টঙ্গীতে যৌন নিপীড়নের শিকার শিশুর বাড়িতে আপস করতে মিষ্টি নিয়ে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ (৩০)। ১৯শে অক্টোবর ওই মাদ্রাসায় সাত বছরের এক মেয়েশিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। ঘটনার পরদিন দুপুরে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিল মিষ্টির প্যাকেট। শিশুটির পরিবার যে ভবনে থাকে সেখানকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ২০শে অক্টোবর দুপুরে লাল রঙের ব্যাগ হাতে ভবনে প্রবেশ করেন মাদ্রাসার শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ। নিচতলায় নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি লিফটের দিকে যান। সেখানে তাকে লিফটে উঠতে দেখা যায়। পরে তিনি আবার নিচে নেমে বেরিয়ে যান। পুরো সময় তার হাতে ছিল সেই ব্যাগ।
জানা গেছে, দেখা করতে না পেরে শিশুটির মায়ের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ২০শে অক্টোবর দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে একটি বার্তা পাঠান অভিযুক্ত শিক্ষক। সেখানে লেখা ছিল, ‘আপু, আপনার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে আসছি (এসেছি)।’ ওই সময় বাসায় ছিলেন না শিশুটির বাবা। শেষ পর্যন্ত শিশুটির পরিবারের সঙ্গে আর দেখা হয়নি অভিযুক্ত শিক্ষকের।
উল্লেখ্য, ১৯শে অক্টোবর টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদের বিরুদ্ধে। এদিকে যৌন নিপীড়নের ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ২১শে অক্টোবর অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন শিশুটির বাবা ও স্থানীয় লোকজন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। নিপীড়নের ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেয়া হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেমকে ২১শে অক্টোবর গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। রোববার তার জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেন। এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, দু’পক্ষই থানায় মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন তাদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু হুমকির বিষয়ে এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি।
