ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়, ভোগান্তি

ফন্ট সাইজ:

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গতকাল ঢাকার পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ও চট্টগ্রামের কিছু অংশে হঠাৎ বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এতে এসব এলাকায় ভোগান্তিতে পড়েন গ্রাহকরা। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিবি)।
এদিকে, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিবি) জানিয়েছে, গতকাল দুপুর আড়াইটায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সৃষ্ট বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিরসনে জাতীয় গ্রিডের পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে গ্রিড পুনরুদ্ধারের কাজ শেষ হয়। বর্তমানে দেশের সব বিদ্যুৎ গ্রিড লাইন ও গ্রিড উপকেন্দ্র চালু রয়েছে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করায় উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষিপ্ত লোডশেডিং কমে আসবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এটিকে সাময়িক অসুবিধা উল্লেখ করে কোম্পানিটি গ্রাহকদের কাছে দুঃখও প্রকাশ করেছে। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল ও স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে করণীয় সম্পর্কে মতামত ও সুপারিশমালা প্রণয়নে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ। প্রধান প্রকৌশলী (অতিঃ দায়িত্ব), সঞ্চালন-২ এর সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে পাওয়ার গ্রিড জানিয়েছে।
গতকাল দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটের দিকে রাজধানী ঢাকার পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ও চট্টগ্রামের কিছু অংশে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়া এলাকাগুলোর মধ্যে ছিল ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিল। এ ছাড়া মগবাজার, বনশ্রী, খিলগাঁও, মালিবাগ, শান্তিনগর ও মধুবাগসহ রাজধানীর আরও কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া সচিবালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। একযোগে এসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মেঘনাঘাট-হরিপুর জাতীয় গ্রিড লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়ায় রাজধানীসহ অন্যান্য এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে।
জানা যায়, বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরপরই জাতীয় গ্রিডের সিস্টেম পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। ন্যাশনাল লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) নিয়ন্ত্রণে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরে দুপুর আড়াইটায় জাতীয় গ্রিডের পুনরুদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৬০১ মেগাওয়াট। ওই সময় উৎপাদন হয় ১৪ হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ঘাটতি ছিল ২৯৮ মেগাওয়াট। তবে এই ঘাটতির সঙ্গে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, তা জানা যায়নি। বিপর্যয়ের কারণ ও সূত্রপাত নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেননি। গ্রিডে ত্রুটি দেখা দিলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।

দেশে এর আগেও জাতীয় গ্রিডে বড় বিপর্যয় ঘটেছে। ২০২২ সালের ৪ঠা অক্টোবর দুপুর ২টা ৫ মিনিটে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয় শুরু হয়। এতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ সহ দেশের বড় অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় তিন থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। পরে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির দুজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর আগে ২০১৪ সালের ১লা নভেম্বর জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে সারা দেশে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।