নির্বাচনের পরও অনিশ্চয়তা, ফের ভোটের পথে ইসরাইল?

নির্বাচনের পরও অনিশ্চয়তা, ফের ভোটের পথে ইসরাইল?

ফন্ট সাইজ:

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার মিত্ররা এবারের নির্বাচনে পার্লামেন্টে সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নেতানিয়াহু কিংবা তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট—কেউই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের স্পষ্ট পথ দেখতে পাচ্ছেন না।
এখনো ভোট গণনা চলছে। এরপর সরকার গঠনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হতে পারে। এসব আলোচনা ব্যর্থ হলে ইসরাইলে আবারও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

কখন জানা যাবে নির্বাচনে কে জিতেছে?

ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি বুধবার থেকেই ভোট গণনা শুরুর করেছে। দেশটির নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল জানতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
ইসরাইলি সেনাসদস্য এবং দেশের বাইরে থেকে ভোট দেয়া কূটনীতিকদের কয়েক লাখ ব্যালটও গণনা করবে নির্বাচন কমিটি।

প্রধান ইসরাইলি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রকাশিত বুথফেরত জরিপের পর এই গণনা শুরু হয়েছে। এসব জরিপ থেকে বিভিন্ন দলের আপেক্ষিক অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে সুনির্দিষ্ট ফলাফলের নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস হিসেবে এগুলোকে বিবেচনা করা হয় না। বিশেষ করে ইসরাইলের মতো বিভক্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বুথফেরত জরিপের ফলাফলের সঙ্গে চূড়ান্ত ফলাফলের পার্থক্য থাকতে পারে।

৩০ অক্টোবরের মধ্যে ভোট গণনা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের এক সপ্তাহ পর, ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

কেন ফলাফল নির্ধারণ এত জটিল?

ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের আসনগুলো জাতীয় পর্যায়ে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হয়। আসন পেতে হলে কোনো দলকে জাতীয় ভোটের অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ পেতে হয়।

প্রায় এক ডজন রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে প্রয়োজনীয় ভোটের সীমা অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে চূড়ান্ত ভোট গণনা ও আসন বণ্টনে সময় লাগবে।

ফলাফল প্রকাশের পর কী হবে?

ভোট গণনা শেষ হলে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তারা কাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান, তা জানতে চাইবেন তিনি। এরপর যার সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করবেন, তাকেই সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন প্রেসিডেন্ট। মনোনীত প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য সর্বোচ্চ ৪২ দিন সময় পাবেন।

ইসরাইলের ইতিহাসে কোনো একক রাজনৈতিক দল কখনোই পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। তাই সেখানে সাধারণত একাধিক দলের সমন্বয়ে জোট সরকার গঠিত হয়। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা প্রায়ই কয়েক সপ্তাহ ধরে চলে।

সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নেসেটের প্রতিটি আসন গুরুত্বপূর্ণ। ছোট দলগুলোও জোট গঠনের সমীকরণে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের সমর্থনের ওপরই অনেক সময় সরকার গঠন নির্ভর করে।
মনোনীত প্রার্থী সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে অন্য কাউকে সেই সুযোগ দেয়া হতে পারে। শেষ পর্যন্ত কেউ সরকার গঠন করতে না পারলে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া হবে। ততদিন বর্তমান মন্ত্রিসভা অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।