জামালপুর সদর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী তমা খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী জনি মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি জনি মিয়া পলাতক ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত জনি মিয়া (৩৫) জামালপুর সদর উপজেলার দড়িমোহনপুর এলাকার ইয়াকুব আলীর ছেলে। মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে জামালপুর সদর উপজেলার লাহিড়ীকান্দা এলাকার উম্মে কুলছুমের মেয়ে তমা খাতুনের সঙ্গে জনি মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় কনের পরিবার বরপক্ষকে পাঁচ হাজার টাকার হাঁড়িপাতিল ও কাপড়চোপড় দেয়।
বিয়ের কয়েক মাস পর অটোরিকশা কেনার জন্য শ্বশুরবাড়ির কাছে আড়াই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন জনি মিয়া। দরিদ্র পরিবারটি দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় তমার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ১৯ মার্চ দুপুরে তমা খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা উম্মে কুলছুম বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত জনি মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন। জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ফজলুল হক বলেন, মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত জনি মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন।
