অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জাপানে

অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের উদ্যোগ

ফন্ট সাইজ:

চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে জাপানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের প্রথম দিন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে দুই দেশ। এ ছাড়া, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, জাপানি বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জাপানের অংশগ্রহণ আরও জোরদারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এবং দেশটির অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ দুই দেশের সম্পর্কের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক সুসম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা কাজে লাগানো, জাপানি ব্যবসায়ীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদন শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সার উৎপাদন খাতে জাপানের সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এ ছাড়া, বাংলাদেশ ও জাপানের সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটাকে প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফর হিসেবেও দেখছেন।

ওদিকে, আজ (মঙ্গলবার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব প্রসারের লক্ষ্যে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান। বৈঠক শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী।
গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে টোকিও’র নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে অভ্যর্থনা জানান জাপানের নাকাসোনে ইয়াসুতাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে নিয়ে যাওয়া হয় ইম্পেরিয়াল হোটেলে। জাপান সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা এই হোটেলে অবস্থান করবেন। এর আগে, সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে টোকিও রওনা হন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৭ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। সঙ্গে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও।
গত বছরের ১২ই ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর বিদেশে এটি হচ্ছে তারেক রহমানের তৃতীয় সফর। জাপান সফরের আগে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া এবং চীন সফর করেছিলেন। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গত সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্ক সফর করেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান-সানায়ে তাকাইচি: বাংলাদেশ ও জাপান দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় টোকিও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে এ বৈঠক হবে। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বলেন, মঙ্গলবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, ব্যবসা-বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হবে। উপ প্রেস সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে আজকে অভ্যর্থনা জানাবেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক হবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।

ওদিকে, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, আর্থসামাজিক অগ্রগতি এবং উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জাপানের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাইকার প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সমৃদ্ধি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সাক্ষাতে দু’দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন উভয় পক্ষ। গতকাল জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন মৈত্রী লীগের সভাপতি ও জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর।

সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের নেতৃত্বে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে অব্যাহত অবদানের জন্য তারো আসোকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী ২০০৬ সালে জাপান সফরকালে বিএনপি’র তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন। তারো আসো বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথাও স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকাকালে তারো আসো বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এ ছাড়া, সাক্ষাতে দু’দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন উভয় পক্ষ।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর জোরদারে তারো আসোর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাইকার প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো। সাক্ষাতে এ সময় জাপানের সহায়তায় চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সোমবার জাপানের স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে টোকিও ইম্পেরিয়াল হোটেলে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হারা শোহেই এবং সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে তার বাংলাদেশ সফরের সময় ঢাকায় অনুষ্ঠিত ফলপ্রসূ বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। তিনি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা এবং জাইকার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, আর্থসামাজিক অগ্রগতি এবং উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জাপানের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
এ সময় জাপানের সহায়তায় চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। পাশাপাশি, অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সাক্ষাতে বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রাধিকার বিবেচনায় জাপানের কাছ থেকে সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মাসুমি কাকিনোকির সাক্ষাৎ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির সভাপতি ও মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি। সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। একইসঙ্গে মাসুমি কাকিনোকি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ঊপড়হড়সরপ চধৎঃহবৎংযরঢ় অমৎববসবহঃ-ঊচঅ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এসব সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন— অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
উল্লেখ্য, গত ১১ই অক্টোবর ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসায়ুকি ওমোতোর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মারুবেনি করপোরেশনের সঙ্গে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, সার ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।
দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি নগরী ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতে জাপানি বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ: দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী নগরী প্রতিষ্ঠা, কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং হালকা প্রকৌশল খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব চেয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সক্ষমতা বাড়াতে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের প্রথম দিনে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক শেষে টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দক্ষতা উন্নয়নে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা, প্রযুক্তি নগরী ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনী নগরী প্রতিষ্ঠা এবং কৃষির আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগের জন্য জাপানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। নতুন সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে হালকা প্রকৌশল শিল্পেও বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা জোরদার করতেও জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জাইকার প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে সংস্থাটির দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বিনিয়োগ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

সাসাকাওয়ার সম্মানে নৈশভোজ: প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচির শেষ পর্বে জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার আয়োজনে নৈশভোজে অংশ নেন তারেক রহমান।
নৈশভোজে সাসাকাওয়ার দুই ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরাও এতে অংশ নেন।