মামলার এজাহার নিয়ে সমালোচনার মুখে ওসি, আদালতে তলব

টুপটুপ রিসোর্টে ১০ পর্যটকের মৃত্যু

মামলার এজাহার নিয়ে সমালোচনার মুখে ওসি, আদালতে তলব

ফন্ট সাইজ:

কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় ওসির ভূমিকা নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠেছে। এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রুজু, ঘটনার নয়দিন পরও রিসোর্টের মালিক তানভীর সুলতান মিয়াসহ তিন আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া এবং রিসোর্টের আরেক মালিক নেওয়াজ মোরশেদের নাম প্রাথমিক এজাহার থেকে বাদ দেওয়াসহ মামলার ধীরগতি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ওসি।

এ ঘটনায় উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমানকে আদালতে তলব করা হয়েছে। মামলায় জামিন অযোগ্য ধারা সংযোজন না করে জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রেকর্ড করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আদালত। সোমবার কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ এক আদেশে ওসি আতিকুর রহমানকে ২৯ অক্টোবর আদালতে সশরীর হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন। আদেশে বলা হয়, দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ২১৮ ধারা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা এবং বিভাগীয় শাস্তির নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা ব্যাখ্যা করতে হবে।

আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহাজাহান এলাহী নূরী। তিনি বলেন, নোটিশের অনুলিপি ওসি আতিকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোয় পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ওসি আতিকুর রহমান বলেন, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি আদালতের নোটিশ হাতে পাননি। নোটিশ পেলে যথাসময়ে হাজির হয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরবেন। রিসোর্টে আগুনে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তিনিও মর্মাহত বলে জানান। তার ভাষ্য, ঘটনার দিন ব্যস্ততার মধ্যে মামলার এজাহারে দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা বাদ পড়ে যায়। পরদিন ওই ধারা যুক্ত করার আবেদন করা হয়েছিল।

আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, ১৭ অক্টোবর রিসোর্টটিতে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রথমে দণ্ডবিধির ৩০৪-ক, ৩৩৮ ও ৩৪ ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পরে ১৯ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা যুক্ত করার আবেদন করেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মামলার এজাহার রেকর্ড করার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা হিসেবে ওসি ইচ্ছাকৃতভাবে ৩০৪ ধারা যুক্ত করেননি। ১০ জনের মৃত্যুর মতো গুরুতর ঘটনায় জামিন অযোগ্য এই ধারা বাদ দিয়ে জামিনযোগ্য ৩০৪-ক ধারায় মামলা নেওয়াকে আদালত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। আসামিদের উপযুক্ত শাস্তি থেকে রক্ষা করার অসৎ উদ্দেশ্য ছিল কি না, সে বিষয়েও আদেশে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। অন্যদিকে ৩০৪-ক ধারায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

গত ১৭ অক্টোবর সকালে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। এ ঘটনায় ১০ জনের পুড়ে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার ৯ দিন পরও রিসোর্টের মালিক মো. তানভীর সুলতান মিয়াসহ তিন আসামি গ্রেপ্তার হননি। তবে রিসোর্টের সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, সোমবার বিকাল পর্যন্ত ওই আবেদনের শুনানি হয়নি। মঙ্গলবার শুনানি হতে পারে। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার জেলা কারাগারে রয়েছেন।

রিসোর্টের মালিক তানভীর সুলতান মিয়াসহ তিন আসামি ঘটনার নয় দিন পরও গ্রেপ্তার হননি। রিসোর্টের আরেক মালিক নেওয়াজ মোরশেদের নামও প্রাথমিক এজাহারে ছিল না। পরে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি আতিকুর রহমান।