সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য কৃপেশ চন্দ্র রায়কে (৪০) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে।
তবে অভিযুক্ত কৃপেশ রায়ের দাবি, ‘Kripash Ray’ নামের ফেসবুক আইডিটি তার নয়। জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা তার ও পরিবারের সদস্যদের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া আইডি খুলে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে।
কৃপেশ চন্দ্র রায় তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের রাজারগাঁও গ্রামের ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র রায়ের ছেলে। তিনি সিলেট মহানগর পুলিশে কর্মরত ছিলেন। কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় সম্প্রতি তিনি চাকরিচ্যুত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে
জানা যায়, গত রোববার সকাল ৯টার দিকে ‘Kripash Ray’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক পোস্ট প্রচার করা হয়। এতে কৃপেশ রায়ের নাম ও ছবি ব্যবহার করা হয়। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে স্থানীয় মুসল্লি ও লোকজন তার বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন এবং ঘটনার বিচার দাবি করেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমেদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বলসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। তারা উত্তেজিত মুসল্লি ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে পুলিশ কৃপেশ চন্দ্র রায়কে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
তবে কৃপেশ রায়ের দাবি, সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডিটি তার নয়। তার কাকাতো ভাইদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা তার ও তার স্ত্রী-সন্তানের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া আইডি খুলে আপত্তিকর পোস্ট দিয়ে তাকে ফাঁসিয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ২৫ অক্টোবর তিনি তাহিরপুর থানায় একটি জিডি করেছেন।
তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর কোনো সুযোগ নেই। যিনি অপরাধ করেছেন, তার বিচার প্রচলিত আইনেই হবে।’
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান রাসেল মানবজমিনকে বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সিলেট মহানগর পুলিশে কর্মরত ছিলেন। কয়েক মাস আগে ছুটিতে বাড়িতে আসার পর আর কর্মস্থলে যোগ দেননি। কৃপেশ রায় দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডিটি তার নয় এবং এ বিষয়ে থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ আইডিটির প্রকৃত পরিচয় এবং এর পেছনে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ করছে।’
তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমেদ বলেন, ‘মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে কৃপেশ রায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং এলাকার পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।’
