অনিশ্চয়তা কমতে পারে। তবে এর বিপরীতে বড় প্রশ্ন উঠেছে-রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচিত একজন স্পিকার কিভাবে দলীয় প্রভাবমুক্ত থেকে নির্বাচনকালীন সরকারের নেতৃত্ব দেবেন?

সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, এর সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি, স্পিকার নিয়োগে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্মতি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বাছাইয়ের প্রক্রিয়া- সব মিলিয়ে প্রস্তাবটি এখন সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু কে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হবেন, তা নির্ধারণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; বরং নিয়োগপদ্ধতি, প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের বিধানও স্পষ্ট করতে হবে।

গত ২৪ ও ২৫ অক্টোবর সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির আলোচনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের একাধিক বিকল্প উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে- সংসদের উচ্চকক্ষের স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করা, সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্মতিতে স্পিকার নির্বাচন, উচ্চকক্ষের মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে উপদেষ্টা নিয়োগ এবং নিম্নকক্ষের সাথে উচ্চকক্ষের মেয়াদের পার্থক্য রাখা। বিকল্প হিসেবে স্পিকার বা ভাইস প্রেসিডেন্টকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান করার ধারণাও আলোচনায় এসেছে।

বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্যদিকে, জুলাই জাতীয় সনদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের জন্য সংসদীয় বাছাইপ্রক্রিয়ার প্রস্তাব রয়েছে। ফলে উচ্চকক্ষের স্পিকারকে প্রধান করার ধারণাটি বিদ্যমান প্রস্তাবের বিকল্প, নাকি এর সাথে সমন্বিত নতুন কাঠামো-তা এখনো স্পষ্ট নয়।

উচ্চকক্ষ গঠনেই নিরপেক্ষতার প্রশ্ন

প্রস্তাবটির কার্যকারিতা নির্ভর করবে উচ্চকক্ষ কতটা প্রতিনিধিত্বশীল ও দলীয় প্রভাবমুক্তভাবে গঠিত হচ্ছে, তার ওপর। জুলাই জাতীয় সনদে জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের ধারণা রয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি আসনসংখ্যার অনুপাতকে গুরুত্ব দিয়েছে। উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি নিয়ে এই মতপার্থক্য নিষ্পত্তি না হলে সেখান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নির্বাচনের প্রস্তাবও নতুন বিতর্কের মুখে পড়তে পারে। উচ্চকক্ষের মেয়াদ নিম্নকক্ষের চেয়ে আলাদা রাখার পক্ষে যুক্তি হলো, জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের মেয়াদ শেষ হলেও উচ্চকক্ষ বহাল থাকতে পারে। এতে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের জন্য একটি কার্যকর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পাওয়া সম্ভব। কিন্তু উচ্চকক্ষের সদস্যরাও যদি দলীয় হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে নির্বাচিত হন এবং দলীয় নেতৃত্বের প্রতি দায়বদ্ধ থাকেন, তাহলে কেবল দ্বিতীয় একটি কক্ষ গঠন করলেই নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হবে না।

স্পিকার নির্বাচনের পদ্ধতিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতাসীন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় স্পিকার নির্বাচিত হলে তার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। আবার সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্মতিতে স্পিকার নির্বাচনের বিধান থাকলে কোনো পক্ষ সমঝোতায় রাজি না হওয়ার কারণে অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, সমঝোতার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও সেই সমঝোতা নিশ্চিত করার কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থাও প্রয়োজন।

এখানে নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতিতে নির্বাচিত হওয়া একজন ব্যক্তি গ্রহণযোগ্যতা পেতে পারেন; কিন্তু প্রশাসন, পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের ওপর তার নেতৃত্ব কতটা নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ হবে, তা নির্ভর করবে সাংবিধানিক ক্ষমতা, আইনি সীমা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির ওপর।

স্পিকার মডেলের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি

প্রস্তাবটির সমর্থকরা মনে করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নিয়োগের পদ্ধতি আগে থেকেই সংবিধানে নির্ধারিত থাকলে নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমবে। উচ্চকক্ষের মেয়াদ পৃথক হলে নির্বাচনকালীন সময়ে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সক্রিয় থাকবে। পাশাপাশি সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্মতিতে স্পিকার এবং উপদেষ্টা নিয়োগের ব্যবস্থা করা গেলে একক দলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরতা কমতে পারে।

নিয়োগ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেটিও সংবিধানে নির্দিষ্ট করা সম্ভব। এতে শেষ মুহূর্তের দরকষাকষি কিংবা নিয়োগসংক্রান্ত অচলাবস্থা মোকাবেলায় একটি প্রাতিষ্ঠানিক পথ তৈরি হতে পারে।

বণিক বার্তা

‘বিশ্ব অর্থনীতির চালিকাশক্তি উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি, সর্বত্র পিছিয়ে বাংলাদেশ’—এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে, বৈশ্বিক আইসিটি সেবা রফতানিই ছিল প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের। আর ডিজিটাল মাধ্যমে সরবরাহযোগ্য বিভিন্ন সেবার রফতানি পৌঁছেছে ৪ দশমিক ৮ ট্রিলিয়নে।

বিশ্ব অর্থনীতির গতিপথ প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), সেমিকন্ডাক্টর, ব্লকচেইন, রোবোটিকস, বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) ও অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে ট্রিলিয়ন ডলারের নতুন বাজার। গড়ে উঠছে নতুন ধরনের কারখানা, প্রয়োজন হচ্ছে প্রযুক্তিগত জ্ঞানে দক্ষ মানবসম্পদ।

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনই যে বিশ্ব অর্থনীতির চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে, তার প্রতিফলন দেখা যায় দামি কোম্পানির তালিকাতে। বর্তমানে বিশ্বে বাজারমূল্যে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া, এরপর আইফোন নির্মাতা অ্যাপল, সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট, গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট, ই-কমার্স ও ক্লাউড সেবাদাতা অ্যামাজন এবং ইলোন মাস্কের স্পেসএক্স। তাইওয়ানের চিপ নির্মাতা টিএসএমসি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটা এবং সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির ব্রডকম, ইভির টেসলাও রয়েছে শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে।

প্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানি কোনো কোনো দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হয়ে ওঠার উদাহরণ দেখা যায়। দক্ষিণ কোরিয়ায় এ ভূমিকা রেখেছে স্যামসাং। দেশটির শিল্পায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তারা। সেমিকন্ডাক্টর, স্মার্টফোন, মেমোরি চিপ ও ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনকারী এ কোম্পানি দেশটির রফতানি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি গবেষণা এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।

বিশ্বের বৃহত্তম সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাইওয়ানের টিএসএমসি। কোম্পানিটি সে দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি। দেশটির জিডিপির প্রায় ১৩ শতাংশ টিএসএমসির অবদান।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) হিসাবে, ২০২৩ সালে ১৭ ধরনের ফ্রন্টিয়ার প্রযুক্তির সম্মিলিত বৈশ্বিক বাজার ছিল প্রায় ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০৩৩ সাল নাগাদ এ বাজার ১৬ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে শুধু এআইয়ের বাজারই ১৮৯ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ৪ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে, বৈশ্বিক আইসিটি সেবা রফতানিই ছিল প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের। আর ডিজিটাল মাধ্যমে সরবরাহযোগ্য বিভিন্ন সেবার রফতানি পৌঁছেছে ৪ দশমিক ৮ ট্রিলিয়নে।

বিশাল এ বাজারের বড় অংশ দখলে নিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যেও প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ২০২০-২৪ সময়কালে উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোয় ডিজিটাল খাতের নতুন প্রকল্পে ৫৩১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশই গেছে ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, চীন ও ব্রাজিলসহ ১০টি দেশে। এ দ্রুত সম্প্রসারণশীল প্রযুক্তি অর্থনীতিতে বাংলাদেশ প্রায় অনুপস্থিত। দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাত থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের আইসিটি সেবা রফতানি ছিল মাত্র ৭২৪ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশ এখনো দৃষ্টিগ্রাহ্য কোনো বাজার, প্রযুক্তি উদ্ভাবক, বিনিয়োগ ক্ষেত্র কিংবা উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তি রফতানিকারক—কোনোটিই হয়ে উঠতে পারেনি।

প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনাতেও বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। একই সময়ে ভারতের আইটি রফতানি ছিল প্রায় ২২৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার এবং পাকিস্তানের প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বাংলাদেশের তুলনায় পাকিস্তানের প্রযুক্তি সেবা রফতানি পাঁচ গুণেরও বেশি এবং ভারতের রফতানি তিনশ গুণের বেশি। এ ব্যবধান বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্যবসায় বাংলাদেশের যৎসামান্য অংশগ্রহণের চিত্রই তুলে ধরে।

উদ্ভাবনেও বাংলাদেশের অবস্থান তলানিতে। জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউআইপিও) গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স ২০২৬-এ ১৩৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৫তম। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে সবার নিচে।

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের সঙ্গে দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও গবেষণার সমন্বয় না থাকা উদ্ভাবনে পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) উপাচার্য আবদুল হান্নান চৌধুরী। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা এখনো ফলাফল ও সনদনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ রয়েছি। ফলে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, বিশ্লেষণী চিন্তা, উদ্ভাবনী দক্ষতা প্রত্যাশিত মাত্রায় গড়ে উঠছে না। এছাড়া শিল্প খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারের মধ্যে কার্যকর সংযোগের অভাব, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও পাঠদানের সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে চিন্তা ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টির পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকাও উদ্ভাবনের পথে বাধা।’

দেশ রূপান্তর

‘ডিজিটাল ব্যাংকের চ্যালেঞ্জ সাইবার নিরাপত্তা’—এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ব্যাংকের শাখায় যাওয়া ছাড়াই সেবা পাওয়া, ঘরে বসে টাকা জমা, স্থানান্তর ও ঋণ নেওয়ার সুযোগ গ্রহণ ডিজিটাল ব্যাংক চালু হলে গ্রাহকের সামনে এমন সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, গ্রামাঞ্চলের মানুষ ও প্রচলিত ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠী এর সুফল পেতে পারে। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে সাইবার নিরাপত্তা। গ্রাহকের তথ্য চুরি, অনলাইন প্রতারণা, ভুয়া পরিচয়ে হিসাব খোলা ও অননুমোদিত লেনদেনের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে না পারলে ডিজিটাল ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি কঠিন হবে।

২০২৩ সালে ডিজিটাল ব্যাংক চালুর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও নীতিমালা সংশোধনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে প্রক্রিয়া। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পাঁচটি প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংককে প্রাথমিক সম্মতিপত্র দেওয়া হয়। তবে প্রাথমিক অনুমোদন পেলেই কার্যক্রম শুরু করা যাবে না। নির্ধারিত শর্ত পূরণ ও চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়ার পরই ব্যাংকগুলো সেবা চালু করতে পারবে।

ডিজিটাল ব্যাংক চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজে ও কম খরচে ব্যাংকিং সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু শুধু অ্যাপ তৈরি ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তুললেই এ উদ্যোগ সফল হবে না। গ্রাহকের অর্থ ও তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঋণ বিতরণে সতর্কতা এবং প্রতারণার ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতাও থাকতে হবে।

ডিজিটাল ব্যাংকের নিজস্ব শাখা, উপশাখা, এটিএম বা সরাসরি কাউন্টার থাকবে না। মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহককে সেবা দেবে এসব ব্যাংক। ফলে হিসাব খোলা থেকে শুরু করে লেনদেন, অর্থ স্থানান্তর ও অন্যান্য কার্যক্রমের বড় অংশই প্রযুক্তিনির্ভর হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ৩০০ কোটি টাকা। তবে মূলধন সংগ্রহের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, দক্ষ জনবল, গ্রাহকের পরিচয় যাচাই এবং ঝুঁঁকি ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। প্রস্তাবিত ব্যাংকগুলোর সামনে এখন বড় কাজ হলো নিরাপদ প্রযুক্তি-অবকাঠামো তৈরি করা। সার্বক্ষণিক লেনদেন পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংরক্ষণ, অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকানো এবং কোনো কারণে সেবা বন্ধ হয়ে গেলে দ্রুত তা সচল করার প্রস্তুতি থাকতে হবে।

ডিজিটাল ব্যাংকের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি সাইবার অপরাধ। প্রতারকরা ভুয়া ফোন, বার্তা, ওয়েবসাইট কিংবা ক্ষতিকর অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকের গোপন তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। পাসওয়ার্ড বা এককালীন গোপন সংকেত চুরি করে হিসাবের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে। এ ছাড়া ব্যাংকের তথ্যভান্ডারে হামলা হলে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ও লেনদেনের বিবরণ চুরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কোনো ব্যাংকের সার্ভার বা নেটওয়ার্কে বড় ধরনের সমস্যা হলে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারেন। এতে ব্যক্তিগত লেনদেনের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রভাব পড়তে পারে। তৃতীয় পক্ষের প্রযুক্তিসেবার দুর্বলতাও ঝুঁকি বাড়ায়। ডিজিটাল ব্যাংক বিভিন্ন সফটওয়্যার, ক্লাউড সেবা ও অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে। এসব ব্যবস্থার কোনো দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা ব্যাংকের নেটওয়ার্কে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে।

ব্যাংকিং খাতে সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ‘সাইবার সিকিউরিটি ফ্রেমওয়ার্ক, ভার্সন ১.০’ জারি করেছে। ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ জারি করা এই কাঠামোয় ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর বাস্তবায়নের সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্যাংকিংয়ের সেবা-কাঠামোয় সাইবার ঝুঁকি শনাক্ত করা, তথ্য ও নেটওয়ার্ক সুরক্ষিত রাখা, হামলা দ্রুত শনাক্ত করা, ঘটনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিসেবা সরবরাহকারীদের নিরাপত্তা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষার বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

ডিজিটাল ব্যাংকের ক্ষেত্রে এসব নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। কারণ, প্রযুক্তিগত নিরাপত্তায় বড় ধরনের ঘাটতি থাকলে গ্রাহকের অর্থ ও তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একই সঙ্গে একটি ব্যাংকের ওপর সাইবার হামলার ঘটনা পুরো ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের বড় সুযোগ হলো ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা মানুষকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থায় যুক্ত করা। প্রচলিত ব্যাংকের শাখা স্থাপন ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছানো কঠিন। ডিজিটাল ব্যাংক এ ক্ষেত্রে বিকল্প হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডিজিটাল ব্যাংক আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও প্রচলিত ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা মানুষের কাছে সেবা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যাংকের ভূমিকা থাকতে পারে। তবে নতুন ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা জরুরি।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুরও ডিজিটাল ব্যাংকের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর সম্ভাবনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে এ উদ্যোগের সুফল পেতে আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিরাপদ লেনদেনের পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের প্রধান অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমানেরয মতে, ডিজিটাল আর্থিক সেবা পর্যাপ্ত ব্যাংকিং সুবিধা না পাওয়া জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে ঋণ বিতরণে সতর্কতা ও গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা করাটাও জরুরি বলে মনে করেন।

প্রচলিত ব্যাংকে গ্রাহক সমস্যায় পড়লে শাখায় গিয়ে কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে পারেন। কিন্তু শাখাবিহীন ব্যাংকে অভিযোগ গ্রহণ ও সমাধানের ব্যবস্থাও হতে হবে প্রযুক্তিনির্ভর। অননুমোদিত লেনদেনের অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং গ্রাহককে অগ্রগতি জানানোর ব্যবস্থা থাকা দরকার।

তবে ডিজিটাল ব্যাংক চালু হলেই প্রচলিত ব্যাংকের প্রয়োজন শেষ হবে না। বরং প্রযুক্তির মাধ্যমে ছোট অঙ্কের লেনদেন, সঞ্চয় ও ক্ষুদ্র ঋণের মতো সেবা সহজ করার সুযোগ তৈরি হবে। তবে যথাযথ যাচাই ছাড়া ঋণ বিতরণ করলে খেলাপি ঋণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, ডিজিটাল ব্যাংক দেশের আর্থিক খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। কিন্তু এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে অনুমোদন ও কার্যক্রম শুরুর পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, গ্রাহকের তথ্যের সুরক্ষা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করা না গেলে ডিজিটাল ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা অর্জন কঠিন হবে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘কীভাবে মিলল রাশিয়া যাওয়ার ছাড়পত্র’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে ইউক্রেনে যান গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের যুবক রিমেল মিয়া (২০)। পরে সেখান থেকে রাশিয়ায় গিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানে ৭০০ মার্কিন ডলার বেতনে কাজ শুরু করেন। কিছুদিন পর সেই কাজ হারিয়ে ফেলেন। বৈধভাবে রাশিয়ায় থাকার উপায় খুঁজতে গিয়ে রুশ ভাষায় লেখা একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। পরে জানতে পারেন সেটি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার চুক্তি ছিল। বর্তমানে তিনি ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে যুদ্ধবন্দি হিসেবে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। স্বজনদের দাবি, উচ্চ বেতন ও নাগরিকত্বের প্রলোভন দেখিয়ে মাত্র তিন দিনের নামমাত্র প্রশিক্ষণ শেষে রিমেলকে যুদ্ধের সম্মুখ সমরে পাঠিয়ে দেয় রুশ বাহিনী। প্রায় এক মাস দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর তিনি ইউক্রেনীয় বাহিনীর কাছে বন্দি হন। পরে ইউক্রেনের একটি আটক কেন্দ্র থেকে জুমের মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিমেল বলেন, আমার পরিবার জানত না আমি কোথায় আছি বা বেঁচে আছি কি না। এ সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তারা অন্তত জানতে পারল যে আমি এখনো বেঁচে আছি।

শুধু রিমেল মিয়াই নন, উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে পড়ে রাশিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছেন বহু বাংলাদেশি। তবে রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের ঠাঁই হচ্ছে যুদ্ধের সম্মুখ সারিতে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নির্মাণশ্রমিক, চালক, ইলেকট্রিশিয়ান কিংবা কারিগরি পেশায় চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসব কর্মীকে রাশিয়ায় নেওয়া হয়। এরপর জোর করে স্বাক্ষর করানো হয় রুশ ভাষায় লেখা সামরিক চুক্তিতে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কেড়ে নেওয়া হয় পাসপোর্ট ও মুঠোফোন। একপর্যায়ে নামমাত্র প্রশিক্ষণ শেষে তাদের পাঠানো হয় ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে। গত তিন বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অন্তত ৫৬ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশিসহ ২৯টি দেশের নাগরিককে প্রতারণা ও জবরদস্তির মাধ্যমে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘের ইউক্রেনবিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বিদেশি নাগরিকদের বেসামরিক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় নেওয়ার পর অনেককে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে। তাদের অনেকে নিহত হয়েছেন, আবার অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।’

বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে এ ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় গিয়ে বাংলাদেশিদের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার তথ্য উঠে এসেছে। গত তিন বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে অন্তত ৫৬ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ জাতিসংঘের তদন্তে বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানব পাচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ হিসেবে সামনে এসেছে।

চলতি মাসে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) জানায়, নির্মাণশ্রমিক হিসেবে রাশিয়ায় যাওয়া ৩০ বাংলাদেশিকে যুদ্ধে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৭ জন যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার প্রথম দিনেই ড্রোন হামলায় নিহত হন। অন্য তিনজন পরে মারা যান। ওই ৩০ জনের মধ্যে দুজন দেশে ফিরেছেন, দুজন মস্কোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ছয়জন এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন। এ ঘটনায় তিন রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্ত করেছে সরকার। সেগুলো হলো-আরএস ইন্টারন্যাশনাল, জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও টিএস ওভারসিজ লিমিটেড। এ ছাড়া দুই কথিত নিয়োগকারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন ব্র্যাকের মাইগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, বেসামরিক চাকরির জন্য বৈধ ভিসা নিয়ে রাশিয়ায় যাওয়া কর্মীদের দেশটির সামরিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। তাদের একজনকে মোটরচালিত রাইফেলধারী সেনা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার নথিও রয়েছে। এ ঘটনায় শুধু রিক্রুটং এজেন্সির প্রতারণা নয়, বাংলাদেশের অভিবাসন ছাড়পত্র ও নিয়োগকর্তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার ওরেনবুর্গভিত্তিক প্রো টেকনোলজিস নামের একটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি কর্মীদের নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান পদে মাসে আড়াই লাখ রুবল বেতনের প্রস্তাব দিয়েছিল। কর্মীদের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হবে না লিখিত নিশ্চয়তা দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে পরবর্তী সময়ে অন্তত একজন বাংলাদেশি কর্মীকে রুশ সামরিক বাহিনীর মোটরাইজড রাইফেলম্যান পদে নিয়োগের নথি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৩০ জনের মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।