‘কাকে ভোট দিলাম’ বলে লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ করা নারী কারাগারে

‘কাকে ভোট দিলাম’ বলে লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ করা নারী কারাগারে

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহের ভালুকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক) লাইভে ‘কাকে ভোট দিলাম’ বলা নারীকে অপরাধ প্রতিরোধমূলক ক্ষমতা আইনে (১৫১ ধারা) গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। পরে আদালত ওই নারীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। কারাগারে পাঠানো নারীর নাম সাথী আক্তার (৩০)। তিনি ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে অবস্থিত ‘সাথী বিউটি পার্লার’-এর মালিক এবং স্থানীয় আমজাদ আলীর মেয়ে।

সোমবার বিকালে সাথী আক্তারকে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজেদুল ইসলাম তাকে আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত পরিদর্শক মোহা. মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির অপরাধ প্রতিরোধমূলক ক্ষমতা আইনে (১৫১ ধারা) আদালতে পাঠায় ভালুকা থানার পুলিশ। পরে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা করছেন বলে পুলিশের সন্দেহ হলে সেই অপরাধ প্রতিরোধের জন্য পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে। এক্ষেত্রে পুলিশই বাদী হয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়।

ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ওই নারীর ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও পর্যালোচনা করেছি। সেখানে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য বা সরকারের সমালোচনামূলক কিছু পাওয়া যায়নি। পুরো ভিডিও না দেখে গুজব থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। ওসি বলেন, ভিডিওটি প্রচারের পর মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী কথা বলতে গেলে তাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন ওই নারী। এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ কারণে ওই নারীকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে এলে ব্যবসা পরিচালনায় কোনো সমস্যা হবে না বলে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা তাকে আশ্বস্ত করেছেন। কেন জামিন হয়নি জানতে চাইলে ওসি বলেন, অপরাধ প্রতিরোধমূলক ক্ষমতা আইনে (১৫১ ধারা) ওই নারীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই আইনে আদালত চাইলে জামিন দিতেও পারে- আবার নাও দিতে পারে। তবে, কেউ যদি অভিযোগ করে, ওই নারী সরকার বিরোধী কার্যকলাপ করেছে, তখন তার জামিন নাও দেয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে আবার ভিডিও বিশ্লেষণ করে মামলা নিতে হবে। তবে, কেউ যদি মামলা না করে, সেক্ষেত্রে ওই নারীর জামিন হয়ে যাবে।

রোববার বেলা ২টার দিকে ‘সাথী মেকওভার’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে দু’টি লাইভ করেন সাথী আক্তার। ৫ মিনিট ২২ সেকেন্ড ও ৮ মিনিট ৮ সেকেন্ডের ২টি ভিডিওতে সাথী আক্তারকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়ে আজকে আমি ভুক্তভোগী।’ ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ সাথী আক্তারকে হেফাজতে নেয়।