কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ধর্ষণের শিকার এক তরুণী সন্তান জন্ম দেয়ার পর ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। ধর্ষণে অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠেছে। গত শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণ এবং নবজাতক বিক্রির পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় প্রভাবশালী ও সালিশদারদের মাধ্যমে তিন লাখ টাকা দেয়ার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীর পরিবারের। অভিযুক্ত যুবক জাহিদুল ইসলাম ওরফে আবির চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকোট গ্রামের আমির হোসেন প্রকাশ লাকির ছেলে।
ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগ, তার বৃদ্ধ ও অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য তাকে দীর্ঘ সময় ঢাকার হাসপাতালে অবস্থান করতে হয়েছিল। এ সময় বাড়িতে থাকা তার মেয়েকে জাহিদুল ইসলাম ওরফে আবির জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। ভয়ে মেয়েটি প্রথমদিকে কাউকে বিষয়টি জানায়নি। পরে শারীরিক পরিবর্তন ঘটলে মায়ের কাছে বিস্তারিত জানান। বিষয়টি অভিযুক্তের পরিবারকে জানান ভুক্তভোগীর মা। প্রথমদিকে অভিযুক্তের পরিবার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং উল্টো ভুক্তভোগীকে নিয়ে নানা অপবাদ দেয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে অভিযুক্ত যুবক ঘটনাটি স্বীকার করলে তার পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেয়া হয়। তবে, অভিযুক্তের পরিবার তা নাকচ করে দেয়। পরে বিষয়টি আইনগতভাবে নিষ্পত্তির পরিবর্তে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তের বাবা প্রবাসে থাকায় তার চাচা নজরুল ইসলাম মনির শুরু থেকেই বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। এজন্য একই গ্রামের প্রভাবশালী হাজী মোস্তফার মাধ্যমে ভুক্তভোগীর মা’কে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেয়া হয়। পাশাপাশি ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
ভুক্তভোগীর বাবা প্রায় ১২ বছর আগে মারা যান। এরপর থেকে মা ও চার ভাইবোন নিয়ে পরিবারটি নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছে। তারা জানান, অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর প্রসবব্যথা উঠলে গত শুক্রবার (২৩শে অক্টোবর) রাতে তাকে চৌদ্দগ্রামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। তবে সন্তান জন্মের পরপরই নবজাতককে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যত্র বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। নবজাতকের প্রসবসংক্রান্ত যাবতীয় ব্যয় অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে বহন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর বোন বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর মা আমাদের চার ভাইবোনকে নিয়ে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছেন। আমার মা নানুর চিকিৎসার জন্য ঢাকায় থাকার সময় আমার বোনের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আমার বোনকে নানা অপবাদ দেয়া হয়। পরে আমাদের ওপর চাপ ও হুমকি দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শুক্রবার রাতে আমার বোন একটি ছেলে সন্তান জন্ম দিয়েছে। কিন্তু ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে অন্যত্র বিক্রি করে দেয় অভিযুক্তরা। শুধু তাই নয়, বোনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার হিসেবে তিন লাখ টাকা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। সেই টাকাও দেয়া হয়নি।
এ বিষয়ে সালিশদার হাজী মোস্তফা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি অভিযুক্তের চাচা মনিরের দোকানে বসা ছিলাম। অন্যরা বাড়ির ভেতরে গিয়ে সমঝোতা করেছে বলে জেনেছি। তবে টাকার বিনিময়ে সমঝোতা হলেও কত লাখ টাকায় তা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। নবজাতক বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, আমি কিছু জানি না। চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ হোছাইন বলেন, এ ঘটনায় নবজাতক সন্তানসহ একজন আটক আছেন। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
