আইজিপি’র বক্তব্যে বিব্রত সরকার

ক্র স ফা য়া র

আইজিপি’র বক্তব্যে বিব্রত সরকার

ফন্ট সাইজ:

‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে’- পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের এমন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। বলেছেন- আইজিপি’র এমন বক্তব্য দেয়া ঠিক হয়নি। ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স। আইজিপি’র বক্তব্যে সরকার বিব্রত। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আইজিপি’র বক্তব্যের বিষয়ে গতকাল পৃথক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে সরকার জিরো টলারেন্স অবস্থানে আছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ঠিক হয়নি। তিনি অসতর্কতাবশত এই বক্তব্য দিয়েছেন বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আইজিপি’র বক্তব্যের বিষয়ে একটি গণমাধ্যমকে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উনি (আইজিপি) সহজ-সরল মানুষ। আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়ে বলতে গিয়ে অসতর্কতাবশত বলে ফেলেছেন। এটা ঠিক হয়নি, উচিত হয়নি।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার তো ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স। সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে দেবে না, এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন সরকারের প্রধান লক্ষ্য এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এ পর্যন্ত ক্রসফায়ারে মৃত্যু এবং হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, পুলিশপ্রধান সরকারের অংশ। তিনি আবার ক্রসফায়ারের কথা বলেন কি করে। যদি স্লিপ অব টাং করে বলেন তাহলে ভিন্ন কথা। কিন্তু এটা তো সরকারকে বিব্রত করার মতো অবস্থা। যে ১৭ বছর আমরা এই ক্রসফায়ার, গুম, গুপ্তহত্যা, রক্তঝরানো অমানবিক দুঃশাসন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পরিণতিতে ৫ই আগস্ট পেলাম। এরপর নির্বাচনের মধ্যদিয়ে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলেন। সবার প্রত্যাশা একটি মানবিক বাংলাদেশ- সেখানে একটি বাহিনীর প্রধান হয়ে আপনার মুখ দিয়ে এ ধরনের কথা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। তিনি বলেন, এই আইন দিয়ে অপরাধ দমন সম্ভব। ‘পুলিশ বাহিনীতে অনেক সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন, তাদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দিলে সমাজ থেকে অপরাধ দূর করা সম্ভব। তিনি বলেন, সস্তা ক্রেডিট নেয়ার জন্য কথা বললে দেশের ক্ষতি হবে এবং সরকারের ভাবমূর্তির ওপর আঘাত আসবে।

ওদিকে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আইজিপি’র ‘ক্রসফায়ার’ ইস্যু এবং সাংবাদিকদের নিয়ে অশোভন মন্তব্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জাপান সফর শেষে দেশে ফেরার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর পরবর্তী সময়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে আইজিপি তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ক্রসফায়ার করবেন বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড করবেন, তার বক্তব্য থেকে এমন ব্যাখ্যা কেউ কেউ করেছেন। পরে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে পরিষ্কার করেছেন, কেন ও কী উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলেছেন। তিনি অবশ্যই এমনটি বোঝাতে চাননি। জাহেদ উর রহমান বলেন, এ নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা কেটে যাওয়া উচিত। কারণ, আইজিপি এসব বক্তব্যের কোনোটিই নিজের অবস্থান হিসেবে ধরে রাখেননি, বরং সেখান থেকে সরে এসেছেন।