জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। কাজের বাইরেও ব্যক্তিগত কারণে মাঝেমধ্যে আলোচনায় থাকেন তিনি। তবে শাড়িকাণ্ডে যে আইনি লড়াইয়ে তিনি নেমেছেন, সেটা তার ক্যারিয়ারে এই প্রথম। এরই মধ্যে ৭৫ হাজার টাকার শাড়িকাণ্ডের জেরে করা মামলা প্রত্যাহারে হুমকি দেয়ার অভিযোগে তিশার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা হয়েছে। এ মামলায় তাকে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত সোমবার দুপুরে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মু. মাহবুব-উল-আলমের আদালতে মামলাটি করেন ফ্যাশন ডিজাইনার ও ভেলমেট-ইয়ুথ ম্যাগাজিনের সম্পাদক সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী। বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদালত আগামী ২৩শে নভেম্বর তানজিন তিশাকে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৭শে নভেম্বর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী। দণ্ডবিধির ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় করা ওই মামলার পর বিভিন্ন সময়ে তানজিন তিশা তাকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেন এবং ক্ষতি করার ভয় দেখান বলে অভিযোগ করেছেন বাদী। অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ৭ই নভেম্বর মুঠোফোনে বাদীকে হুমকি দিয়ে তানজিন তিশা বলেন, আমি যদি তোমার পেছনে লাগি, তুমি কিন্তু বাঁচবা না। এ ছাড়া ডিবি পুলিশ নিয়ে বসার কথাও তিনি বলেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই হুমকির ফোনালাপও সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে তিশার।
এদিকে এসব আইনি জটিলতার মাঝেই মঙ্গলবার রাতে একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন তিশা। তাতে তিনি মামলা করা বাদীর একাধিক ছবি পোস্ট করে লিখেন, এত বড় একটা পরিকল্পনা? একজন মানুষের এত বছরের সম্মান, ক্যারিয়ার আর অর্জন ধ্বংস করে দেয়ার এমন বিশাল ঘৃণ্য প্রচেষ্টা? কেন? কীসের জন্য? আর এর পেছনে কারা? এ দু’জন এক কেন? এই দুই বোনের মিলিত হয়ে এত ঘৃণা কেন? একজনকে তো মামলার আগে দেখিওনি। তিশা বলেন, একটি বক্তব্যের রেকর্ড থেকে নিজেদের সুবিধামতো অংশ কেটে মূল কথার অর্থ বদলে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি গল্প সাজিয়ে উপস্থাপন করা। আবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে সম্মানহানি।
অনেক প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে আছে, তথ্যপ্রমাণও আছে। প্রশ্ন রেখে তিশা বলেন, কিন্তু সেই সত্য ও প্রমাণ মানুষের সামনে তুলে ধরবে কে? একজন মানুষকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে দেয়া মিথ্যা গল্পগুলো কি শেষ পর্যন্ত প্রচার পাবে? বিচার কীভাবে পাবো, কীভাবে হবে?
