মালয়েশিয়ায় কার্যক্রম পুনর্বিবেচনা করছে সরকার: রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনে ব্যর্থ ইউএনএইচসিআর

মালয়েশিয়ায় কার্যক্রম পুনর্বিবেচনা করছে সরকার: রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনে ব্যর্থ ইউএনএইচসিআর

ফন্ট সাইজ:

মালয়েশিয়ায় জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) কার্যক্রম ও উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করছে দেশটির সরকার। রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর শরণার্থীদের তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে সংস্থাটির প্রত্যাশিত ভূমিকা না থাকা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে ধীরগতির কারণে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান বলেছেন, শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় ইউএনএইচসিআরের কার্যকারিতা নিয়ে সরকার নতুন করে মূল্যায়ন করছে।

মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম হারিয়ান মেট্রো-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের সরবরাহ বিলের নীতিগত পর্যায়ের বিতর্কের সমাপনী বক্তব্যে দেশটির সংসদ, দেওয়ান রাকিয়াতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তিনি জানিয়েছেন, গত দুই থেকে তিন বছরে মাত্র পাঁচ হাজারের কিছু বেশি শরণার্থীকে তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন করা সম্ভব হয়েছে। তবে তাদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা নন; বরং মিয়ানমারের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর সদস্য। তার মতে, ১৯৭৮ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ভিয়েতনামি শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় ইউএনএইচসিআর যে ভূমিকা রেখেছিল, বর্তমানে সংস্থাটির কার্যক্রমে সেই সক্ষমতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

মোহামাদ হাসান আরও বলেছেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অধিকাংশ রোহিঙ্গা শরণার্থীর কাছে ইউএনএইচসিআরের নিবন্ধন কার্ড রয়েছে। কিন্তু তাদের তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসনের জন্য অনুরোধ জানানো হলেও সংস্থাটি প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো শরণার্থীদের গ্রহণের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় কঠোর নীতি অনুসরণ করছে। কোনো কোনো দেশে অভিবাসনবিরোধী অবস্থান জোরদার হওয়ায় শরণার্থীদের পুনর্বাসনের সুযোগ আরও সংকুচিত হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে আসা মালয়েশিয়ার ওপর চাপ বাড়ছে বলে মনে করছে সরকার।