ব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে যুক্তরাষ্ট্রে পালালেন ফ্লাভিও বলসোনারো

ব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে যুক্তরাষ্ট্রে পালালেন ফ্লাভিও বলসোনারো

ফন্ট সাইজ:

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। এরপর ব্রাজিল ছেড়ে পালিয়েছেন ডানপন্থি প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। পাড়ি জমিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। অথচ তার দেশত্যাগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ের বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও রোববারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন। তার দল পরাজয় মেনে নিলেও ব্যক্তি ফ্লাভিও পরাজয় স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। সোমবার ডানপন্থি এই সিনেটর বলেন, সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি তাকে পাসপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। নির্বাচনে পরাজয়ের ফলে তিনি সংসদীয় দায়মুক্তিও হারাতে যাচ্ছেন। সিএনএন ও ওয়াশিংটন পোস্ট মঙ্গলবার জানিয়েছে, একটি সূত্রের বরাতে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে, ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন। তবে তিনি কোথায় অবতরণ করেছেন, তা জানা যায়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্লাভিও ও তার পরিবারের সদস্যদের ভিসা দেয়া হবে। তবে তার ভ্রমণ পরিকল্পনা সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি মন্ত্রণালয়।

ব্রাজিলের এক পুলিশ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, ফ্লাভিওর ব্রাজিলীয় ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, ফ্লাভিও বলসোনারোর দেশত্যাগের কোনো আনুষ্ঠানিক নথি নেই। তবে ২০২৩ সাল থেকে তার ইতালীয় নাগরিকত্ব রয়েছে বলে এএফপির হাতে আসা ইতালির সংসদীয় একটি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ফ্লাভিওর নির্বাচনী প্রচার ব্যবস্থাপক রজেরিও মরিনহো ব্রাজিল ছেড়ে তার চলে যাওয়ার খবর শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার ব্রাসিলিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তিনি এখন কোথায় আছেন, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো খবর নেই। মরিনহো বলেন, ‘আজ সকালে (মঙ্গলবার) তার কাছ থেকে আমি একটি খুদে বার্তা পেয়েছি। সেখানে তিনি বলেছেন, কিছু সময় অপেক্ষা করবেন, এরপর আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন। এটুকুই। তিনি আরও বলেন, তার সঙ্গে আমাদের এটাই ছিল একমাত্র যোগাযোগ। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট লুলা। ব্রাসিলিয়ায় নিজের ৮১তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নিজের দেশ থেকে লুকিয়ে চলে যায়, তার নিশ্চয়ই কিছু লুকানোর আছে। ব্রাজিল ছেড়ে চলে যাওয়ার এই কাজ লজ্জাজনক।

সোমবার ফ্লাভিও বলেন, ব্রাজিল ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বলেন, দেশ ছাড়ার কোনো ইচ্ছাই আমার কখনো ছিল না। ফ্লাভিওর পরাজয়ের পর সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ব্রাজিলের নির্বাচনকে ‘কারচুপিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন। জায়ের বলসোনারোর সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ফ্লাভিওর ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সাবেক আইনপ্রণেতা। হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। গত সপ্তাহে একটি মার্কিন পডকাস্টে এদুয়ার্দো বলেন, নির্বাচনে পরাজিত হলে ফ্লাভিওর ব্রাজিল ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত। কারণ, তার কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত চলছে। সোমবারের বিবৃতিতে লুলার এই প্রতিদ্বন্দ্বী আরও বলেন, তিনি বামপন্থি সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলকে নেতৃত্ব দেবেন। নির্বাচনে ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন লুলা। এরপর ফ্লাভিও ফল বাতিলের উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান।

তার দাবি, পরিবহনসংক্রান্ত সমস্যার কারণে কিছু ভোটার ভোট দিতে পারেননি। এ পরিস্থিতিতে ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কারণে নির্বাচনের ফল বাতিল করা উচিত। ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেছিলেন লুলা। দেশের কয়েকটি অঞ্চলে খারাপ আবহাওয়ার কারণে একই অনুরোধ করেছিলেন বলসোনারোও। চলতি মাসের শুরুর দিকে নির্বাচনের প্রথম দফায় এগিয়ে থাকার পর ফ্লাভিও বলসোনারোর জয়ের সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছিল। প্রচারণায় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় গেলে তার বাবাকে মুক্ত করবেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ের বলসোনারো বর্তমানে গৃহবন্দি। তিনি কখনোই নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেননি। প্রতিদ্বন্দ্বী লুলার শপথ গ্রহণের আগের দিন তিনি ব্রাজিল ছেড়ে চলে যান। তিন মাস পর দেশে ফেরেন।

এদিকে, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট ফ্লাভিওর নির্বাচনী প্রচারে বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘কারসাজি’র মতো বিদেশি হস্তক্ষেপের ঘটনা তদন্তের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। লুলার নির্বাচনী প্রচারশিবির অভিযোগ করে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে। তাদের দাবি, অ্যালগরিদম ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে নির্বাচনে কোনো পক্ষকে সুবিধা দিতে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে মেটা। যদিও এর আগে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে লুলার নির্বাচনী প্রচারের কিছু বিজ্ঞাপন ভুলবশত নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছিল।