স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ওপর ইসরাইলি কোম্পানির গুপ্তচরবৃত্তি

রয়টার্স এক্সক্লুসিভ

স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ওপর ইসরাইলি কোম্পানির গুপ্তচরবৃত্তি

ফন্ট সাইজ:

একটি ইসরাইলি কোম্পানি স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ওপর গোপনে নজরদারি চালিয়েছে। কোম্পানিটির নাম ডিসকভার-টেক। তারা মূলত বিজ্ঞাপন প্রযুক্তির মাধ্যমে এই গুপ্তচরবৃত্তি করছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডএআই-এর গবেষকরা এই তথ্য জানান। অনুসন্ধানের সময় তারা দেখেন, স্টারলিংকের ট্রাফিকে বিজ্ঞাপন দেয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানিটি সবচেয়ে বেশি দর হাঁকিয়েছে। বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে তারা এই কাজ করছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানি ট্রেন্ড মাইক্রোর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডএআই জানায়, স্পেসএক্সের স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের দেখানো ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের অন্যতম বড় উৎস ছিল ইসরাইলের এই কোম্পানি। ব্যবহারকারীদের অবস্থান শনাক্ত করতে বা তাদের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালাতেই এই বিজ্ঞাপনগুলো ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেসব দেশে স্টারলিংকের ব্যবহার নিষিদ্ধ বা সীমিত, সেখানেও বিজ্ঞাপনদাতাদের তালিকায় শীর্ষে ছিল কোম্পানিটি। স্পেসএক্স বা ডিসকভার-টেকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

ট্রেন্ডএআই গত ১৫ই অক্টোবর স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে আইনি জটিলতা এড়াতে তারা ডিসকভার-টেকের নাম উল্লেখ না করে ‘শ্যাডো-আর্থ-৭৯’ ছদ্মনাম ব্যবহার করে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, এটি আসলে ডিসকভার-টেক। স্টারলিংকের টার্মিনালগুলো জাতীয় টেলিযোগাযোগের পরিবর্তে স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ডেটা আদান-প্রদান করে। ফলে এগুলো স্থানীয় ইন্টারনেট বিধিনিষেধ এড়িয়ে কাজ করতে পারে। এ কারণে স্টারলিংক ট্র্যাক করার বিষয়টি এখন বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কানাডার সিটিজেন ল্যাব এবং নিউইয়র্কের কনফিয়ান্টও ডিসকভার-টেকের নাম প্রকাশ করেছে। তারা জানায়, এই ইসরাইলি কোম্পানি বিজ্ঞাপন নিলাম প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহ করছিল। এসব অভিযোগের পর গুগল ও কমকাস্ট তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে ডিসকভার-টেককে সরিয়ে দিয়েছে। ট্রেন্ডএআই জানিয়েছে, বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের কোনো চাহিদা না থাকলেও সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেন এবং দক্ষিণ সুদানে সবচেয়ে বেশি বিজ্ঞাপন কিনেছিল এই ইসরাইলি কোম্পানি।