চট্টগ্রামে বগাসহ ১৩ আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানায় পুলিশের ওপর হামলার মামলায় ওয়াকিল হোসেন ওরফে বিহারী বগাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার ১২ সহযোগীর জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করা হয়েছে। এ ছাড়া পৃথক আরেকটি মামলায় জামিন না পাওয়ায় কারাগারেই থাকতে হচ্ছে বগাকে। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এজিএম মনিরুল হাসান সরকার শুনানি শেষে এসব আদেশ দেন।
আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশের ওপর হামলার মামলায় বগাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন বিচারক। একই মামলায় হাইকোর্টের দেয়া ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বগার ১২ সহযোগী আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

কারাগারে পাঠানো ১২ আসামি হলোÑ রকি হোসেন ওরফে পিচ্চি, মনির হোসেন ইমন, মো. শাকিল, আবুল হাসান ওরফে কালা হাসান, মো. জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুর রহমান, মো. নওশাদ, সোহেল ওরফে ব্লেড সোহেল, আবুল কাশেম, মো. রবিন হোসেন, সাকিব হাসান ও দেলোয়ার হোসেন জিসান। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, বগা আগে থেকেই অন্য একটি মামলায় কারাগারে ছিলেন। আদালতের নির্দেশে তাকে পুলিশের ওপর হামলার মামলায় হাজির করা হয়। পাহাড়তলী কলেজের অধ্যক্ষের করা আরেকটি মামলায়ও মঙ্গলবার বগার জামিন আবেদনের শুনানি হয়। ওই মামলায় হাইকোর্টের দেয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন জানালেও শুনানি শেষে তা নাকচ করেন আদালত।

এর আগে, গত ১৮ই অক্টোবর খুলশী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছিলেন বগা। সেদিন আদালত তার আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশের অপরাধসংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার পিসিপিআরের তথ্য অনুযায়ী, বগার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে ২৩টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় চাঁদাবাজি, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র ও বিস্ফোরক, মাদক, জমি দখল, মারধর এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। গত ৬ই অক্টোবর নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দা শেখ মুহাম্মদ আরিফ খুলশী থানায় একটি মামলা করেন। এতে চাঁদাবাজি, হত্যার হুমকি, বসতঘরে প্রবেশ, ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় বগাসহ ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়। চলতি বছরের জুনে সরকারি জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনার পর আলোচনায় আসেন বগা। ওই ঘটনার পর ৮ই জুন তাকে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

সেপ্টেম্বরে পাহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষককে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগে করা মামলায়ও তাকে প্রধান আসামি করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযানের সময় তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে সড়ক অবরোধ, পুলিশের ওপর হামলা ও একটি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ওই সময় বাসার ভেতরের একটি সুড়ঙ্গপথ দিয়ে বগা পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। এ ছাড়া গত ২৯শে সেপ্টেম্বর রাতে খুলশী থানার ওয়্যারলেস কলোনির তালতলা এলাকায় হৃদয় নামের এক কিশোর ছুরিকাঘাতে নিহত হয়। এ ঘটনায় জড়িত কিশোরেরা একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে জানা গেছে। ওই গ্যাংয়ের সঙ্গে বগার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে।