বহু দশকের ক্ষমতাধর রাজনীতি, দমনপীড়ন ও দুর্নীতির ভারে নুয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনার পলায়ন, সাংগঠনিক ভাঙন ও জনপ্রিয়তা শূন্যের কোঠায়। দলটি আজ অস্তিত্ব সংকটে। এ শূন্যতা কাজে লাগাতে মাঠে নেমেছে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি। শুরু হয়েছে ‘দল পাল্টানোর প্রতিযোগিতা’, চলছে ক্লিন ইমেজ কেনাবেচা ও পুরনো নেতাদের পুনর্বাসন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতন ঘটে। এখন তারা আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ৫০ বছরে এমন সংকটে পড়েনি আওয়ামী লীগ। এ মুহূর্তে দলের দূরদর্শী বহু নেতাকর্মী নীরবে দলত্যাগ করছেন। কেউবা অন্য দলে যোগ দেয়ার পথ খুঁজছেন। অন্যরা আছেন দম ধরে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একের পর এক কঠোর বার্তা ছুড়ে দিচ্ছে। ছাত্র-জনতা হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত বা একাধিক মামলার আসামি জামিনে বের হয়ে দলের জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। জামিনে ও মামলার প্রতিবেদন থেকে বাদ পড়া আওয়ামী লীগ নেতারা পুনরায় দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করাচ্ছেন এবং মিটিং মিছিল চালিয়ে যাচ্ছেন।
আবার কেউ হত্যা মামলার প্রতিবেদন থেকে নাম বাদ পড়ায় জুলাইকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখচ্ছে। আর যে সমস্ত আওয়ামী লীগ নেতা জামিনে মুক্ত বা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তাদের পিছনে রাজনৈতিক কোনো না কোনো বড় ভাইদের আশীর্বাদ রয়েছে বলে মনে করেন জুলাইয়ে নিহত ও আহত পরিবারগুলো। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে জামিনে আসা বা চার্জশিট থেকে যাদের নাম বাদ পড়েছে তারা বিভিন্ন অনলাইনে-অফলাইনে হুংকার দিয়ে যাচ্ছেন। মাঝে মধ্যে মিটিং মিছিল করতেও দেখা যাচ্ছে। এমতাবস্থায় জুলাইযোদ্ধাদের আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে। আন্দোলনের দিন যারা প্রকাশ্যে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা করছে আজ তাদের কিছু অংশ অদৃশ্য শক্তির কারণে মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। আবার অনেক মাস্টারমাইন্ড আড়ালেই রয়ে গেছেন। তারা না খেয়েছেন মামলা, না হয়েছেন হামলার শিকার। মূলকথা হচ্ছে লক্ষ্মীপুরে রাজনীতির মাঠে সবাই আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের হতদরিদ্র পরিবারের ছেলে খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, জুলাই আন্দোলনে গিয়ে প্রায় পনেরোটি গুলিবিদ্ধ হয়েছি। এখনো পুরো শরীরে সাতটি বুলেট রয়েছে। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। কিন্তু আমাদের শরীরের ক্ষত শুকানোর আগেই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মাঠে ময়দানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা কীভাবে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলো কাদের ইন্ধনে তাড়াতাড়ি জামিন হয়। তাহলে কী আমরা সু-বিচার পাবো না। জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জিপি এড. হারুনুর রশিদ ব্যাপারী বলেন, পতিত সরকারই বিএনপি’র অনেক কর্মীকে গুম-খুন করেছে। আজও গুম দিবসে সন্তান খোঁজে তার বাবাকে, স্ত্রী খোঁজেন স্বামীকে। আর সন্তানের জন্য কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়েছেন, মারাও গেছেন অনেক মা-বাবা। তাই এ দেশে আওয়ামী লীগের আর রাজনীতি করার সুযোগ নেই। জেলা জামায়াতের আমীর রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, কেউ যদি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করতে চায় তাহলে আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করবো। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। সবাইকে অতীত থেকে শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে এবং ২৪কে স্মরণ রাখতে হবে।
