সাজেকে অবরোধ অবসানের ইঙ্গিত, ৫ দাবির ৪টিতে সমঝোতা

সাজেকে অবরোধ অবসানের ইঙ্গিত, ৫ দাবির ৪টিতে সমঝোতা

ফন্ট সাইজ:

টানা ৬দিন ধরে চলা সাজেক সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার এবং এলাকার সার্বিক অচলাবস্থা নিরসনে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। সড়ক অবরোধকারীদের উত্থাপিত ৫টি প্রধান দাবির মধ্যে ৪টি দাবির বিষয়ে ইতিবাচক সমঝোতা হয়েছে। অবশিষ্ট একটি দাবিও আগামী ২-১ দিনের মধ্যে সমাধানের সরকারি আশ্বাস দেয়া হয়েছে। ফলে শিগগিরই প্রকৃতির কন্যা খ্যাত সাজেকে চলা এই দীর্ঘ সড়ক অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার হতে যাচ্ছে বলে আশা করা হচ্ছে।

সোমবার বিকালে সাজেকের উজোবাজারে অবরোধকারী দু’টি প্রধান সংগঠনের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এক রুদ্ধদ্বার সংলাপে মিলিত হন। বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কথা নিশ্চিত করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সংসদীয় কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া এমপি জানান, অবরোধকারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। তাদের উত্থাপিত ৫টি দাবির ৪টিতে ইতিমধ্যেই সমঝোতা হয়েছে। বাকি একটি প্রশাসনিক দাবি নিয়ে কাজ চলছে, যা আগামী এক-দুইদিনের মধ্যেই সুরাহা হয়ে যাবে। আমরা আশাবাদী, সহসাই সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং অবরোধ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেয়া হবে।

উজোবাজারের এই গুরুত্বপূর্ণ সংলাপে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি, খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান এবং রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব সরাসরি অংশ নেন।

উল্লেখ্য, ৬দিন আগে নিরাপত্তা ও বিভিন্ন স্থানীয় উন্নয়নমূলক ৫ দফা দাবিতে সাজেকের দু’টি আঞ্চলিক সংগঠন এই অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ডাক দেয়। অবরোধের ফলে সাজেকের সঙ্গে মূল ভূখণ্ড এবং জেলা শহরের প্রধান সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আকস্মিক এই কর্মসূচির কারণে সাজেকে বেড়াতে আসা হাজার হাজার পর্যটক আটকে পড়েন এবং স্থানীয় অধিবাসীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন। স্থবির হয়ে পড়ে পুরো পাহাড়ি এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাত। তবে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটির যৌথ ও সরাসরি হস্তক্ষেপে দীর্ঘ ৬ দিনের অনিশ্চয়তা শেষে সাজেক উপত্যকায় অবশেষে স্বস্তির আবহ ফিরে এসেছে। দ্রুতই সাজেকের পাহাড় ও উপত্যকায় আবারো পর্যটকদের কোলাহল ফিরবে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।